পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক মো. তৌহিদ হোসেন।
শনিবার (১৯ জুলাই) রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির ১০ম সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সভাটি সকাল সাড়ে ১০টায় রাঙামাটিতে উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজে শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর দেড়টায়।
সভায় চুক্তি স্বাক্ষরকারী দল জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমা এবং পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমাও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সব বিষয়ে বিষদ আলোচনা করেছি। একটি বিষয় আমি সবসময় বলি, সমস্যা সমাধানের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে সমস্যা যে আছে সেটাকে স্বীকার করা। আমরা মনে করি, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। সে সমস্যাগুলো আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। আজকের আলোচনা অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি ছোট বিষয়গুলো যেগুলো সহজেই সমাধান করা যায়, সেগুলোকে শেষ করে ফেলি। আর যেগুলো কঠিন বিষয় আছে সেগুলোকে কীভাবে সমাধান করা যায়, সেটার রাস্তা খোঁজার চেষ্টা করি। এটাই ছিল আজকের আলোচনার মূল বিষয়।’
পার্বত্য চুক্তিতে কী ধরনের সমস্যা চিহ্নিত করা গেছে- এমন প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘নতুন করে সমস্যা চিহ্নিত করার প্রয়োজন নাই। আমরা জানি কিছু সমস্যা আছে। কারণ না হলে তো অনেক পুরোনো এই চুক্তি, বাস্তবায়িত তো হয় নাই। চেষ্টা করছি যেন সবাই মিলে একসঙ্গে এমনভাবে করি যেন নতুন করে কোন কন্ট্রোভার্সি সৃষ্টি না হয়।’
এদিকে সন্তু লারমা বলেন, ‘আমার তো নিজস্ব কিছু বলার নাই। যা বলার আমাদের উপদেষ্টা মহোদয় বলেছেন। আলোচনা আন্তরিকতাপূর্ণভাবে হয়েছে। ফলপ্রসূ হয়েছে।’
তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে- পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এমন বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আজকে এগুলো বলার কোন অবকাশ নাই।’
তবে সভায় কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা জানাতে চায়নি কোন পক্ষই।
গত ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পাদন হয়। সম্পাদিত চুক্তির (ক) খণ্ডের (৩) অনুচ্ছেদের শর্ত অনুযায়ী চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিবীক্ষণ করার জন্য ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি’ গঠিত হয়। ২০২৪ (৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত এই কমিটি ৯টি সভা করে।
তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৬৮টি ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে- বলে বিভিন্ন সময় দাবি করা হয়েছে।
বিপরীতে সন্তু লারমার দল জনসংহতি সমিতি বলে আসছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক নয় এবং বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ হচ্ছে। সে কারণে পাহাড়ে শান্তি ফিরছে না। চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে পাহাড়ে অশান্তি বিরাজ করছে।
তবে জুলাই বিপ্লবের পর হাসিনা সরকারের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গেল ১২ জানুয়ারি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে আহ্বায়ক এবং সন্তু লারমা ও ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় ও অভ্যন্তরীণ শরনার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন টাস্কফের্সের চেয়ারম্যান সুদত্ত চাকমাকে সদস্য করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন করে।
আজ (শনিবার) রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত এটিই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম সভা।
এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গৌতম চাকমা, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, উপ-সচিব মঙ্গল চন্দ্র পাল ও উপ-সচিব সামছুল হক।
জুয়েল/পপি/