বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস থেকে গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতার বিষয়টি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) কাছে প্রতিবাদলিপি জমা দিয়েছে বাংলাদেশ গণিত সমিতি।
রবিবার (২৩ মার্চ) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) চেয়ারম্যান বরাবর এই প্রতিবাদলিপি জমা দেওয়া
হয়।
প্রতিবাদলিপিতে কমিশনের চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, ‘আপনি জানেন যে, সম্প্রতি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস পরিবর্তন করে ছয়টি আবশ্যিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে পরীক্ষার নম্বর পুনর্বণ্টনপূর্বক গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা বিষয় সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। কমিশন ছয়টি আবশ্যিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে নম্বর পুনর্বণ্টনের যে সুপারিশ করেছে, তাতে গণিতের মত গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় বিষয় নেই। এটি বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক সমাজ গঠনের পরিপন্থি।’
এতে আরও বলা হয়, ‘প্রযুক্তিগত ও প্রকৌশল সংক্রান্ত, অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিষয়ে গণিতের প্রয়োজন হয়। এসব বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞানের সব বিষয়ের প্রতিনিধিত্বকারী গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা বিষয়সমূহকে বিসিএসের সিলেবাসভুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে বিপিএসসির মাধ্যমে গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা বাদ দেওয়া মানে সব শিক্ষার্থীদের বিসিএস পরীক্ষায় গণিতের গুরুত্বকে অস্বীকার করা এবং পরবর্তী প্রজন্মকে গণিতবিমুখ করা। লক্ষ্য করলে দেখতে পাব বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ইত্যাদিকে প্রাধান্য দিয়ে যে সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে তা সাহিত্যভিত্তিক। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে না চললে গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা বিষয়টি বিসিএস থেকে বাদ দেওয়া হলে আমরা আরও ১০০ বছর পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। গবেষকেরা বলে থাকেন, যারা গণিতে ভালো, তাদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অন্যদের তুলনায় বেশি থাকে।’
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘গণিত চর্চা করেন বা গণিতের জ্ঞান যাদের মজবুত, প্রতিনিয়ত তাদের মেধার বিকাশ ঘটে ও বিশ্লেষণ করার দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সেইসঙ্গে অভিজ্ঞতা যুক্ত হলে প্রার্থী আরও চৌকস হয়। বিসিএস পরীক্ষার্থীদের গণিতের জ্ঞান থাকা আবশ্যক এবং এ বিষয়ে তার দক্ষতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। গণিত বিষয়কে শুধু নম্বর বেশি পাওয়ার বা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত না করে এটিকে মেধাভিত্তিক বিশ্লেষণ করার দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করার জন্য দৃঢ় আহ্বান জানাচ্ছি।’
সুমন/