ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি আনচেলত্তির সন্তুষ্টি, স্কটল্যান্ড ম্যাচেই ফিরছেন নেইমার কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁট: মানবিক সংকটে রোহিঙ্গারা রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ স্কটল্যান্ড কোচ ক্লার্ক শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট-শপিংমল বন্ধ জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি বোয়ালমারীতে আলুবোখারা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন হাবিবুর পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানো অন্যতম চ্যালেঞ্জ প্যারাগুয়ে বনাম তুরস্ক ম্যাচে যে কারণে মিগুয়েল আলমিরনকে লাল কার্ড দেখানো হলো অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা জিতলেই নকআউটে জার্মানি গতির রাজা জর্ডান মরোক্কোর রেকর্ড ভেঙে দ্রুততম গোল প্যারাগুয়ের ব্রাজিল ম্যাচের চেয়েও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো খেলেছে মরক্কো: ওয়াহবি হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন ব্রাজিলের রাফিনহা ৯ বছরেও খোলেনি রোহিঙ্গাদের ফেরার পথ বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামাডোলে সাগরিকায় ক্রিকেটের উন্মাদনা শ্রীমঙ্গলে হারমোনি ফেস্টিভ্যালের বর্ণিল উদ্বোধন ইসমাইল সাইবারিকে ছাড়িয়ে এবার ৬৪ সেকেন্ডে দ্রুততম গোল গ্যালারজারের দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার অবস্থান কত? ব্রেকে হাওয়া না থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর পাড়ে ঝুলে পড়ল যাত্রীবাহী বাস আর্জেন্টিনা ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ফিফায় আলজেরিয়ার অভিযোগ সিরিজ বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া জয়ী ৭ রানে নাটোরে ওড়না পেঁচিয়ে যুগলের আত্মহত্যা প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান

ড. ইউনূসের ৩৬০ ডিগ্রি কূটনীতি, বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বসংযোগ

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৫, ০২:৫৩ পিএম
আপডেট: ২৮ মে ২০২৫, ০২:৫৬ পিএম
ড. ইউনূসের ৩৬০ ডিগ্রি কূটনীতি, বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বসংযোগ
ড. মুহাম্মদ ইউনূস

চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার কূটনৈতিক সুনামকে কাজে লাগিয়ে এ দেশের মসৃণ পরিবর্তনের গতিশীলতাকে সামলে যাচ্ছেন নিপুণভাবে। তিনি তার ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী কূটনীতি দিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে উন্মোচন করেছেন এক নতুন দিগন্ত। 

বিশ্লেষকরা একে বলছেন ‘৩৬০ ডিগ্রি কূটনীতি’, যেখানে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ, সবদিকেই ছড়িয়েছে তার কূটনৈতিক উদ্যোগ। তারা বলেছেন, ঐতিহ্যগত মিত্রদের পাশাপাশি নতুন জোট গড়ে তোলা হচ্ছে। লক্ষ্য জাতীয় স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা।

প্রথম সাফল্য: সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ক্ষমা

অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য আসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় শতাধিক বাংলাদেশি শ্রমিককে সাজার আদেশ দিয়েছিলেন দেশটির আদালত। তবে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সরাসরি আলোচনার পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

পশ্চিমা বিশ্বে দৃঢ় বার্তা

ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক কূটনীতিক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটান ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন ড. ইউনূস। সেখানে তিনি তার দীর্ঘদিনের মিত্র সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয়েই সামাজিক ব্যবসা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি পাকিস্তান, কানাডা ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী, ব্রাজিল ও মরিশাসের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের সঙ্গে বৈঠক করেন। 

আন্তর্জাতিক সমর্থনের সূচনা: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর

গত অক্টোবরের শুরুতে প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঢাকা সফর করেন। এটি বহির্বিশ্বে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দেয়। গত বছরের ৪ অক্টোবর ৫৮ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় আসেন আনোয়ার ইব্রাহিম। দলটিতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প, পররাষ্ট্র, পরিবহন এবং ধর্মবিষয়ক উপমন্ত্রীসহ সংসদ সদস্যরাও ছিলেন। এর দুই মাস পর তিমুর লেস্তের প্রেসিডেন্ট রামোস-হোর্তা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফর করেন এবং বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। 

জলবায়ু কূটনীতিতে ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্ব

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালের নভেম্বরে আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত কপ২৯ জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব ও টেকসই উন্নয়নের পক্ষে বৈশ্বিক কণ্ঠস্বর হিসেবে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন। সম্মেলনে তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে একটি নতুন সাহসী বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন ‘থ্রি জিরো’ নামে। তিনি ২০টিরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর মধ্যে ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং পাকিস্তান, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, বেলজিয়াম, ঘানার প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট। একই সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোবিষয়ক (এলডিসি) উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দেখা করেন। পরে ড. ইউনূস সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে, ব্রাজিলের ভাইস প্রেসিডেন্টের স্ত্রী লু আলকমিন এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও ফিফাপ্রধানদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

ঢাকায় ইউনূসের সঙ্গে ইইউর ২৭ রাষ্ট্রদূতের ঐতিহাসিক বৈঠক

নজিরবিহীন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ সদস্যরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত একযোগে বৈঠক করেন। ঢাকায় যেখানে মাত্র সাতজন ইইউ রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত আছেন, সেখানে নয়াদিল্লি থেকে ২০ জন রাষ্ট্রদূতের অংশগ্রহণ আয়োজনটিতে ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ মাত্রা যোগ করে।

দাভোসে উজ্জ্বল ইউনূস

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অংশগ্রহণ অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ছিল আরেকটি গৌরবময় অর্জন। সম্মেলনের পাশাপাশি অধ্যাপক ইউনূস সেখানে ৪৭টি আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময় তিনি বৈঠক করেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং টিমর-লেস্টে, মালয়েশিয়া, ফিনল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে। 

জাতিসংঘ মহাসচিবের ঢাকা সফর

চলতি বছরের ১৩ থেকে ১৬ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশ সফর করেন। গুতেরেসের সফরের মূল প্রেক্ষাপট ছিল রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক মানবিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার স্বীকৃতি। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা একে ‘সংহতি মিশন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার

এ বছরের ২৮ মার্চ বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তাকে সম্মান জানাতে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে নিজে অভ্যর্থনা জানান চীনা প্রেসিডেন্ট। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। দুই নেতার মধ্যে আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল নদী ব্যবস্থাপনা ও রোহিঙ্গা সংকট। ড. ইউনূস বাংলাদেশের জন্য একটি ৫০ বছরের সমন্বিত নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নে চীনের সহায়তা চান। 

বিমসটেকের নেতৃত্ব গ্রহণ

২০২৫ সালের এপ্রিলে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। 

বিমসটেক সম্মেলনে মোদি-ইউনূসের প্রথম বৈঠক

এটিই ছিল ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপ। বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস তার সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে বহিষ্কৃত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধের বিষয়টি উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে তিনি গঙ্গা পানিচুক্তি নবায়ন ও তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করতে আলোচনার আহ্বান জানান। 

পাশাপাশি ইউনূস থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এ ছাড়া সম্মেলনের ফাঁকে ইউনূস শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হারিনিয়া আমারাসুরিয়া, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। 

ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির পথে বাংলাদেশ

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার লক্ষ্য বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অঙ্গনে গঠনমূলক, ভারসাম্যপূর্ণ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি বড় পরাশক্তিদের সঙ্গে গঠনমূলক অংশীদারত্ব গড়ে তুলে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ বাড়াতে চান অধ্যাপক ইউনূস। 

আরব বিশ্বের সঙ্গে সংলাপ

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির আমন্ত্রণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চার দিনের সরকারি সফরে দোহা যান। সে সময় তিনি কাতারের কাছ থেকে বাংলাদেশের পুনর্গঠনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস পান।

জাপানে কৌশলগত সফর

বাংলাদেশের বৈশ্বিক অংশীদারত্ব নতুনভাবে সাজানোর অংশ আজ বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরে থাকবেন ড. ইউনূস। আগামী শুক্রবার তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য, বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত করা। এই সফরে সাতটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে। দ্বিপক্ষীয় কূটনীতির পাশাপাশি ইউনূস অংশ নেবে ৩০তম নিক্কেই ফোরামেও। সেখানে তিনি লাওস ও পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট এবং জাপান ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। মূলত আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশ আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ফেরার ইঙ্গিত দেবে অধ্যাপক ইউনূসের এ সফরের মাধ্যমে।

অর্থনৈতিক কূটনীতিতে দৃশ্যমান সাফল্য

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অর্থনৈতিক কূটনীতির অন্যতম বড় সাফল্য ছিল এ বছর ঢাকায় ‘বাংলাদেশ গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট’-এর সফল আয়োজন। এই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া বৈশ্বিক করপোরেট প্রতিষ্ঠান, পুঁজিপতি ও উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থার শীর্ষ নির্বাহীরাও এতে যোগ দেন।
(সংক্ষেপিত)
সূত্র : বাসস

জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১০:২৬ এএম
জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সঠিক সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন। প্রায় দশ বছর ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য মোটেও কল্যাণকর নয় এবং রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়। জাতিসংঘ মহাসচিবের মায়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ দাবি তুলে ধরেন। 

শনিবার (২০ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মায়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখান থেকেই খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে দীর্ঘদিন আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর উল্লেখযোগ্য সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা আরো জোরদারের আহ্বান জানান, যেন রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়।

নাঈম/

দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার অবস্থান কত?

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার অবস্থান কত?
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বড় বড় শহরের সঙ্গে সমানতালে বাড়ছে মেগাসিটি ঢাকার বায়ুদূষণও। তবে কখনও কখনও বৃষ্টির কারণে বাতাসে দূষণের মাত্রা কিছুটা কম-বেশি হয়।

শনিবার (১৯ জুন) সকাল সোয় ৯টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের লাইভ র্যাংকিংয়ে ৮৬ স্কোর নিয়ে ঢাকা আছে ১৬তম অবস্থানে। আজ ঢাকার বাতাস  ‘সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত।

বায়ুদূষণে আজকের দিনে বিশ্বের শহরগুলোর তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, যার স্কোর ১৭০। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর ১৬১। পাকিস্তানের শহর লাহোর ১৬০ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসা, এই শহরের স্কোর ১৫৬। ১১৮ স্কোর নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো।

উল্লেখ্য, আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

এছাড়া ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

অন্তরা/

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
বৃষ্টি। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ওপর মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় আট বিভোগের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

শনিবার (২০ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বইতে পারে। সেই সঙ্গে আকাশ বিদ্যুৎ চমকাতে পারে এবং হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। 

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে বৃষ্টি হলেও সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

নাঈম/

রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য
ছবি: প্রতীকী

রাজধানীর পল্টনের আবাসিক হোটেল রমনায় মো. আল আমিন (৪০) নামে এক সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সঙ্গে থাকা এক তরুণীকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার (১৯জুন) দুপুরে অচেতন অবস্থায় সৌদিপ্রবাসী আল আমিনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত আল আমিন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরশাদী এলাকার ফেরদৌস উদ্দীনের ছেলে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সঙ্গে থাকা তরুণীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ থানা হেফাজতে নিয়ে গেছে।
  
তবে পুলিশ বলছে, নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই, তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিয়ে যেতে চায়।হোটেল রমনার বয় (কর্মী) মোহম্মদ হানিফ বলেন, ‘আল আমিন সৌদিপ্রবাসী। তিনি শুক্রবার (গতকাল) সকালে দেশে ফিরে হোটেল রমনা আবাসিকের ৯ তলার ৯২৩ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। তার সঙ্গে একজন তরুণীও ছিলেন। তার নাম সাগরিকা আক্তার। পরে আমরা জানতে পারি, সৌদি আরবে থাকাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাগরিকার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বিগত ছয় মাস তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ওই তরুণী বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার চরকান্দি গ্রামের সবুর শেখের মেয়ে। তিনি গাজীপুর নার্সিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের একজন শিক্ষার্থী।’ 

অন্যদিকে আটক তরুণী সাগরিকা দাবি করেন, ‘আল আমিন ওয়াশরুমে যাওয়ার পর হঠাৎ পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান। ওয়াশরুমের দরজা খোলা ছিল এবং আল আমিন মেঝেতে পড়ে ছিলেন। পরে তার চিৎকারে হোটেলের বয় হানিফসহ কর্তৃপক্ষ এগিয়ে যান। পরে তারা সবাই মিলে আল আমিনকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।’

গতকাল রাত সোয়া ৮টার দিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদেকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘মরদেহের সুরতহাল এখনো শেষ হয়নি। তবে নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই, তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিয়ে যেতে চায়। তবে সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখি, তারা কী নির্দেশনা দেন।’

ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘নিহত সৌদিপ্রবাসী আল আমিনের বন্ধুর বোন সাগরিকা। সাগরিকার ভাইও সৌদি আরবে থাকেন। সেখান থেকে কিছু জিনিস আল আমিনকে দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। সেসব নিতে সাগরিকা ওই হোটেলে গিয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক জানিয়েছেন, আল আমিন স্ট্রোক করে মারা গেছেন।’ 

আগের পোশাকে ফিরছে পুলিশ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:২১ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
আগের পোশাকে ফিরছে পুলিশ
পুলিশের ইউনিফর্ম

বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, ‘গাঢ় নীল’ এবং ‘হালকা অলিভ’ (জলপাই) রঙের সংমিশ্রণে আগের পোশাকে ফিরছে পুলিশ। পোশাক আগের রঙের হলেও এবার সবার প্যান্ট হবে খাকি।

পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে ঘোষণা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার সদর দপ্তর থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জেলাসহ অন্য ইউনিটের পুলিশের জন্য গাঢ় নীল রঙের শার্ট হবে, সব মেট্রোপলিটন পুলিশের হবে হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের এবং সব পুলিশের প্যান্টের রং হবে খাকি। এ ছাড়া এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি এবং র‍্যাব এই পোশাকের আওতামুক্ত থাকবে। অর্থাৎ তাদের পোশাক পরিবর্তন হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছর ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। পুলিশের সব সদস্যের জন্য নির্ধারিত হয় আয়রন (লোহা) রঙের পোশাক। গত বছর ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ। তবে এই পোশাক সাত মাসও টিকল না। এই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল।