গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আখেরি মোনাজাতের সময় ইজতেমার চারপাশে মুসল্লিদের মধ্যে দেখা দেয় ড্রোন আতঙ্ক।
রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৩৩ মিনিটে বিশ্ব ইজতেমায় আখেরি মোনাজাতের সময় উড়তে থাকা একটি ড্রোন টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় বেলুনের সঙ্গে লেগে যায়। এতে আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছুটোছুটি শুরু করেন মোনাজাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা। এতে পদদলিত হয়ে ৬৪ জন মুসল্লি আহত হয়েছেন।
মাওলানা জুবায়ের আহমেদের পরিচালনায় সকাল ৯টা ১০ মিনিটে শুরু হয় আখেরি মোনাজাত। শেষ হয় ৯টা ৩৫ মিনিটে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপ।
আখেরি মোনাজাতে অংশ নেওয়া মুসল্লীরা জানান, টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার মোনাজাতের সময় ড্রোন উড়ে বেলুনের সঙ্গে লেগে বিকট শব্দ হওয়ায় দৌড়াদৌড়ি করে অনেক মুসল্লি আহত হয়েছেন। আহতদের টঙ্গী সরকারি হাসপাতালসহ স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আখেরি মোনাজাতের শেষের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ হওয়ায় মোনাজাত অংশ নেওয়া মুসল্লীরা হুড়াহুড়ি করে প্রায় ৬৪জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত চলার সময় সকাল ৯ টা ২৫ মিনিটের দিকে ইজতেমা ময়দানের ২নং গেটের সামনে ব্যাটারির চার্জ হয়ে বিকট শব্দে ড্রোন ভূপাতিত হয়। এতে মুসল্লিরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকেন। এঘটনায় অর্ধশতাধিক মুসল্লি আহত হয়।
জানা গেছে, তাবলীগ জামাতের মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করছিলেন। মোনাজাতের শেষের দিকে কয়েক মিনিট আগে ইজতেমা ময়দানের ২নং গেটের একটু সামনে মোনাজাতের চিত্র ধারণ করার কাজে ব্যবহার করা একটি ড্রোন আছড়ে পড়ে। এ সময় বিকট শব্দের সৃষ্টি হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে ওই স্থানে থাকা মুসল্লিরা ছোটাছুটি করতে থাকেন।
আহতরা হলেন- আবুল কালাম (৫০), মো. আলামিন (৩০), মো. আজাদ (৩০), ওবায়দুল্লা (৩২), রাতুল (১৮), আবদুল করিম (২৮), সাইদুল ইসলাম (৩৮), জাফর ইকবাল (৩১), জয়নাল (২৪), সিজিল (৬৫), মুকুল হোসেন (৬৪), সুহাগ বানু (৬০), মোশাররফ হোসেন (৩৫), কুরবান আলী (২৫), সাইদুল ইসলাম (৩৫), সালামত (১৮), মোস্তাকিন (১০), কবির হোসেন (৩০), মবিন (১৮), আয়নাল হক (২২), মামুন হোসেন (২১), রাফেজ (১৩), খোকন (৪৩), জয়নাল আবেদিন (২৫), কবির হোসেন (৪৬), নাজিম উদ্দীন (৪০), জয়রুল (৩১), জয়নাল (৫৪), কাওছারুল আলম (২৮), রায়হান (২৭), জহুরুল (২৮), আলী নেওয়াজ (৩৮), মো. আফতাব উদ্দিন (৪৫), মো. আমান (২৮), আনোয়ার হোসেন (৪৫), মো. সোহেল (৩৫) ফজল হক (৫৪), মোজাফফর আলী (৪৪), মো. আলাউদ্দিন (২৪), আমির হোসেন (৩০), মো. মোবারক (৩৬), আহমেদ আলী (৬০), কেরামত আলী (৫০), মো. আকরাম (১৯), মো. মোকলেছুর রহমান (২২), রমিজ মিয়া (২৬), আক্তার হোসেন (৩০), মো. তাওহীদ কবির (২৬), রাসেল কবির (৪৫), রুস্তম আলী (৫০), রমজান মিয়া (৪০) করিম খান (৩৯), মোতাবেক হোসেন (২৭), আকবর হোসেন (৪৬), বাদশা মিয়া (৪০), সোলাইমান আকবর (৫৬), মিরাজ মিয়া (১৯), মিলন মিয়া (২৩), আবুল হাসান (৪৮), শামিম রেজা (৩০), মনির মিয়া (৫০), ওয়াসিম মিয়া (২৫), আমিন উদ্দিন (৩৮) ও আল আমিন (১৬)।
মোনাজাতে অংশ নিতে আসা আহত মুসল্লি আনোয়ার হোসেন বলেন, ৪নং গেট এলাকায় মোনাজাত অংশ নিচ্ছিলাম। মোনাজাতের শেষের অংশে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। মোনাজাত ছেড়ে হুড়াহুড়ি শুরু হয়ে যায়। ২০ জন একসঙ্গে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি।
টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শতাধিক মুসল্লি আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারা ইজতেমায় মোনাজাতের সময় আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন বলে জানান তারা।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, একটি ড্রোন আকাশে উড়ছিল। সম্ভবত ড্রোনটির চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেটি ২নং গেটের একটু সামনে আঁছড়ে পড়ে। তবে মুসল্লিরা অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিষয়টি তদন্ত চলছে।
পলাশ প্রধান/অমিয়/