ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা দেম্বেলে রহস্য! ঘানাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার রাশফোর্ডের নাটোরে এক গ্রামেই ৪ শতাধিক ঘরজামাই! ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার? বিশ্বকাপে মিশরকে প্রথম ম্যাচ জয় উপহার দিয়ে উচ্ছ্বসিত সালাহ ঘরছাড়া মানুষের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে ভাইরাল ভেড়া অপরাধ নির্মূলে কার্যকর ভূমিকার বিকল্প নেই চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা ‘মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছি’- ড্রেসিংরুমে ইরানের বার্তা যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম চকরিয়ায় সৌদিয়া বাস উল্টে আহত ৭ আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হবে ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে আগুন অসংক্রামক রোগের আগ্রাসন মোকাবিলায় ৩৫ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে অভ্যন্তরীণ রুটে ১৫ শতাংশ ভাড়া ছাড়

রক্তের সংকট জাতীয় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে: মো. আসাদুল ইসলাম

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৫, ০৭:২৮ পিএম
রক্তের সংকট জাতীয় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে: মো. আসাদুল ইসলাম
ছবি: খবরের কাগজ

থ্যালাসিমিয়ায় আক্রান্তদের বাঁচাতে নিয়মিত ও নিরাপদ রক্তের প্রয়োজন । কিন্তু নিরাপদ রক্তের পর্যাপ্ত পাওয়া যায় না। সংকট রয়েছে। যা জাতীয় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ সংকট নিরসনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও তরুণদের আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুল ইসলাম।

শনিবার (২১ জুন) বাংলাদেশ থ্যালাসিমিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী ১৪ জুন রক্তদাতা দিবস পালিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ থ্যালাসিমিয়া ফাউন্ডেশন দিবসটি পালন করে ২১ জুন। রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সমাজে রক্তদানের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ‘রক্ত দিন, আশার আলো দিন–একসাথে আমরা জীবন বাঁচাই’- প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বর্তমানে রক্তের সংকট একটি জাতীয় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে থ্যালাসিমিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত শিশুদের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন হয় নিয়মিত ও নিরাপদ রক্ত। এ সংকট উত্তরণে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও তরুণদের আরও এগিয়ে আসতে হবে।

ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দা মাসুমা রহমান বলেন, আমাদের হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। অথচ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আমাদের প্রয়োজনীয়তা ছিল ১৮ হাজার ব্যাগ, যার বিপরীতে সংগৃহীত হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ব্যাগ রক্ত। এটা একটি বিপজ্জনক সংকেত। এখন সময়, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার।

আরিফ/মেহেদী/

সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়া এবং বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ার ঘটনায় সংসদে বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্নের নোটিশ উত্থাপন করেছেন শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনের শুরুতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিষয়টি সংসদে উপস্থাপন করেন।

নোটিশে রাশেদুল ইসলাম রাশেদ উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ ও অন্যান্য অংশ দিয়ে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ছে এবং অবকাঠামোগত বিভিন্ন ত্রুটি দৃশ্যমান হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কার্যকারিতা অক্ষুণ্ন রাখতে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্পিকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে সংসদ সচিবালয়-সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় কার্যপ্রণালি বিধির ৫৪(৩) অনুযায়ী নোটিশটি বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্নের প্রশ্ন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিন স্পিকার আরও জানান, চলতি অধিবেশনে এ পর্যন্ত মোট ছয়টি বিশেষ অধিকার প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে চারটির সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে সংসদকে জানানো হয়েছে।

একই দিনে জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান সংসদ সদস্যদের পরিচিতি সহজ করতে টেলিভিশন সম্প্রচারে সদস্যদের নাম ও নির্বাচনি এলাকার নাম প্রদর্শনের দাবি জানান। তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশনের সম্প্রচারে কেবল সদস্যদের চেহারা ও বক্তব্য দেখা যায়, কিন্তু পরিচয় জানা যায় না। স্পিকার এই প্রস্তাবকে যুক্তিযুক্ত আখ্যা দিয়ে সংসদ সচিবালয়কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে এই নোটিশটিও বিশেষ অধিকারের আওতাভুক্ত না হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়নি।

এলিস/রিফাত/

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ইতিবাচক রূপান্তরে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের দুঃশাসন দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে যে গভীর সংকটে ফেলেছিল, সেখান থেকে উত্তরণে তরুণ প্রজন্মকে বইপাঠের মাধ্যমে আলোকিত মানুষ হতে হবে।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে ‘জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম ২০২৬’-এর সনদ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ একসময় গৌরবময় ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত ছিল। বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে আমরা সাময়িক পিছিয়ে পড়লেও জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে দেশকে আবারও শ্রেষ্ঠত্বের আসনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’

ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসন আমাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে ‘জেন-জি’ একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, তা বাস্তবায়নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং মাদকের বিস্তার রোধ বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা কোনো ধরনের আপোশ করব না। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা হবে অগ্রণী।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, ‘জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। বই পড়ার অভ্যাস একজন মানুষকে আলোকিত করে এবং জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলে। দেশের গণগ্রন্থাগারগুলোর উন্নয়নে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

করোনাকালীন সংকটের সময় যাত্রা শুরু করা ‘জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম’ এখন জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। এবারের আয়োজনে দেশের ৯টি গ্রন্থাগারের ৬৪৭ জন পাঠক অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দুই ক্যাটাগরিতে ২০ জন সেরা পাঠককে পুরস্কার প্রদান করা হয়। ‘ক’ ক্যাটাগরিতে (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) পড়তে হয়েছিল হুমায়ূন আহমেদের সায়েন্স ফিকশন ‘তোমাদের জন্য ভালোবাসা’। ‘খ’ ক্যাটাগরিতে পড়তে হয়েছিল (একাদশ শ্রেণি ও তদূর্ধ্ব) জহির রায়হানের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বইপ্রেমী পাঠক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম

শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: সংগৃহীত

শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, এমপি। 

তিনি বলেন, ‘শিশু কীভাবে শিখবে এবং শিক্ষক কীভাবে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন, তার ভিত্তি তৈরি করে পাঠ্যক্রম। তাই প্রাথমিক শৈশব বিকাশে পাঠ্যক্রম সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশের স্বাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ে (আইইউবি) আয়োজিত ‘প্রাথমিক শৈশব বিকাশ বিষয়ে জাতীয় সংলাপ: নীতি ও বাস্তবচর্চা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়টির ফার্মেসি ও জনস্বাস্থ্য অনুষদের অধীন জনস্বাস্থ্য বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের শেখার প্রক্রিয়ায় মুখস্থনির্ভরতা ও পরীক্ষার ফলাফলের চেয়ে চিন্তাশক্তি, কৌতূহল, যোগাযোগ দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার এবং শিক্ষা পদ্ধতির আধুনিকায়নে সরকার কাজ করছে। শিশুর প্রাথমিক বিকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ের অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সংলাপ আয়োজন করায় তিনি আইইউবির প্রশংসা করেন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন, ট্রাস্টি জাভেদ হোসেন এবং জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ।

ফরিদ আহমদ বলেন, ‘প্রাথমিক শৈশব বিকাশ শুধু বিদ্যালয় বা সরকারের দায়িত্ব নয়; এতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। এটি শুধু শ্রেণিকক্ষ বা অবকাঠামোর বিষয় নয়; বরং শিশুদের শেখা, বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়।’

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ‘শিশুর প্রাথমিক বিকাশ ও উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও অংশীজনদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আইইউবি অত্যন্ত আগ্রহী।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শৈশব বিকাশ নেটওয়ার্কের (বিইএন) সহসভাপতি মাহমুদা আখতার। তিনি প্রাথমিক শৈশব বিকাশের গুরুত্ব এবং প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

আইইউবির ফার্মেসি ও জনস্বাস্থ্য অনুষদের ডিন ডা. কামরান উল বাসেত শিক্ষক উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে আরেকটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং পরে উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন। এতে সরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন আইইউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ. লুন্ড। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জনস্বাস্থ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. তানভীর আহমেদ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বিলকিস বানু।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শৈশব বিকাশ নেটওয়ার্ক (বিইএন) শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। আইইউবি এ নেটওয়ার্কের নির্বাহী সদস্য।

রিফাত/

আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের আসন্ন আলিম পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড।

সোমবার (২২ জুন) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, পরীক্ষা শুরু হওয়ার ন্যূনতম ৭ দিন আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বা তার প্রতিনিধি এবং ট্রেজারির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সর্টিং করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ‘মেঘনা’ ও ‘যমুনা’ সেটের প্রশ্ন একই ট্রাংকে রাখা যাবে না।

এতে বলা হয়, প্রতিদিন পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক ৩০ মিনিট পূর্বে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছ থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে জানতে পারবেন ওই দিন কোন সেটে পরীক্ষা হবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে অন্য কোনো সেটে পরীক্ষা নিলে তার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরাসরি দায়ী থাকবেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষা কেন্দ্রে একমাত্র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও শুধু নন-অ্যান্ড্রয়েড বা সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করার অনুমতি পাবেন। কেন্দ্রের কোনো কক্ষপ্রত্যবেক্ষক (ইনভিজিলেটর) বা পরীক্ষার্থীর নিকট স্মার্টফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং নিয়মানুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় গেইটেই পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে কক্ষে প্রবেশ করাতে হবে। ছাত্রীদের তল্লাশির জন্য অবশ্যই মহিলা শিক্ষক নিয়োজিত থাকবেন।

প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড ব্যতীত কোনো বই, খাতা, মোবাইল বা কোনো কাগজপত্র কক্ষে আনা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া, কক্ষে কোনো পরীক্ষার্থী যাতে একে অপরের উত্তরপত্র দেখতে না পারে সেজন্য ‘জেড’ প্যাটার্ন অনুযায়ী আসন বিন্যাস করা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীরা যাতে একই সেটের প্রশ্ন না পায়, সেজন্য বহুনির্বাচনী অভীক্ষার ৪টি সেট (ক, খ, গ, ঘ) সমানুপাতিক হারে বণ্টন করতে হবে।

বোর্ডের নির্দেশনায় জানানো হয়, সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষা বিরতিহীনভাবে চলবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পূর্বে কোনো অবস্থাতেই ওএমআর-এর উপরের অংশ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র এবং লিখিত উত্তরপত্রের টপ পোর্শন ওএমআর সম্পূর্ণ আলাদাভাবে সাজিয়ে পৃথক হলুদ কাপড়ের প্যাকেটে সীলযুক্ত করে বোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট বরাবর পাঠাতে হবে।

ভুলত্রুটি এড়াতে আরবি বিষয়ের পরীক্ষার দিন সাধারণ বিষয়ের শিক্ষক এবং সাধারণ বিষয়ের দিন আরবি বিষয়ের শিক্ষকদের কক্ষপ্রত্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম বা সেরিব্রালপলসি আক্রান্ত) এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিতে পারবে এবং বোর্ডের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। এছাড়া অটিস্টিক পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবে এবং তাদের উত্তরপত্রগুলো বেগুনি রঙের কাপড়ে আলাদা প্যাকেট করে বোর্ডে পাঠাতে হবে।

প্রতিদিনের পরীক্ষা শেষে বেলা সাড়ে ১২টার মধ্যে মোট পরীক্ষার্থী, উপস্থিত, অনুপস্থিত ও বহিষ্কৃতদের সংখ্যা অনলাইনে বোর্ডে প্রেরণের জন্য কেন্দ্র প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাঈম/

বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ভবনে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। রাজনৈতিক বিতর্ক বা আইন প্রণয়নের ব্যস্ততার বাইরে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমানের পাঠানো একটি বিশেষ উপহারকে ঘিরে ছিল ভিন্নমাত্রার আলোচনা।

সোমবার (২২ জুন) সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও পেয়েছেন ১০ কেজি ওজনের একটি করে উপহারের প্যাকেট।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকাল থেকেই সংসদ ভবনে উপহারের প্যাকেটগুলো নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। পরে জানা যায়, প্যাকেটগুলোতে ছিল মৌসুমি ফল— প্রিমিয়াম মানের আম। বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সংসদের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে এসব উপহার বিতরণ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, উপহার বিতরণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এর সমবণ্টন। সাধারণত এ ধরনের সৌজন্য উপহার উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে এবার সংসদের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও উপহারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

উপহার পেয়ে সংসদ সচিবালয়ের এক অফিস সহায়ক বলেন, “আমরা সাধারণ কর্মচারী। বড় নেতাদের উপহার সাধারণত দূর থেকেই দেখি। আজ বিরোধীদলীয় নেতা আমাদের কথাও মনে করেছেন। এটি আমাদের জন্য সম্মানের বিষয়।”

এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্যও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসীন দলের এক এমপি বলেন, “রাজনীতি তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তবে সংসদের ভেতরে এ ধরনের সৌজন্য ও পারস্পরিক সম্মানবোধ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। সব স্তরের কর্মচারীদের মূল্যায়ন করার বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ড. শফিকুর রহমান প্রথাগত ধারার বাইরে বিভিন্ন মানবিক ও সৌজন্যমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। তাদের মতে, এবারের উপহার বিতরণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়; বরং এর মাধ্যমে তিনি সব স্তরের মানুষের প্রতি সম্মান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা দিয়েছেন।

এলিস/নাঈম