ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু বিশ্বকাপে অভিষেকেই বিরল ভৌগোলিক কৃতিত্ব উজবেকিস্তানের ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান শেষ মুহূর্তের ইরেনকির গোলে পানামাকে হারিয়ে ঘানার জয়; খেলোয়াড়দের রেটিং দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে পঞ্চম ব্যালন ডি’অর বিজয়ী হলেন ফাবিও ক্যানাভারো বিশেষ ‘লেগাসি’ ব্যাজ পরে মাঠে নামলেন রোনালদো, মেসি ও মদ্রিচ গ্রুপসেরার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে পুলিশ দম্পতির নির্যাতন আমানত ফিরে পাওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামে ‘রোডমার্চ’ ময়মনসিংহ বিভাগ: নীরবে বাড়ছে এইচআইভির বিস্তার বরিশালে ভুয়া ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক নীলিমাইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ নদী খননের মাটির নিচে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পশুর শিংয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম কসাইয়ের ‘এইভাবে পইড়া থাকলে বাচ্চা দুইডা মইরা যাইব’ ছড়িয়ে পড়ছে এইডস: আক্রান্ত তরুণ ও শিক্ষার্থীরা কালীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু আছে, তবু খেয়া পারাপার ১৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রথম জয়ের খোঁজে… বসনিয়া চ্যালেঞ্জ সুইসদের ১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি কানাডার সামনে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া
Nagad desktop

অপসারিত কাউন্সিলদের স্বপদে ফেরার দাবি, ২ সপ্তাহের আল্টিমেটাম

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৩১ পিএম
আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৪৪ পিএম
অপসারিত কাউন্সিলদের স্বপদে ফেরার দাবি, ২ সপ্তাহের আল্টিমেটাম
ছবি: খবরের কাগজ

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে সরিয়ে দেওয়া জনপ্রতিনিরা নিজেদের স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে সমাবেশ করা হয়েছে।

রবিবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার অপসারিত ‘কাউন্সিলর অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত সমাবেশে তারা এই দাবি জানান। দেশের প্রায় দেড়শতাধিক সাবেক কাউন্সিলর সমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশে অংশ নেওয়া জনপ্রতিনিধিরা বলেন, কলমের এক খোঁচায় নির্বাচিত কাউন্সিলরদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাদের সঙ্গে স্থানীয় নাগরিকের কোনো সর্ম্পক নেই। কেউ কাউকে চিনে না। জনপ্রতিনিধিদের অপসারনের ফলে দেশের সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রশাসকরা নিয়মিত অফিস করেন না অভিযোগ করে অপসারিত কাউন্সিলরা বলেন, যাদের বসিয়েছেন তারা কেউ সপ্তাহে দু/একদিন অফিসে আসেন। তাদের দিয়ে জনগণ কোনো ধরনের জনসেবা পাচ্ছে না। কাউন্সিলর পদ থেকে যাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তারা সবাইতো আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল না। বরং আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নির্বাচনে হারিয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। অথচ সব কাউন্সিলরকে এক পাল্লায় নিয়ে অপসারণ করা হলো।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কাউন্সিলরদের স্বপদে পুনর্বহালের সময় বেঁধে দেন কাউন্সিলর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা অভিযুক্ত তাদের বিচার হোক। কিন্তু সব কাউন্সিলর তো আর অপরাধী নয়। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচিত কাউন্সলরেদের স্বপদে ফিরিয়ে দিতে হবে। তা না হলে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করতে বাধ্য হব।

এসময় দেশে প্রত্যেকটি প্রশাসনিক সার্ভিস ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালেও এভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে যায়নি। আমলা নির্ভরতার কারণে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা এখন স্থানীয় প্রশাসন চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারি আমলারা জনবিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী। জনসার্থে কোনটা প্রযোজ্য আর কোনটা প্রযোজ্য না, সেটা যাছাই-বাছাই করার ক্ষমতা তাদের নেই। নির্বাচিত কাউন্সিলররা কেবল নাগরিক নন, তারা এলাকার অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। সুতরাং তাদের কাউন্সিলর পদ কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে সম্মানও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারকে বলতে চাই, তারা যেন এই চুক্তি সংশোধন করে। যৌক্তিক বাছাই করে কাউন্সিলরদের নিয়োগ দেওয়া হোক।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘স্থানীয় প্রতিনিধি না থাকায় মাঠ পর্যায়ে অবাধ লুটপাট ও চাঁদাবাজি হচ্ছে। জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। তারা দৈনন্দিন নাগরিকসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যারা অষ্টপ্রহর নির্বাচন নির্বাচন করছেন, তারা কেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন চান না, আমরা বুঝতে পারছি না। ফ্যাসিবাদবিরোধী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই তাদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের হাতে স্থানীয় পরিসর ছেড়ে দেয়া যাবে না।’

বাংলাদেশ সিটি কাউন্সিলর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাজী গোলাম কিবরিয়ার সঞ্চালনায় এসময় বিভিন্ন এলাকার পদবঞ্চিত কাউন্সিলর ও ছাত্রনেতারা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৩২৩টি পৌরসভার সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের অপসারণ করে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। পরে কাউন্সিলরদের স্থলে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার।

রাজু/সিফাত/

তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি সংরক্ষণে নতুন একটি ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৮ জুন) প্রথম বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এমপিদের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান।

এ সময় দ্রুত ও নিরাপদ রেলযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রধান প্রধান রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু, আগামী পাঁচ বছরে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের ইনস্টিটিউটে রূপান্তর এবং হজের ব্যয় কমাতে সরকারের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

গতকাল বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লিখিত জবাব টেবিলে উত্থাপন করা হয়। এদিন রাষ্ট্রীয় কাজে সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে থাকায় তিনি অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য আরও একটি ব্যারাজ নির্মাণের লক্ষ্যে কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনায় ১১০ কিলোমিটার নদীশাসন, ১১০ কিলোমিটার ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব রয়েছে।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধান প্রধান রেলপথে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বা বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড, মাল্টিমোডাল পরিবহনব্যবস্থা এবং স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন, কর ফাঁকি রোধ এবং এআইভিত্তিক সেবা চালুর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এ হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে ইপিআই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। টিকা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলামের প্রশ্নে তিনি জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখিত ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। সরকার বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা দিতে বদ্ধপরিকর।

গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হজের ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা হবে। সেই লক্ষ্যে সরকার কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালে হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। ২০২৬ সালে হজের ব্যয় ১১ হাজার ৭৫ টাকা কমানো হয়েছে, যার সুফল হজযাত্রীরা পেয়েছেন এবং ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ মূল্য আরও যৌক্তিক করার চেষ্টা করা হবে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ বেশি বন্দি রয়েছে। তিনি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৩০ হাজার ৭৪৪টি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৯ হাজার ৬৮৫ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৯ হাজার ২৫১টি মামলা করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলাদেশে অবৈধভাবে লোকজন ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) ৩৬টি চেষ্টা প্রতিরোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের পুশইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর, ১১ জনকে বিএসএফের কাছে ফেরত এবং ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সীমান্তে পুশইন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি, লোকেশন ট্র্যাকিং ও সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর আধুনিকায়নও চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে সরকার বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং, উঠান বৈঠক, বিশেষ অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাদের তৎপরতার ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

এদিকে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘চানাচুরের মতো বাজেট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি শুনতে ভালো লাগলেও বাস্তবে জনগণের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে না।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের আগেই দেশটিতে শ্রমিক নিয়োগে সিন্ডিকেটব্যবস্থা বিলুপ্ত এবং প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে অভিবাসী শ্রমিকদের সংগঠন মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক (এমডব্লিউএন)। গতকাল বুধবার(১৭ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সচিব নিরঞ্জন।

সাত দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্তমান বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সমঝোতা স্মারক বাতিল করে বাধ্যতামূলক দ্বিপক্ষীয় শ্রম চুক্তি স্বাক্ষর, নিয়োগ সিন্ডিকেট বিলুপ্তি, তালিকাবহির্ভূত শ্রমিকদের বৈধতার আওতায় আনা, শোষণের শিকার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায়, পাসপোর্ট জব্দ ও জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে অভিবাসী শ্রমিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

নিরঞ্জন জানান, মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসন সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, শোষণ ও দুর্নীতি চলে আসছে। মালয়েশিয়া ১৪টি উৎস দেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ করলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্বাচিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সীমিত ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এই একচেটিয়া পদ্ধতি কৃত্রিমভাবে অভিবাসন ব্যয় বাড়িয়েছে এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করেছে। অনেক শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যেতে প্রায় ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে বাধ্য হন, যেখানে সরকার নির্ধারিত ব্যয় মাত্র ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকেই উচ্চ সুদে ঋণ নেন বা পারিবারিক সম্পদ বন্ধক রাখতে বাধ্য হন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রম অভিবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে। ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের শোষণ ও অপরাধ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বরও একই ধরনের উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা নানা ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হন। এর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট জব্দ করে রাখা, বেতন না দেওয়া বা কম দেওয়া, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, অস্বাস্থ্যকর আবাসন, মিথ্যা চাকরির প্রতিশ্রুতি, অনিয়মিত আউটসোর্সিং কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে জটিলতা এবং স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার। অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় গেলেও পরবর্তী সময়ে নিজেদের কোনো দোষ ছাড়াই ডকুমেন্টসবিহীন হয়ে পড়েন। ফলে তারা আটক, চাঁদাবাজি, বহিষ্কার এবং জোরপূর্বক শ্রমের ঝুঁকিতে পড়েন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দিনের সফরে আগামী ২১ জুন মালয়েশিয়া যাচ্ছেন।

‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে
ছবি: সংগৃহীত

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন নির্ধারিত অনুষ্ঠানমালা বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের লক্ষ্যে তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। 

সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানমালা জুনের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী সময়সূচি যথাসময়ে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হবে।

 

মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

মায়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ-ও বলেছেন, ভারতের সাথে সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

প্রশ্নোত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে এবং সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ফেন্সিডিলসহ সব ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ বন্ধে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার মোতাবেক 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে বিজিবি। সেইসাথে, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, জানান মন্ত্রী।

এছাড়া, দুর্গম ও স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও  নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণের ফলে বিজিবির বিওপিসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং টহলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। সেগুলো হলো:

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এলাকায় ইতিমধ্যে 'স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম' স্থাপন করা হয়েছে।
দুর্গম পার্বত্য সীমান্তে সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যার ফলে বিজিবির টহল দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে যেকোনো সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সক্ষম হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের চোরাচালান ও অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে এবং অপরাধীদের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তার জন্য নিয়মিত 'জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম' পরিচালনা করা হচ্ছে।

এসএন/

যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী
মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে  না’ বলে যারা হুমকি দিচ্ছে, তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বিএনপি আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবে। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে বিএনপি কাজ করবে।’

‘যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা জনগণের স্বার্থে কথা বলছে না, তারা নিজের স্বার্থে কথা বলছে।  তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।’

একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে আছে তো— এখানে অনেক মুরুব্বি আছেন। মনে আছে তো— একাত্তরে এরা কী করেছিল? মনে আছে তো— ’৮৬ তে কী করেছিল? মনে আছে তো— এর মধ্যে এক যুগ যে আন্দোলন চলেছিল, সেই আন্দোলনে তাদেরকে কোথাও আমরা কিন্তু দেখিনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যদি শহিদদের তালিকা বের করা হয়, দেখা যাবে যে ছাত্রটি মারা গিয়েছে—তিনি ছাত্রদলের একজন কর্মী, যে ছাত্রটির বউ মরেছে তিনি ছাত্র দলের কর্মী, যে যুবকটি মারা গিয়েছে তিনি যুবদলের কর্মী, যে যুবকটি গুম হয়েছে তিনি যুবদলের কর্মী। যেই মানুষ বিনা কারণে জেল খেটেছে, খুঁজলে দেখা যাবে তিনি বিএনপির কর্মী, যে মানুষ মিথ্যা মামলা মাথায় করে বয়ে বেড়িয়েছে বছরের পর বছর, খোঁজ করলে দেখা যাবে তিনি শহিদ জিয়া, খালেদা জিয়ার কর্মী।’

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতি জনগণের ম্যান্ডেটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘মানুষ বিএনপিকে বলেছে, তোমরা দেশকে গড়ে তোলো, মানুষ বিএনপিকে বলে দিয়েছে, আগামী পাঁচ বছর তোমাদেরকে সময় দিলাম তোমরা দেশকে ঠিক করো। স্বৈরাচার দেশকে খালি করে দিয়ে চলে গিয়েছে।’

শ্রীমঙ্গল থেকে বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান মৌলভীবাজারে। এই অনুষ্ঠানে জেলার প্রান্তিক নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ১০ জন নারী সদস্যের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বাটন চেপে মৌলভীবাজারের ১৯ ওয়ার্ডসহ অনলাইনের মাধ্যমে আরো ২১ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তৃতীয় পর্যায়ে নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি একযোগে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের আগে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি আম ও নিম গাছের চারা  এবং এর আগে শ্রীমঙ্গলে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাম ও কৃষচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

মৌলভীবাজারের অনুষ্ঠানে চা-শ্রমিকের আবাসন এবং তাদের সন্তানদের বৃত্তি প্রদানসহ দুঃস্থ-অসহায়, প্রতিবন্ধী, প্রান্তিক মানুষের মধ্যে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করেন সরকার প্রধান।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বলেছে, সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না। তাদের সম্পর্কে সর্তক করে  আমি বলতে চাই, বিএনপির প্রতিশ্রুতির পরিকল্পনা জনগণের পরিকল্পনা। এটি যারা ভেস্তে দিতে চায়, তাদের সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির কিছু করা লাগবে না। জনগণ সতর্ক থাকলেই বিএনপির কাজ হয়ে যাবে। কারণ, এ দেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। মালিক যদি সতর্ক থাকে আর কারো টেনশন থাকবে না। এ দেশের মালিক জনগণ, জনগণের হাতে এই দেশের নিরাপত্তা, এ দেশের উন্নয়ন, এ দেশের ভবিষ্যৎ আমি সঁপে দিয়ে গেলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিএনপিকে সময় দিতে চায় না তারা বলে ফ্যামিলি কার্ড কোত্থেকে করবা? টাকা পাবা কই? তাদের উদ্দেশ্যে পরিস্কার করে বলে দিতে চাই, বিগত এক যুগ আমরা দেখেছি, সারা পৃথিবী দেখেছে, সারা পৃথিবী সাক্ষ্য দিয়েছে— কীভাবে এ দেশের অর্থ পাচার হয়ে গিয়েছিল। এখন থেকে বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে সেই পাচার আমরা রুখে দেব।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশের মানুষের অর্থ, এই দেশের মানুষের সম্পদ দেশেই থাকবে। কোথাও যেতে পারবে না। এ দেশের  মানুষের অর্থ এই দেশের মানুষের সম্পদ এ দেশের মানুষের ভালোর জন্য ব্যবহার হবে। যারা বলে টাকা কোথায় পাবা, তাদের কাছে এই হচ্ছে আমার জবাব। তাদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলতে চাই, মানুষকে নিয়ে চিন্তা করুন, মানুষকে নিয়ে কাজ করার চিন্তুা করুন, দেখবেন উপায় বের হবে।’

সামনে সময় দেশের জন্য কাজ করার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনের সময় হচ্ছে কাজ করার, সামনে সময় হচ্ছে দেশ গড়ার, সামনের সময় হচ্ছে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করার। আজকে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত, এই ৪০ কোটি হাত যদি অবশ হয়ে পড়ে থাকে, অলস হয়ে পড়ে থাকে— তাহলে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যাবে না।’

একাত্তরে দেশ স্বাধীন করেছিল বাংলাদেশের জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছিল কে? বাংলাদেশের জনগণই মুক্ত করেছিল। কাজেই দেশকেও গড়ে তুলবে বাংলাদেশের জনগণ। কারণ, খালেদা জিয়াকে যখন বলেছিল দেশ ছেড়ে চলে যাও। তখন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বাংলাদেশের মাটি হচ্ছে আমার প্রথম  এবং শেষ ঠিকানা। মনে আছে আপনাদের? আমাদের সকলের এই বাংলাদেশই হচ্ছে প্রথম ও শেষ ঠিকানা।’

‘কাজেই এ দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, এ দেশকে যদি গড়ে তুলতে হয় তাহলে সকলে আমাদেরকে হাতে হাত মিলিয়ে এক সাথে কাজ করতে হবে।’

উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন এখানে সবাই আমরা হাত তুলে প্রতিজ্ঞা করি যে, আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি, আমাদের আগামী দিনের প্রত্যাশা, আমাদের আগামী দিনের সকল কর্ম পরিকল্পনা হবে এই দেশ ও এ দেশের মানুষকে ঘিরে। দেশ গড়াই হবে আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি।’

১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো যেমন— ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, মুয়াজ্জিন, ইমামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের সম্মানিভাতা প্রদান, স্কুল শিক্ষার্থীদের ড্রেস প্রদান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা প্রভৃতি কাজ শুরু করার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর উপকারটা কার হবে? দলমত নির্বিশেষে এর উপকার পাবে সকল মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপিকে জনগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী করেছে।  ১৭ তারিখের পর এ সরকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সরকার। বর্তমান সরকার হচ্ছে, দলমত নির্বিশেষে সবার সরকার। আমাদের সরকারের মূখ্য বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণ ও বাংলাদেশের মানুষ।’

অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের এই অঞ্চলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে গত এক যুগেরও বেশি সময় এই জেলায় উন্নয়ন না হওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারহানা শারমিন, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউস, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এবং কেরানিগঞ্জ থেকে অনলাইনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

মৌলভীবাজারের অনুষ্ঠান শেষ করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেটের উদ্দেশ্যে সড়ক পথে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

নাঈম/