ঈদুল ফিতর একেবারে সন্নিকটে। তাই সবার গ্রামে ফেরার তাড়াও অনেক বেশি। আর সেই চিত্রও দেখা গেছে রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) শেষ কর্মদিবস হওয়ায় অনেকেই আগে আগে অফিস থেকে বেরিয়ে রাজধানী থেকে ছুটতে থাকেন আপন নীড়ের উদ্দেশে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঈদ উৎসবের জন্য গ্রামমুখী মানুষের ভিড় বাড়ে ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এবং গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে। বিকেল থেকে যাত্রীর চাপ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এ ছাড়া বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনালেও ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে। কাউন্টারগুলোতে টিকিটের জন্য বৃহস্পতিবারও হাহাকার অবস্থা দেখা দেয়। এর মাঝেও বাড়তি টাকা দিয়ে বা বিভিন্ন কায়দা-কৌশলে কেউ কেউ উপস্থিত টিকিট পেয়ে খুশিতে রওনা হন বাড়ির দিকে। কমলাপুর স্টেশনেও বৃহস্পতিবার যাত্রীদের বেশ উপস্থিতি ছিল। এদিন ট্রেনের তেমন কোনো শিডিউল জটিলতাও ছিল না। অনেকটা নির্বিঘ্নেই ঢাকা ছেড়েছেন যাত্রীরা।
এদিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রামমুখী মানুষগুলোর নিরাপত্তা, সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা, ছিনতাই-ডাকাতি প্রতিরোধসহ সার্বিক বিষয়ে বৃহস্পতিবারও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাবসহ সাদাপোশাকের গোয়েন্দারা ব্যাপক তৎপর ছিলেন। মহাসড়কে বিশেষ টহল ও শৃঙ্খলা দেখভাল করেছে হাইওয়ে পুলিশ।
গাবতলীতে টিকিটে ভোগান্তি, নির্বিঘ্নেই টার্মিনাল ছাড়ে গাড়ি
চলতি সপ্তাহের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে গত সপ্তাহেই। অনলাইনে টিকিট বেশি বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবহনগুলোর কাউন্টার-সংশ্লিষ্টরা। তবে এর বাইরে যারা সরাসরি বৃহস্পতিবার কাউন্টারে হাজির হয়ে টিকিটের খোঁজখবর করছিলেন, তারা পড়েন বিপাকে। অধিকাংশ কাউন্টারেই কোনো টিকিট ছিল না। গাবতলী-কল্যাণপুর ও টেকনিক্যাল মোড় এলাকায় বৃহস্পতিবার উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের কিছু জেলার যাত্রীদের বেশ চাপ লক্ষ করা গেছে। বিকেল থেকে সেই যাত্রীচাপ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। কাউন্টারে ভালো মানের বাসের টিকিট না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে লোকাল শ্রেণির পরিবহন বেছে নেন। এতে করে গুনতে হয় স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া।
শ্যামলী এনআর পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার কিশোর কুমার বলেন, ‘এখনো স্পেশাল সার্ভিস চালু হয়নি। সেটি চালু হলে স্ট্যান্ড (উপস্থিত) টিকিট দেওয়া যেতে পারে। এখন যারা ঢাকা ছাড়ছেন তারা আগেই অনলাইনে টিকিট কেটে রেখেছেন। শিল্প-কারখানা ও গার্মেন্টস ছুটি হওয়ার পর ‘স্ট্যান্ড বাই’ টিকিটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে প্রতি ঈদের মতো এবারও স্ট্যান্ড বাই টিকিট পাওয়া যাবে।’
কল্যাণপুর ও গাবতলীর কয়েকজন বাসচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সরকারি সব অফিস ছুটি হওয়ায় যাত্রীর পাশাপাশি রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এতে করে যানজট তৈরি হচ্ছে প্রধান সড়কগুলোতে।
গাবতলী বাস টার্মিনালের সামনে বৃহস্পতিবার বিকেলে গাড়ির জন্য অপেক্ষমাণ গাইবান্ধার তিন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। এ সময় তারা জানান, তিনজনই নারায়ণগঞ্জে চাকরি করেন। অফিস শেষ করেই দ্রুত তারা গাবতলী আসেন গ্রামে যাওয়ার জন্য। কিন্তু অনেক সময় খোঁজাখুঁজি করেও ভালো মানের কোনো বাসের টিকিট পাননি। তাই এখন লোকাল বাসে বা ট্রাকে করে হলেও রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তারা।
কল্যাণপুর থেকে বিকেল ৫টার দিকে হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাসে ওঠেন রাজশাহীর বাগমারার আনোয়ার হোসেন জুয়েল। তিনি খবরের কাগজকে জানান, চাকরির সুবাদে তিনি চাঁদপুরে থাকেন। চাঁদপুর থেকে বিকেলে ঢাকার কল্যাণপুরে এসে ৮০০ টাকায় হানিফ পরিবহনের বাসের টিকিট নেন। প্রথমে কোনো সিট পাওয়া না গেলেও পরে অনেক চেষ্টায় একটি সিট পাওয়া যায়। নানা ভোগান্তি ও দুর্ভোগ সত্ত্বেও শেষমেশ বাড়ি যেতে পারায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন জুয়েল।
কমলাপুরে চাপ ছিল না চতুর্থ দিনেও
বৃহস্পতিবার ছিল ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন। রাজধানীর কমলাপুরে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে এদিন ৪৩টি আন্তনগর, মেইল ও কমিউটার ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেছে বলে জানান স্টেশন ম্যানেজার মো. শাহাদাত হোসেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী মোহাম্মদ মিজান বলেন, ‘এ বছর রেলওয়ের ব্যবস্থাপনা বেশ ভালো। কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও হুড়োহুড়ি নেই। আমরা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ট্রেনে উঠতে পেরেছি।’
দেলোয়ার হোসেন তার দুই মেয়ে হুমায়রা ও সুমাইয়াকে নিয়ে যাচ্ছেন গাইবান্ধার বামনডাঙ্গায়। তিনি বলেন, ‘কমলাপুরে সবকিছু ভালো। কিন্তু ট্রেনগুলো যখন প্ল্যাটফর্মে দেওয়া হয়, বিকট গন্ধে বগিতে ওঠা দায় হয়ে যায়।’ তার কথার প্রমাণ মেলে একতা এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সামনে গিয়ে। যাত্রীরা মুখে রুমাল চেপে উঠছিলেন ট্রেনে। মলমূত্রের বিকট গন্ধ নাকে আসে কর্ণফুলী কমিউটার ও তিতাস কমিউটার প্ল্যাটফর্মে আসার সময়।
এ বিষয়ে স্টেশন ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘কোনো একটি ট্রেন ঢাকা স্টেশনে যখন পৌঁছায়, তখন ওয়াশ করা হয় প্রতিটি বগি। তার পরই প্ল্যাটফর্মে দেওয়া হয় ট্রেন। এখন ঈদযাত্রার সময় কিছু ট্রেনে হয়তো কর্মীরা ঠিকমতো কাজ করছেন না। এ বিষয়ে আমরা খবর নেব।’
এদিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। টিকিট কাউন্টার, প্ল্যাটফর্মসহ সব জায়গায় র্যাব, পুলিশ, আনসার সদস্যের পাশাপাশি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) উপস্থিতি চোখে পড়েছে। কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতে টিকিট কাউন্টারের সামনেও বাঁশের লাইন বানানো হয়েছে। এর ফলে কেউ কাউকে ডিঙিয়ে টিকিট নিতে পারেননি।
সায়েদাবাদে লোকাল বাসেও বাড়তি ভাড়া
রাজধানীর সায়েদাবাদে বৃহস্পতিবার ঈদের জন্য গ্রামের উদ্দেশে বের হওয়া মানুষের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সায়েদাবাদে কথা হয় মুগদা-মান্ডা এলাকার গার্মেন্টকর্মী তসলিমা খাতুনের সঙ্গে। পরিবারের আরও কয়েকজনসহ তিনি যাচ্ছিলেন হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকায়। সিলেট রুটের মিতালী পরিবহনের বাসে উঠতে গেলে বাসের সহকারী হাঁক দেন- ‘আপা যাইতে গেলে ভাড়া এক রেট ৪০০ টাকা।’ তসলিমা খাতুন জনপ্রতি ২৫০ টাকা করে দেবেন বলে জানালে বাসের সহকারীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তিনি অনেক দফারফা করে হবিগঞ্জ রুটের বিসমিল্লাহ পরিবহনের একটি বাসে ২৮০ টাকা ভাড়ায় যাত্রা করেন। তসলিমা বলেন, ‘মাধবপুরের ভাড়া ২৫০ টাকাই। ঈদ আইছে তো, এই জন্য তাদের চাহিদা বাড়ছে। এটা রীতিমতো জুলুম।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে আরও অনেক কর্মজীবী মানুষ কিছুটা কম ভাড়ায় বাড়ি যাবেন বলে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে আসেন। তাদের প্রত্যেকেই এদিন বাড়তি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে গেছেন। চট্টগ্রাম রুটের এসডি পরিবহনের যাত্রী তাহমিদ বলেন, ‘আমি ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে যাচ্ছি। অন্য সময় মীরসরাই যেতে ৩০০ টাকা দিলেই ওরা খুশি হতো।’ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেটের অস্থায়ী তাঁবুতে গেলে ওই সময়ে ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি।
মহাখালী টার্মিনালকেন্দ্রিক গাড়ির জটলা-যাত্রীদের চাপ
রাজধানীর মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল এখন ব্যস্ততম বা জটলাপুর্ণ একটি এলাকা। বৃহস্পতিবার এই টার্মিনালে যাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে মহাখালী থেকে যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে যায়। এ জন্য টার্মিনালকেন্দ্রিক যানবাহন ও যাত্রীদের ভিড় ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। গত দুই দিন এই টার্মিনালে যাত্রীর তেমন ভিড় না থাকলেও বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রী আসতে শুরু করেছেন। টার্মিনাল থেকে একের পর এক বাস বের হচ্ছিল, আর যাত্রীতে ভর্তি হলে ছেড়ে দেওয়া হয় বাস। এ সময় বাসমালিক, কাউন্টারম্যান, যাত্রীসহ নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অনেক ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। মহাখালীর বাস টার্মিনালের সামনে প্রধান সড়কের উভয় পাশেই রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে দূরপাল্লার বাসগুলো।
র্যাবের টহল-গোয়েন্দা নজরদারি
বৃহস্পতিবার গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে র্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রথম স্তরে বাসস্ট্যান্ড বা যেসব জনবহুল শপিং সেন্টার আছে, সেসব স্থান এবং এর আশপাশে আমাদের ২৪টি প্যাট্রোল টিম টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দ্বিতীয় স্তরে বাসস্ট্যান্ড বা অন্য যেসব শপিং সেন্টার আছে, যেখানে ছিনতাই বা অজ্ঞান পার্টি কিংবা মলম পার্টি এ ধরনের চক্রগুলো সক্রিয়, সেসব এলাকায় আমাদের সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে এবং আমরা যেকোনো ধরনের তথ্য পেলে প্রাথমিকভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। তৃতীয় পর্যায়ে আমাদের কাছে স্ট্রাইকিং মোবাইল কোর্ট প্রস্তুত থাকবে। যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।’
সিলেট যাত্রায় ভোগান্তি সাসেক, উত্তরের পথে যানজট গাইবান্ধায়
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভেলানগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৃহস্পতিবার দিনভর যানজট লেগে ছিল। সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় মহাসড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলমান থাকায় পার্কিং এরিয়া বলতে কিছু নেই ভেলানগরে। যাত্রীবাহী বাসগুলো যত্রতত্র পার্কিং করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তবে জেলা পুলিশের তৎপরতাও নজরে পড়েছে এদিন। যানজট পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা দিনভর ব্যস্ত সময় পার করেন।
ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে নিরাপত্তায় হাইওয়ে পুলিশের আটটি ইউনিট কাজ করছে বলে জানান হাঁসাড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল কাদের জিলানী।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও বৃহস্পতিবার তেমন চাপ ছিল না। কাঁচপুর থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত সড়কে যানজট ছিল না বৃহস্পতিবার। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কুমিল্লা রিজিয়নে আট শতাধিক পুলিশ সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যানজটের শঙ্কায় ১২টি পয়েন্টকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ। যান চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এসব পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ছাড়াও ২০০ রোভার স্কাউটস সদস্য কাজ করছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. খায়রুল আলম।
একই চিত্র ছিল ঢাকা-আরিচা, হাটিকুমরুল মহাসড়কেও। বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের এজিএম আবদুস সালাম জানান, এবারের ঈদযাত্রায় ১৭টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। ঘাটে যানজট নেই।
সাসেক-২-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, যমুনা সেতু পশ্চিমের ৩৭ কিলোমিটার মহাসড়কের ১৩টি আন্ডারপাসের ১১টি খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নিচের দুটি সার্ভিস সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে। তাই উত্তরের পথে কোনো যানজট নেই। তবে উত্তরের পথে যানজট দেখা গেছে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকায়। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চারমাথার দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড থেকে উত্তরে তেলের পাম্প পর্যন্ত, ফাঁসিতলা, বালুয়াবাজার, পলাশবাড়ী উপজেলার শহরে তিন মাথা, গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ড, ঝুনদহ, কমরপুর বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার দিনভর যানজট লেগেই রয়েছে। গাইবান্ধা জেলা ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (প্রশাসন) শাহ আলম বলেন, ঈদ সামনে রেখে শহরের যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভোগান্তির নাম ভোগরা বাইপাস। এ এলাকায় মহাসড়ক থেকে ১০০ ফুট দূরে যাত্রী নামাতে বলা হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকদের। গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার নাজমুল করিম খান এ কথা জানান। তিনি বলেন, গাজীপুরের মহাসড়কে জেলা পুলিশের ৫০০ সদস্য কাজ করছেন। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ড্রোন ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক জয়ন্ত সাহা, শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও জিয়াউদ্দিন রাজু। এ ছাড়া নরসিংদী, গাজীপুর, সাভার, সোনারগাঁ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও গাইবান্ধা প্রতিনিধি তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।