চলতি বছরের আসন্ন আলিম পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড।
সোমবার (২২ জুন) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়, পরীক্ষা শুরু হওয়ার ন্যূনতম ৭ দিন আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বা তার প্রতিনিধি এবং ট্রেজারির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সর্টিং করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ‘মেঘনা’ ও ‘যমুনা’ সেটের প্রশ্ন একই ট্রাংকে রাখা যাবে না।
এতে বলা হয়, প্রতিদিন পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক ৩০ মিনিট পূর্বে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছ থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে জানতে পারবেন ওই দিন কোন সেটে পরীক্ষা হবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে অন্য কোনো সেটে পরীক্ষা নিলে তার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরাসরি দায়ী থাকবেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষা কেন্দ্রে একমাত্র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও শুধু নন-অ্যান্ড্রয়েড বা সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করার অনুমতি পাবেন। কেন্দ্রের কোনো কক্ষপ্রত্যবেক্ষক (ইনভিজিলেটর) বা পরীক্ষার্থীর নিকট স্মার্টফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং নিয়মানুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় গেইটেই পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে কক্ষে প্রবেশ করাতে হবে। ছাত্রীদের তল্লাশির জন্য অবশ্যই মহিলা শিক্ষক নিয়োজিত থাকবেন।
প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড ব্যতীত কোনো বই, খাতা, মোবাইল বা কোনো কাগজপত্র কক্ষে আনা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া, কক্ষে কোনো পরীক্ষার্থী যাতে একে অপরের উত্তরপত্র দেখতে না পারে সেজন্য ‘জেড’ প্যাটার্ন অনুযায়ী আসন বিন্যাস করা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীরা যাতে একই সেটের প্রশ্ন না পায়, সেজন্য বহুনির্বাচনী অভীক্ষার ৪টি সেট (ক, খ, গ, ঘ) সমানুপাতিক হারে বণ্টন করতে হবে।
বোর্ডের নির্দেশনায় জানানো হয়, সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষা বিরতিহীনভাবে চলবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পূর্বে কোনো অবস্থাতেই ওএমআর-এর উপরের অংশ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র এবং লিখিত উত্তরপত্রের টপ পোর্শন ওএমআর সম্পূর্ণ আলাদাভাবে সাজিয়ে পৃথক হলুদ কাপড়ের প্যাকেটে সীলযুক্ত করে বোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট বরাবর পাঠাতে হবে।
ভুলত্রুটি এড়াতে আরবি বিষয়ের পরীক্ষার দিন সাধারণ বিষয়ের শিক্ষক এবং সাধারণ বিষয়ের দিন আরবি বিষয়ের শিক্ষকদের কক্ষপ্রত্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দিতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম বা সেরিব্রালপলসি আক্রান্ত) এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিতে পারবে এবং বোর্ডের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। এছাড়া অটিস্টিক পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবে এবং তাদের উত্তরপত্রগুলো বেগুনি রঙের কাপড়ে আলাদা প্যাকেট করে বোর্ডে পাঠাতে হবে।
প্রতিদিনের পরীক্ষা শেষে বেলা সাড়ে ১২টার মধ্যে মোট পরীক্ষার্থী, উপস্থিত, অনুপস্থিত ও বহিষ্কৃতদের সংখ্যা অনলাইনে বোর্ডে প্রেরণের জন্য কেন্দ্র প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাঈম/