জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সব সেবা আবার চালু হচ্ছে।
১৬ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার ( ১৪ জুন) থেকে চালু হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম। এর আগে জুলাই আহতদের সঙ্গে কিছু চিকিৎসক-কর্মচারীর দ্বন্দ্বে গত ২৮ মে থেকে হাসপাতালটির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এরপর বুধবার (৪ জুন) থেকে পুলিশ পাহারায় জরুরি সেবা চালু করা হয়। তবে সে সময় বহির্বিভাগের সেবা ও ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এর ফলে হাসপাতালে ভর্তি ও সেবা নিতে যাওয়া রোগীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার রোগীর সেবা নেন।
এদিকে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে হাসপাতাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সৃষ্ট সংকট নিরসনে গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, জুলাই আহতদের বেশির ভাগ চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পর হাসপাতাল ত্যাগ করলেও কয়েকজন অকারণে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে অবস্থান করে অরাজকতা সৃষ্টি করছেন। তারা চিকিৎসকদের হুমকি, গালিগালাজ, শারীরিক লাঞ্ছনা ও হাসপাতালের নিয়মশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে চলেছেন। তারা হাসপাতালের সম্পত্তি নষ্ট করা এবং ভর্তি ও অস্ত্রোপচারে অনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। ২৫ মে কয়েকজন আহত রোগীর বিষপানের নাটক এবং ২৭ মে পরিচালকের কক্ষে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তোলে। ওইদিন চিকিৎসকদের অবরুদ্ধ করে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তী সময়ে ২৮ মে হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন করেন। সেদিনও তারা সহিংস হামলা চালান। তারা ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ অনেককে গুরুতর আহত এবং হাসপাতালের স্থাপনা ভাঙচুর করেন। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।