সারা দেশে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে প্রায় ২০ কোটি টাকা জরিমানা ও ৪৬২টি ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত ২ জানুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ৫৯৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এই জরিমানা ও ইটভাটা বন্ধ করা হয়।
সোমবার (১০ মার্চ) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অভিযানে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন, বায়ুদূষণকারী অবৈধ ইটভাটা, স্টিল মিল, শব্দ দূষণ, ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য নির্গমন, সিসা/ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানা, জলাশয় ভরাট, টায়ার পাইরোলাইসিস, চারকোল কারখানা ও খোলা অবস্থায় নির্মাণসামগ্রী রাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এই অভিযানে এক হাজার ৩৬৩টি মামলা হয়। জরিমানা হিসেবে ১৯ কোটি ৭৯ লাখ ৪৭ হাজার ৩০০ টাকা আদায় করা হয়।
এছাড়া, ৩০৫টি ইটভাটার চিমনি ভেঙে কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। ১৫৭টি ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। ৬০টি ভাটার কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়। ৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৬ ট্রাক সিসা/ব্যাটারি গলানোর যন্ত্রপাতি জব্দ করে কারখানা বন্ধ করা হয়।
গতকাল ৯ মার্চ বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২২ অনুসারে ঢাকার হাতিরঝিল, মগবাজার, আদাবর, আফতাবনগর, বাড্ডা ও ধানমন্ডি এলাকায় চারটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এতে ১১টি মামলায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে সতর্ক করা এবং নির্মাণসামগ্রী সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
একইদিনে নারায়ণগঞ্জে কঠিন বর্জ্য বিধিমালা ২০২১ অনুসারে রেডিমিক্স কারখানার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এতে তিনটি মামলায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, নীলফামারী, ঝিনাইদহ, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, মেহেরপুর, মৌলভীবাজার, পিরোজপুর, গাইবান্ধা, শরীয়তপুর, বরগুনা, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া ও শেরপুর জেলায় ২০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
এই অভিযানে ১৯টি মামলায় ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা, ২২টি ইটভাটার কিলন ভেঙে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ও কাঁচা ইট ধ্বংস করে কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হয়। তিনটি ইটভাটা বন্ধের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
অমিয়/