জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিবছরই তাপমাত্রা বাড়ছে। প্রায় ১০ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এ তাপমাত্রা বাড়ার কথা বলছেন আবহাওয়াবিদরা।
জানা যায়, ২০২২ সালে খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২৪ সালে এই তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়ে হয় সর্বোচ্চ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুই বছরের ব্যবধানে তাপমাত্রা বেড়েছে ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয়, খাল-বিল জলাশয় ভরাট করে অবকাঠামো নির্মাণের কারণে তাপ নিঃসরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এতে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়েছে ওঠে জনজীবন।
এদিকে চলতি বছরে গ্রীষ্মের শুরুতে তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খুলনার জনজীবন। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে অসহনীয় গরমের তীব্রতা। সেই সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিং।
দেশের তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সাল, এ পাঁচ দশকে সবচেয়ে বেশি দক্ষিণাঞ্চলে ৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়েছে। ১৯৮০ সালের পর থেকে দেশের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়েই বেড়েছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তন পরিবেশগত বিপর্যয়সহ নানা কারণ উল্লেখ করা হয়।
খুলনা ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হায়দার আলী জানান, গরমের সময় চাহিদা বাড়লে লোডশেডিং দিতে হয়। এর মধ্যে ২৬ এপ্রিল দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা ও বরিশালে বিদ্যুতের ‘ব্লাক আউটে’ প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকে ১৫-২০টি জেলার মানুষ।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, ২০২৩ সালে খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২৪ সালে তিন ধাপে রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রিতে পৌঁছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি ছুঁয়েছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের উপসহকারী আবহাওয়াবিদ অমরেশ চন্দ্র ঢালি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। ২০২২ সালে খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয় ৩৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২৪ সালের তিন ধাপে সেই তাপমাত্রার রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল তাপমাত্রা ছিল ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি, ২৯ এপ্রিল ছিল ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি ও ১ মে তাপমাত্রা ছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই হিসাবে দুই বছরের ব্যবধানে ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ইউসুফ আল হারুন জানান, শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয়, ভূমির অপরিকল্পিত ব্যবহারে তাপ নিঃসরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, এতে মাটি ও বিভিন্ন অবকাঠামোগুলোতে সারা দিনের অসহনীয় তাপ দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত আটকে থাকে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা ৩৪-৩৬ ডিগ্রি থাকলেও তার অনুভূতি ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রিতে গিয়ে পৌঁছে। এ কারণে গরমের মৌসুমে তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে।