সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সংস্কারসহ ১০ দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। অবরোধের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনায় চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাহবাগ থানা-পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়েছেন। আন্দোলনকারী চাকরিপ্রত্যাশীরা বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হবে, তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় খবরের কাগজকে নতুন এ কর্মসূচি সম্পর্কে জানান পিএসসি সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং ঢাবির পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহ আলম স্নেহ।
তিনি বলেন, ‘পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন শেষে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করি। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল ৬টায় কর্মসূচি ঘোষণা করে চলে আসব। কিন্তু একপর্যায়ে পুলিশ আমাদের ব্যাপক মারধর করে। এতে আমাদের পাঁচ-ছয়জনের মতো আহত হয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি মানা না হবে, আমাদের কর্মসূচি রাজু ভাস্কর্যের সামনে চলমান থাকবে। পিএসসির সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন করতেই থাকব।’
মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর খবরের কাগজকে বলেন, ‘তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছিল। পরে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’
এর আগে ৪৪তম বিসিএসের ‘প্রহসনমূলক চূড়ান্ত ফলাফলের প্রতিবাদ’ ও পিএসসি সংস্কারসহ ১০ দফা দাবিতে বেলা সাড়ে ৩টায় ঢাবি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন প্রতিবাদকারীরা। পরে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এতে শাহবাগে প্রায় ১ ঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে।
সমাবেশে উত্থাপিত ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশ করতে হবে; প্রহসনমূলক ও প্রশ্নবিদ্ধ ভাইভার মাধ্যমে ১ হাজার ৭৭০ অনুত্তীর্ণ প্রার্থীর ফল পুনর্মূল্যায়ন করা; লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর প্রকাশ করা; সময়ের বিবেচনায় চিকিৎসকদের প্রার্থিতার বয়স ৩৪ বছর নির্ধারণ করা; ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষার সুযোগ দেওয়া এবং ৪৫তম বিসিএস থেকে মৌখিক পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের চালু করা; নন-ক্যাডার বিধি-২০২৩ সংশোধন করে বিসিএস মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সবার চাকরির বন্দোবস্ত করা।
এ ছাড়া কমিশন নিয়োগে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞ মহলের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আরিফ জাওয়াদ/