ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রথম জয়ের খোঁজে… বসনিয়া চ্যালেঞ্জ সুইসদের ১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি কানাডার সামনে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক
Nagad desktop

পথেঘাটে মানুষের ঢল, আপন নীড়ে ছুটছেন সবাই

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৫, ০৩:৩০ এএম
পথেঘাটে মানুষের ঢল, আপন নীড়ে ছুটছেন সবাই
শেষ কর্মদিবস হওয়ায় অনেকেই আগে আগে অফিস থেকে বেরিয়ে রাজধানী থেকে ছুটতে থাকেন আপন নীড়ের উদ্দেশে। ছবি: খবরের কাগজ

ঈদুল ফিতর একেবারে সন্নিকটে। তাই সবার গ্রামে ফেরার তাড়াও অনেক বেশি। আর সেই চিত্রও দেখা গেছে রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) শেষ কর্মদিবস হওয়ায় অনেকেই আগে আগে অফিস থেকে বেরিয়ে রাজধানী থেকে ছুটতে থাকেন আপন নীড়ের উদ্দেশে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঈদ উৎসবের জন্য গ্রামমুখী মানুষের ভিড় বাড়ে ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এবং গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে। বিকেল থেকে যাত্রীর চাপ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এ ছাড়া বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনালেও ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে। কাউন্টারগুলোতে টিকিটের জন্য বৃহস্পতিবারও হাহাকার অবস্থা দেখা দেয়। এর মাঝেও বাড়তি টাকা দিয়ে বা বিভিন্ন কায়দা-কৌশলে কেউ কেউ উপস্থিত টিকিট পেয়ে খুশিতে রওনা হন বাড়ির দিকে। কমলাপুর স্টেশনেও বৃহস্পতিবার যাত্রীদের বেশ উপস্থিতি ছিল। এদিন ট্রেনের তেমন কোনো শিডিউল জটিলতাও ছিল না। অনেকটা নির্বিঘ্নেই ঢাকা ছেড়েছেন যাত্রীরা।

এদিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রামমুখী মানুষগুলোর নিরাপত্তা, সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা, ছিনতাই-ডাকাতি প্রতিরোধসহ সার্বিক বিষয়ে বৃহস্পতিবারও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাবসহ সাদাপোশাকের গোয়েন্দারা ব্যাপক তৎপর ছিলেন। মহাসড়কে বিশেষ টহল ও শৃঙ্খলা দেখভাল করেছে হাইওয়ে পুলিশ।

গাবতলীতে টিকিটে ভোগান্তি, নির্বিঘ্নেই টার্মিনাল ছাড়ে গাড়ি

চলতি সপ্তাহের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে গত সপ্তাহেই। অনলাইনে টিকিট বেশি বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবহনগুলোর কাউন্টার-সংশ্লিষ্টরা। তবে এর বাইরে যারা সরাসরি বৃহস্পতিবার কাউন্টারে হাজির হয়ে টিকিটের খোঁজখবর করছিলেন, তারা পড়েন বিপাকে। অধিকাংশ কাউন্টারেই কোনো টিকিট ছিল না। গাবতলী-কল্যাণপুর ও টেকনিক্যাল মোড় এলাকায় বৃহস্পতিবার উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের কিছু জেলার যাত্রীদের বেশ চাপ লক্ষ করা গেছে। বিকেল থেকে সেই যাত্রীচাপ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। কাউন্টারে ভালো মানের বাসের টিকিট না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে লোকাল শ্রেণির পরিবহন বেছে নেন। এতে করে গুনতে হয় স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া।

শ্যামলী এনআর পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার কিশোর কুমার বলেন, ‘এখনো স্পেশাল সার্ভিস চালু হয়নি। সেটি চালু হলে স্ট্যান্ড (উপস্থিত) টিকিট দেওয়া যেতে পারে। এখন যারা ঢাকা ছাড়ছেন তারা আগেই অনলাইনে টিকিট কেটে রেখেছেন। শিল্প-কারখানা ও গার্মেন্টস ছুটি হওয়ার পর ‘স্ট্যান্ড বাই’ টিকিটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে প্রতি ঈদের মতো এবারও স্ট্যান্ড বাই টিকিট পাওয়া যাবে।’

কল্যাণপুর ও গাবতলীর কয়েকজন বাসচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সরকারি সব অফিস ছুটি হওয়ায় যাত্রীর পাশাপাশি রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এতে করে যানজট তৈরি হচ্ছে প্রধান সড়কগুলোতে। 

গাবতলী বাস টার্মিনালের সামনে বৃহস্পতিবার বিকেলে গাড়ির জন্য অপেক্ষমাণ গাইবান্ধার তিন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। এ সময় তারা জানান, তিনজনই নারায়ণগঞ্জে চাকরি করেন। অফিস শেষ করেই দ্রুত তারা গাবতলী আসেন গ্রামে যাওয়ার জন্য। কিন্তু অনেক সময় খোঁজাখুঁজি করেও ভালো মানের কোনো বাসের টিকিট পাননি। তাই এখন লোকাল বাসে বা ট্রাকে করে হলেও রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তারা।
কল্যাণপুর থেকে বিকেল ৫টার দিকে হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাসে ওঠেন রাজশাহীর বাগমারার আনোয়ার হোসেন জুয়েল। তিনি খবরের কাগজকে জানান, চাকরির সুবাদে তিনি চাঁদপুরে থাকেন। চাঁদপুর থেকে বিকেলে ঢাকার কল্যাণপুরে এসে ৮০০ টাকায় হানিফ পরিবহনের বাসের টিকিট নেন। প্রথমে কোনো সিট পাওয়া না গেলেও পরে অনেক চেষ্টায় একটি সিট পাওয়া যায়। নানা ভোগান্তি ও দুর্ভোগ সত্ত্বেও শেষমেশ বাড়ি যেতে পারায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন জুয়েল।

কমলাপুরে চাপ ছিল না চতুর্থ দিনেও

বৃহস্পতিবার ছিল ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন। রাজধানীর কমলাপুরে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে এদিন ৪৩টি আন্তনগর, মেইল ও কমিউটার ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেছে বলে জানান স্টেশন ম্যানেজার মো. শাহাদাত হোসেন। 

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী মোহাম্মদ মিজান বলেন, ‘এ বছর রেলওয়ের ব্যবস্থাপনা বেশ ভালো। কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও হুড়োহুড়ি নেই। আমরা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ট্রেনে উঠতে পেরেছি।’ 

দেলোয়ার হোসেন তার দুই মেয়ে হুমায়রা ও সুমাইয়াকে নিয়ে যাচ্ছেন গাইবান্ধার বামনডাঙ্গায়। তিনি বলেন, ‘কমলাপুরে সবকিছু ভালো। কিন্তু ট্রেনগুলো যখন প্ল্যাটফর্মে দেওয়া হয়, বিকট গন্ধে বগিতে ওঠা দায় হয়ে যায়।’ তার কথার প্রমাণ মেলে একতা এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সামনে গিয়ে। যাত্রীরা মুখে রুমাল চেপে উঠছিলেন ট্রেনে। মলমূত্রের বিকট গন্ধ নাকে আসে কর্ণফুলী কমিউটার ও তিতাস কমিউটার প্ল্যাটফর্মে আসার সময়। 

এ বিষয়ে স্টেশন ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘কোনো একটি ট্রেন ঢাকা স্টেশনে যখন পৌঁছায়, তখন ওয়াশ করা হয় প্রতিটি বগি। তার পরই প্ল্যাটফর্মে দেওয়া হয় ট্রেন। এখন ঈদযাত্রার সময় কিছু ট্রেনে হয়তো কর্মীরা ঠিকমতো কাজ করছেন না। এ বিষয়ে আমরা খবর নেব।’

এদিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। টিকিট কাউন্টার, প্ল্যাটফর্মসহ সব জায়গায় র‌্যাব, পুলিশ, আনসার সদস্যের পাশাপাশি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) উপস্থিতি চোখে পড়েছে। কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতে টিকিট কাউন্টারের সামনেও বাঁশের লাইন বানানো হয়েছে। এর ফলে কেউ কাউকে ডিঙিয়ে টিকিট নিতে পারেননি। 

সায়েদাবাদে লোকাল বাসেও বাড়তি ভাড়া 

রাজধানীর সায়েদাবাদে বৃহস্পতিবার ঈদের জন্য গ্রামের উদ্দেশে বের হওয়া মানুষের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সায়েদাবাদে কথা হয় মুগদা-মান্ডা এলাকার গার্মেন্টকর্মী তসলিমা খাতুনের সঙ্গে। পরিবারের আরও কয়েকজনসহ তিনি যাচ্ছিলেন হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকায়। সিলেট রুটের মিতালী পরিবহনের বাসে উঠতে গেলে বাসের সহকারী হাঁক দেন- ‘আপা যাইতে গেলে ভাড়া এক রেট ৪০০ টাকা।’ তসলিমা খাতুন জনপ্রতি ২৫০ টাকা করে দেবেন বলে জানালে বাসের সহকারীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তিনি অনেক দফারফা করে হবিগঞ্জ রুটের বিসমিল্লাহ পরিবহনের একটি বাসে ২৮০ টাকা ভাড়ায় যাত্রা করেন। তসলিমা বলেন, ‘মাধবপুরের ভাড়া ২৫০ টাকাই। ঈদ আইছে তো, এই জন্য তাদের চাহিদা বাড়ছে। এটা রীতিমতো জুলুম।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে আরও অনেক কর্মজীবী মানুষ কিছুটা কম ভাড়ায় বাড়ি যাবেন বলে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে আসেন। তাদের প্রত্যেকেই এদিন বাড়তি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে গেছেন। চট্টগ্রাম রুটের এসডি পরিবহনের যাত্রী তাহমিদ বলেন, ‘আমি ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে যাচ্ছি। অন্য সময় মীরসরাই যেতে ৩০০ টাকা দিলেই ওরা খুশি হতো।’ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেটের অস্থায়ী তাঁবুতে গেলে ওই সময়ে ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি।

মহাখালী টার্মিনালকেন্দ্রিক গাড়ির জটলা-যাত্রীদের চাপ

রাজধানীর মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল এখন ব্যস্ততম বা জটলাপুর্ণ একটি এলাকা। বৃহস্পতিবার এই টার্মিনালে যাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে মহাখালী থেকে যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে যায়। এ জন্য টার্মিনালকেন্দ্রিক যানবাহন ও যাত্রীদের ভিড় ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। গত দুই দিন এই টার্মিনালে যাত্রীর তেমন ভিড় না থাকলেও বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রী আসতে শুরু করেছেন। টার্মিনাল থেকে একের পর এক বাস বের হচ্ছিল, আর যাত্রীতে ভর্তি হলে ছেড়ে দেওয়া হয় বাস। এ সময় বাসমালিক, কাউন্টারম্যান, যাত্রীসহ নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অনেক ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। মহাখালীর বাস টার্মিনালের সামনে প্রধান সড়কের উভয় পাশেই রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে দূরপাল্লার বাসগুলো। 

র‌্যাবের টহল-গোয়েন্দা নজরদারি 

বৃহস্পতিবার গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রথম স্তরে বাসস্ট্যান্ড বা যেসব জনবহুল শপিং সেন্টার আছে, সেসব স্থান এবং এর আশপাশে আমাদের ২৪টি প্যাট্রোল টিম টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দ্বিতীয় স্তরে বাসস্ট্যান্ড বা অন্য যেসব শপিং সেন্টার আছে, যেখানে ছিনতাই বা অজ্ঞান পার্টি কিংবা মলম পার্টি এ ধরনের চক্রগুলো সক্রিয়, সেসব এলাকায় আমাদের সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে এবং আমরা যেকোনো ধরনের তথ্য পেলে প্রাথমিকভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। তৃতীয় পর্যায়ে আমাদের কাছে স্ট্রাইকিং মোবাইল কোর্ট প্রস্তুত থাকবে। যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।’

সিলেট যাত্রায় ভোগান্তি সাসেক, উত্তরের পথে যানজট গাইবান্ধায় 

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভেলানগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৃহস্পতিবার দিনভর যানজট লেগে ছিল। সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় মহাসড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলমান থাকায় পার্কিং এরিয়া বলতে কিছু নেই ভেলানগরে। যাত্রীবাহী বাসগুলো যত্রতত্র পার্কিং করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তবে জেলা পুলিশের তৎপরতাও নজরে পড়েছে এদিন। যানজট পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা দিনভর ব্যস্ত সময় পার করেন। 

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে নিরাপত্তায় হাইওয়ে পুলিশের আটটি ইউনিট কাজ করছে বলে জানান হাঁসাড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল কাদের জিলানী। 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও বৃহস্পতিবার তেমন চাপ ছিল না। কাঁচপুর থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত সড়কে যানজট ছিল না বৃহস্পতিবার। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কুমিল্লা রিজিয়নে আট শতাধিক পুলিশ সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যানজটের শঙ্কায় ১২টি পয়েন্টকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ। যান চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এসব পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ছাড়াও ২০০ রোভার স্কাউটস সদস্য কাজ করছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. খায়রুল আলম। 

একই চিত্র ছিল ঢাকা-আরিচা, হাটিকুমরুল মহাসড়কেও। বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের এজিএম আবদুস সালাম জানান, এবারের ঈদযাত্রায় ১৭টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। ঘাটে যানজট নেই। 

সাসেক-২-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, যমুনা সেতু পশ্চিমের ৩৭ কিলোমিটার মহাসড়কের ১৩টি আন্ডারপাসের ১১টি খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নিচের দুটি সার্ভিস সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে। তাই উত্তরের পথে কোনো যানজট নেই। তবে উত্তরের পথে যানজট দেখা গেছে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকায়। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চারমাথার দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড থেকে উত্তরে তেলের পাম্প পর্যন্ত, ফাঁসিতলা, বালুয়াবাজার, পলাশবাড়ী উপজেলার শহরে তিন মাথা, গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ড, ঝুনদহ, কমরপুর বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার দিনভর যানজট লেগেই রয়েছে। গাইবান্ধা জেলা ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (প্রশাসন) শাহ আলম বলেন, ঈদ সামনে রেখে শহরের যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভোগান্তির নাম ভোগরা বাইপাস। এ এলাকায় মহাসড়ক থেকে ১০০ ফুট দূরে যাত্রী নামাতে বলা হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকদের। গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার নাজমুল করিম খান এ কথা জানান। তিনি বলেন, গাজীপুরের মহাসড়কে জেলা পুলিশের ৫০০ সদস্য কাজ করছেন। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ড্রোন ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক জয়ন্ত সাহা, শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও জিয়াউদ্দিন রাজু। এ ছাড়া নরসিংদী, গাজীপুর, সাভার, সোনারগাঁ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও গাইবান্ধা প্রতিনিধি তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে
ছবি: সংগৃহীত

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন নির্ধারিত অনুষ্ঠানমালা বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের লক্ষ্যে তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। 

সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানমালা জুনের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী সময়সূচি যথাসময়ে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হবে।

 

মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

মায়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ-ও বলেছেন, ভারতের সাথে সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

প্রশ্নোত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে এবং সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ফেন্সিডিলসহ সব ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ বন্ধে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার মোতাবেক 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে বিজিবি। সেইসাথে, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, জানান মন্ত্রী।

এছাড়া, দুর্গম ও স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও  নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণের ফলে বিজিবির বিওপিসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং টহলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। সেগুলো হলো:

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এলাকায় ইতিমধ্যে 'স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম' স্থাপন করা হয়েছে।
দুর্গম পার্বত্য সীমান্তে সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যার ফলে বিজিবির টহল দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে যেকোনো সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সক্ষম হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের চোরাচালান ও অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে এবং অপরাধীদের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তার জন্য নিয়মিত 'জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম' পরিচালনা করা হচ্ছে।

এসএন/

যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী
মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে  না’ বলে যারা হুমকি দিচ্ছে, তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বিএনপি আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবে। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে বিএনপি কাজ করবে।’

‘যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা জনগণের স্বার্থে কথা বলছে না, তারা নিজের স্বার্থে কথা বলছে।  তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।’

একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে আছে তো— এখানে অনেক মুরুব্বি আছেন। মনে আছে তো— একাত্তরে এরা কী করেছিল? মনে আছে তো— ’৮৬ তে কী করেছিল? মনে আছে তো— এর মধ্যে এক যুগ যে আন্দোলন চলেছিল, সেই আন্দোলনে তাদেরকে কোথাও আমরা কিন্তু দেখিনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যদি শহিদদের তালিকা বের করা হয়, দেখা যাবে যে ছাত্রটি মারা গিয়েছে—তিনি ছাত্রদলের একজন কর্মী, যে ছাত্রটির বউ মরেছে তিনি ছাত্র দলের কর্মী, যে যুবকটি মারা গিয়েছে তিনি যুবদলের কর্মী, যে যুবকটি গুম হয়েছে তিনি যুবদলের কর্মী। যেই মানুষ বিনা কারণে জেল খেটেছে, খুঁজলে দেখা যাবে তিনি বিএনপির কর্মী, যে মানুষ মিথ্যা মামলা মাথায় করে বয়ে বেড়িয়েছে বছরের পর বছর, খোঁজ করলে দেখা যাবে তিনি শহিদ জিয়া, খালেদা জিয়ার কর্মী।’

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতি জনগণের ম্যান্ডেটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘মানুষ বিএনপিকে বলেছে, তোমরা দেশকে গড়ে তোলো, মানুষ বিএনপিকে বলে দিয়েছে, আগামী পাঁচ বছর তোমাদেরকে সময় দিলাম তোমরা দেশকে ঠিক করো। স্বৈরাচার দেশকে খালি করে দিয়ে চলে গিয়েছে।’

শ্রীমঙ্গল থেকে বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান মৌলভীবাজারে। এই অনুষ্ঠানে জেলার প্রান্তিক নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ১০ জন নারী সদস্যের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বাটন চেপে মৌলভীবাজারের ১৯ ওয়ার্ডসহ অনলাইনের মাধ্যমে আরো ২১ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তৃতীয় পর্যায়ে নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি একযোগে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের আগে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি আম ও নিম গাছের চারা  এবং এর আগে শ্রীমঙ্গলে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাম ও কৃষচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

মৌলভীবাজারের অনুষ্ঠানে চা-শ্রমিকের আবাসন এবং তাদের সন্তানদের বৃত্তি প্রদানসহ দুঃস্থ-অসহায়, প্রতিবন্ধী, প্রান্তিক মানুষের মধ্যে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করেন সরকার প্রধান।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বলেছে, সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না। তাদের সম্পর্কে সর্তক করে  আমি বলতে চাই, বিএনপির প্রতিশ্রুতির পরিকল্পনা জনগণের পরিকল্পনা। এটি যারা ভেস্তে দিতে চায়, তাদের সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির কিছু করা লাগবে না। জনগণ সতর্ক থাকলেই বিএনপির কাজ হয়ে যাবে। কারণ, এ দেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। মালিক যদি সতর্ক থাকে আর কারো টেনশন থাকবে না। এ দেশের মালিক জনগণ, জনগণের হাতে এই দেশের নিরাপত্তা, এ দেশের উন্নয়ন, এ দেশের ভবিষ্যৎ আমি সঁপে দিয়ে গেলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিএনপিকে সময় দিতে চায় না তারা বলে ফ্যামিলি কার্ড কোত্থেকে করবা? টাকা পাবা কই? তাদের উদ্দেশ্যে পরিস্কার করে বলে দিতে চাই, বিগত এক যুগ আমরা দেখেছি, সারা পৃথিবী দেখেছে, সারা পৃথিবী সাক্ষ্য দিয়েছে— কীভাবে এ দেশের অর্থ পাচার হয়ে গিয়েছিল। এখন থেকে বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে সেই পাচার আমরা রুখে দেব।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশের মানুষের অর্থ, এই দেশের মানুষের সম্পদ দেশেই থাকবে। কোথাও যেতে পারবে না। এ দেশের  মানুষের অর্থ এই দেশের মানুষের সম্পদ এ দেশের মানুষের ভালোর জন্য ব্যবহার হবে। যারা বলে টাকা কোথায় পাবা, তাদের কাছে এই হচ্ছে আমার জবাব। তাদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলতে চাই, মানুষকে নিয়ে চিন্তা করুন, মানুষকে নিয়ে কাজ করার চিন্তুা করুন, দেখবেন উপায় বের হবে।’

সামনে সময় দেশের জন্য কাজ করার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনের সময় হচ্ছে কাজ করার, সামনে সময় হচ্ছে দেশ গড়ার, সামনের সময় হচ্ছে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করার। আজকে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত, এই ৪০ কোটি হাত যদি অবশ হয়ে পড়ে থাকে, অলস হয়ে পড়ে থাকে— তাহলে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যাবে না।’

একাত্তরে দেশ স্বাধীন করেছিল বাংলাদেশের জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছিল কে? বাংলাদেশের জনগণই মুক্ত করেছিল। কাজেই দেশকেও গড়ে তুলবে বাংলাদেশের জনগণ। কারণ, খালেদা জিয়াকে যখন বলেছিল দেশ ছেড়ে চলে যাও। তখন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বাংলাদেশের মাটি হচ্ছে আমার প্রথম  এবং শেষ ঠিকানা। মনে আছে আপনাদের? আমাদের সকলের এই বাংলাদেশই হচ্ছে প্রথম ও শেষ ঠিকানা।’

‘কাজেই এ দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, এ দেশকে যদি গড়ে তুলতে হয় তাহলে সকলে আমাদেরকে হাতে হাত মিলিয়ে এক সাথে কাজ করতে হবে।’

উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন এখানে সবাই আমরা হাত তুলে প্রতিজ্ঞা করি যে, আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি, আমাদের আগামী দিনের প্রত্যাশা, আমাদের আগামী দিনের সকল কর্ম পরিকল্পনা হবে এই দেশ ও এ দেশের মানুষকে ঘিরে। দেশ গড়াই হবে আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি।’

১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো যেমন— ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, মুয়াজ্জিন, ইমামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের সম্মানিভাতা প্রদান, স্কুল শিক্ষার্থীদের ড্রেস প্রদান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা প্রভৃতি কাজ শুরু করার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর উপকারটা কার হবে? দলমত নির্বিশেষে এর উপকার পাবে সকল মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপিকে জনগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী করেছে।  ১৭ তারিখের পর এ সরকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সরকার। বর্তমান সরকার হচ্ছে, দলমত নির্বিশেষে সবার সরকার। আমাদের সরকারের মূখ্য বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণ ও বাংলাদেশের মানুষ।’

অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের এই অঞ্চলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে গত এক যুগেরও বেশি সময় এই জেলায় উন্নয়ন না হওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারহানা শারমিন, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউস, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এবং কেরানিগঞ্জ থেকে অনলাইনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

মৌলভীবাজারের অনুষ্ঠান শেষ করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেটের উদ্দেশ্যে সড়ক পথে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

নাঈম/

যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে আবেদন অনুমোদন পাওয়া প্রায় ছয় হাজার নাগরিকের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দূতাবাসের মাধ্যমে এসব এনআইডি সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা বুধবার (১৭ জুন) জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ১৬ হাজার ৭১৫ জন প্রবাসী এনআইডির জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ১০ হাজার ৯৬৮ জনের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিতদের মধ্যে ৫ হাজার ৮০৭ জনের এনআইডি বর্তমানে প্রিন্টিং পর্যায়ে রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডার মায়ামি এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে দূতাবাসের মাধ্যমে এনআইডি কার্যক্রম শুরু হয়। এর আওতায় নিউইয়র্কের ৪ হাজার ১৭০ জন, ওয়াশিংটনের ৪৩০ জন, মায়ামির ৩৬৫ জন এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের ৪৪২ জনের এনআইডি পাঠানো হচ্ছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ইসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার প্রবাসী ইতোমধ্যে এনআইডি পেয়েছেন।

বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদনকারীদের অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র, বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট, এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়ন, অনলাইন জন্মনিবন্ধন এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হয়। বিশেষ কিছু উপজেলার নাগরিকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্রও দাখিল করতে হয়।

ইসি আরও জানায়, প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট উপজেলায় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আবেদন অনুমোদন করে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের এনআইডি সরবরাহ করা হয়।

ইসি/এলিস/আমান

নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস (ডিইডব্লিউ) লিমিটেড থেকে নির্মিত হচ্ছে পাঁচটি রিভারাইন পেট্রল ভেসেল।

বুধবার (১৭ জুন) নারায়ণগঞ্জে ডিইডব্লিউ চত্বরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জন্য ওই পাঁচটি রিভারাইন পেট্রোল ভেসেল (আরপিভি) নির্মাণের লক্ষ্যে ‘কিল-লেয়িং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে জাহাজ নির্মাণে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড ও শিপইয়ার্ডগুলো সাফল্যের ধারাবাহিকতায় অগ্রযাত্রার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ ও নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ ধারাবাহিকতায় বুধবার ডিইডব্লিউ লিমিটেড থেকে কোস্টগার্ডের জন্য পাঁচটি ‘আরপিভি’ নির্মাণের লক্ষ্যে ‘কিল-লেয়িং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রধান অতিথি এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং ডিইডব্লিউ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তির ওই আরপিভির দৈর্ঘ্য ৩৮ দশমিক ৫ মিটার, প্রস্থ ৭ দশমিক ৯০ মিটার, গভীরতা ২ দশমিক ৪৫ মিটার এবং ২৩২ টন ডিসপ্লেসমেন্ট ক্ষমতাবিশিষ্ট সক্ষমতায় এটি নির্মিত হচ্ছে। প্রতিটি নৌযান ঘণ্টায় ২৫ মাইল বেগে চলাচল করতে সক্ষম হবে। এতে নৌযানে নেভিগেশন র‍্যাডার, জিপিএস, যোগাযোগ প্রযুক্তি, নাইট ভিশন ও বিভিন্ন ধরনের আধুনিক সরঞ্জামাদি সংযোজিত থাকবে। কম গভীরতায় চলাচলের উপযোগী ও উচ্চগতি সম্পন্ন এ নৌযানসমূহ বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের বহরে সংযোজনের মধ্য দিয়ে দেশের নদী, মোহনা এবং উপকূলীয় এলাকার সংকীর্ণ ও দুর্গম নৌপথে অধিক দক্ষতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, কম গভীরতাসম্পন্ন জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নজরদারি জোরদারকরণ, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নদীপথ ব্যবস্থাপনায় কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

আলমগীর হোসেন/নাঈম