ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা দেম্বেলে রহস্য! ঘানাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার রাশফোর্ডের নাটোরে এক গ্রামেই ৪ শতাধিক ঘরজামাই! ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার? বিশ্বকাপে মিশরকে প্রথম ম্যাচ জয় উপহার দিয়ে উচ্ছ্বসিত সালাহ ঘরছাড়া মানুষের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে ভাইরাল ভেড়া অপরাধ নির্মূলে কার্যকর ভূমিকার বিকল্প নেই চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা ‘মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছি’- ড্রেসিংরুমে ইরানের বার্তা যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম চকরিয়ায় সৌদিয়া বাস উল্টে আহত ৭ আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হবে ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে আগুন অসংক্রামক রোগের আগ্রাসন মোকাবিলায় ৩৫ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে অভ্যন্তরীণ রুটে ১৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় গুজব মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয়: তথ্যমন্ত্রী শিবপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন বিতরণ সাতকানিয়ায় মিলল মহাবিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১৬টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নোবিপ্রবিতে শিক্ষামন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনবল নিয়োগ, পদ ১১১

ঢাকায় ৪৪ বছরে ঘনবসতি বেড়েছে ৭ গুণ, জলাধার হারিয়েছে ৬০ শতাংশ

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৫, ১০:০৯ এএম
আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৫, ১০:১১ এএম
ঢাকায় ৪৪ বছরে ঘনবসতি বেড়েছে ৭ গুণ, জলাধার হারিয়েছে ৬০ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা শহর আজ শুধু জনসংখ্যার ভারে নয়, পরিবেশগত বিপর্যয়ের দিক থেকেও মারাত্মক হুমকির মুখে। ১৯৮০ থেকে ২০২৪ এই ৪৪ বছরে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় সাত গুণ। একই সময়ে ঢাকার ভূমির তাপমাত্রা বেড়েছে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হারিয়ে গেছে শহরের প্রায় ৬০ শতাংশ জলাধার। অবশিষ্ট জলাধারগুলো এখন আছে শহরের মাত্র ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এলাকায়। ঢাকার ২১ দশমিক ৬ শতাংশ সবুজ আচ্ছাদন কমতে কমতে নেমেছে মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশে। 

এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের গবেষণায়। 

‘প্রকৃতিবিহীন ঢাকা? প্রাকৃতিক অধিকারভিত্তিক টেকসই নগর ভাবনার পুনর্বিচার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় রবিবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে।

গবেষণায় ১৯৮০ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত স্যাটেলাইট চিত্র, ভূমির তাপমাত্রা এবং নগরায়ণের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে উপস্থাপন করা হয়। দেখা গেছে, ঢাকার মাত্র ছয়টি থানা ন্যূনতম জলাধার সংরক্ষণের মানদণ্ড পূরণ করতে পেরেছে। বাকি এলাকাগুলোর চিত্র আশঙ্কাজনক। গবেষণায় আরও বলা হয়, ঢাকার এই পরিবেশগত সংকটের জন্য মূলত দায়ী অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব এবং জলাধার রক্ষা আইনের বাস্তবায়নহীনতা।

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঢাকার পরিবেশের এই বিপর্যয় মানুষের জীবনযাত্রাকে শুধু কঠিনই করে তুলছে না, বরং শহরটিকে ধীরে ধীরে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে। এখনই প্রকৃতিবান্ধব, ন্যায্য ও টেকসই নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে ঢাকা শহর ভয়াবহ পরিবেশগত এবং জনস্বাস্থ্য সংকটে পড়বে।

সংস্থাটির গবেষণায় বলা হয়েছে, রাজধানীর আদাবর, রামপুরা, কাফরুল, বংশাল ও ওয়ারী এলাকায় গাছ নেই বললেই চলে। জলশূন্য ঢাকার সূত্রাপুর, মিরপুর, গেন্ডারিয়া, কাফরুল এলাকা। ঢাকার গরমের হটস্পট শ্যামপুর, হাজারীবাগ, তেজগাঁও, রামপুরা ও দারুসসালাম। ঢাকার ৫০ থানার ৩৭টিতেই অতিক্রম করেছে নিরাপদ নির্মাণসীমা। 

গবেষণাটির তথ্য উপস্থাপন করেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের গবেষণা সহযোগী সাবরিন সুলতানা ও মো. ফুয়াদ হাসান। সুলতানা বলেন, ১৯৮০ সালের পর ঢাকার অর্ধেক গাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সবুজ আচ্ছাদন কমে এসেছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশে। আন্তর্জাতিক মান অনুসারে মাথাপিছু যে ৯ বর্গমিটার সবুজ জায়গা থাকার কথা, ঢাকার বেশির ভাগ এলাকাই তা অর্জন করতে পারছে না। ঢাকায় ৫০টি থানার মধ্যে কেবল ৬টি থানা ন্যূনতম জলাধার থাকার মান পূরণ করতে পারছে। এরই প্রভাবে শহরের ভূ-তাপমাত্রা বেড়েছে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে ঢাকার কোনো এলাকাতেই তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেই। ঢাকায় গরমের হটস্পট হচ্ছে শ্যামপুর, হাজারীবাগ, তেজগাঁও, রামপুরা ও দারুসসালাম। এই এলাকাগুলোর তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রির ওপরে। ৯০ শতাংশ বা তার বেশি কংক্রিট দিয়ে গঠিত অঞ্চল হলো বংশাল, সূত্রাপুর, কলাবাগান, হাজারীবাগ, মিরপুর, রামপুরা। এ ছাড়া ৫০টি থানার মধ্যে ৩৭টি এরই মধ্যে নিরাপদ নির্মাণসীমা অতিক্রম করে গেছে। 

তিনি বলেন, ঢাকার উত্তরখান এবং তুরাগ শহরের প্রান্তিক অঞ্চলে হওয়ায় এখনো কিছুটা সবুজ অঞ্চল ও জলাধার ধরে রেখেছে। তবে ওয়ারী, বংশাল, কোতোয়ালিসহ ঘনবসতিপূর্ণ কেন্দ্রীয় এলাকাগুলো প্রায় সম্পূর্ণ প্রকৃতিবিচ্ছিন্ন।

গবেষণা পরিচালক ও চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী এম জাকির হোসাইন খান বলেন, উন্নয়নের নামে আমাদের ঢাকার প্রকৃতি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। সমুদ্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে হাজার প্রজাতির প্রাণী। আমাদের শহরের দূষণ দিন দিন বাড়ছে। বায়ুদূষণের কারণে ঢাকায় কী পরিমাণ ইনহেলার বিক্রি বেড়েছে এটা খেয়াল করলেই তা বোঝা যায়। দিল্লি ও জাকার্তা শহর ঢাকার চেয়ে এগিয়ে আছে। শুধু করাচি ঢাকার নিচে আর আমরাও সেই পথে এগিয়ে চলেছি। ঢাকাকে করাচি করতে না চাইলে সিঙ্গাপুরের মতো প্রকৃতিভিত্তিক শহরের মডেল গ্রহণ করতে হবে।

প্রকৃতি বাঁচাতে সংস্থাটির কিছু সুপারিশের মধ্যে রয়েছে প্রকৃতির অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জলাভূমি ও বনভূমি ভরাট করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইন প্রণয়ন করা। পরিবেশগত বাফার জোন এবং সংকটপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) সংস্কার করে অগ্রসর হওয়া। 

পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) সীমিত করা। 

প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর গোষ্ঠীগত তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা। সবুজ অঞ্চলের জন্য জোনিং এবং পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ বাধ্যতামূলক করা। জলাশয় পুনরুদ্ধার করা। প্রকৃতিবান্ধব কাঠামোর তুলনায় কংক্রিটের কাঠামোর ওপর ৫ গুণ বেশি কর আরোপ করা।

বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ভবনে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। রাজনৈতিক বিতর্ক বা আইন প্রণয়নের ব্যস্ততার বাইরে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমানের পাঠানো একটি বিশেষ উপহারকে ঘিরে ছিল ভিন্নমাত্রার আলোচনা।

সোমবার (২২ জুন) সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও পেয়েছেন ১০ কেজি ওজনের একটি করে উপহারের প্যাকেট।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকাল থেকেই সংসদ ভবনে উপহারের প্যাকেটগুলো নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। পরে জানা যায়, প্যাকেটগুলোতে ছিল মৌসুমি ফল— প্রিমিয়াম মানের আম। বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সংসদের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে এসব উপহার বিতরণ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, উপহার বিতরণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এর সমবণ্টন। সাধারণত এ ধরনের সৌজন্য উপহার উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে এবার সংসদের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও উপহারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

উপহার পেয়ে সংসদ সচিবালয়ের এক অফিস সহায়ক বলেন, “আমরা সাধারণ কর্মচারী। বড় নেতাদের উপহার সাধারণত দূর থেকেই দেখি। আজ বিরোধীদলীয় নেতা আমাদের কথাও মনে করেছেন। এটি আমাদের জন্য সম্মানের বিষয়।”

এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্যও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসীন দলের এক এমপি বলেন, “রাজনীতি তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তবে সংসদের ভেতরে এ ধরনের সৌজন্য ও পারস্পরিক সম্মানবোধ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। সব স্তরের কর্মচারীদের মূল্যায়ন করার বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ড. শফিকুর রহমান প্রথাগত ধারার বাইরে বিভিন্ন মানবিক ও সৌজন্যমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। তাদের মতে, এবারের উপহার বিতরণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়; বরং এর মাধ্যমে তিনি সব স্তরের মানুষের প্রতি সম্মান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা দিয়েছেন।

এলিস/নাঈম

আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য অপতৎপরতা রুখতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাফিয়া দল আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রুখতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার অ্যাক্টের আওতায় ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।’

সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো রয়েছে। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনী কাজ করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় আমরা দেখেছি তারা মিছিল মিটিং করার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তাতে আমাদের কাছে মনে হয়েছে তারা আইনশৃঙ্খলা অবনতির পাঁয়তারা করতে পারে। এসব কর্মকাণ্ড থেকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সব সময়ই সতর্ক থাকতে হয়। আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাসদস্যদের আইন মোতাবেক বেসামরিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যাতে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলা করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার কখনো বিজিবি, কখনো সেনাবাহিনীর সহায়তা নিয়ে থাকে।

প্রায় দেড় বছর মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর গত ১৫ জুন সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। যেসব জেলায় নাশকতা বা অপতৎপরতার চেষ্টা হয়েছে, সেসব এলাকাতেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্র: বাসস

অমিয়/

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু
হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ছবি: সংগৃহীত

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১২৫ জন শিশুর শরীরে। এদের মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৬০ জন।

সোমবার (২২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫৯০ শিশুর মৃত্যুর খবর জানা গেছে। এদের মধ্যে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৩ শিশু। মোট শিশু মারা গেছে ৬৮৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৯৩ হাজার ৭৫৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এদের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ১৭১ শিশুর শরীরে। হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৬ শিশু।

হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৭ হাজার ৭৪৩ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ৭৩ হাজার ৯৮৫ শিশু।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত বগচড ৮৮৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ১৩৬ শিশু।

নাঈম/

অসংক্রামক রোগের আগ্রাসন মোকাবিলায় ৩৫ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
অসংক্রামক রোগের আগ্রাসন মোকাবিলায় ৩৫ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ
ছবি: খবরের কাগজ

দেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগের উচ্চ ঝুঁকি কমাতে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছে সরকারি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি।

সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারি সব বিভাগকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় রোগ প্রতিরোধে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে উদ্ভাবনী ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় বলা হয়, দেশে অকাল মৃত্যুর ৫১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটছে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ‘সর্বাত্মক সরকারি’ পদ্ধতি গ্রহণের পথ বেছে নিয়েছে। 

সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘নিছক ওষুধ বা চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধের ওপরই এখন থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘জনসাধারণকে সুস্থ রাখতে হাঁটাচলা ও কায়িক পরিশ্রমের বিকল্প নেই। আমরা যদি মানুষকে সচেতন করতে পারি যে প্রতিরোধের মাধ্যমেই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, তবেই অসংক্রামক রোগের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

গত বছরের ২০ আগস্ট স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘যৌথ ঘোষণা’র ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি এই সমন্বয় কমিটি গঠিত হয়। সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কারিগরি সহায়তায় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হল- আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে একজন করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ‘কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। মনোনীত প্রতিনিধিদের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত বৈজ্ঞানিক, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও কার্যকর কৌশল বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে সব মন্ত্রণালয় নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে, যেখানে নিয়মিত তদারকি ও পরিমাপযোগ্য সূচক নির্ধারণ করা থাকবে।

সভায় ‘সব নীতিতে স্বাস্থ্য’- এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ এই উদ্যোগে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সভায় উপস্থিত সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এবং সচিবরা নিজ নিজ খাতের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশগুলো তুলে ধরেন।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

গুজব মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয়: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
গুজব মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয়: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে তথ্য অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে একটি বিশেষায়িত ‘গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি’ সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে সংসদে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল মান্নানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এদিন প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উত্থাপিত হয়।

সংসদ সদস্য জানতে চান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন সাংবাদিকতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে তথ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় কোনো সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে কি না।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, তথ্য অধিদফতরের ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত যাচাই করে সরকারের পক্ষ থেকে ‘তথ্যবিবরণী’ ও ‘প্রতিবাদলিপি’ প্রস্তুত করে সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সদর দফতরের পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ের আঞ্চলিক তথ্য অফিসগুলো নিজ নিজ এলাকায় অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে অপপ্রচার, গুজব ও সাইবার হয়রানি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে তথ্য অধিদফতরের ফিচার শাখা নিয়মিত বিশেষ নিবন্ধ ও ফিচার প্রস্তুত করে জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের ব্যবস্থা করছে।

এলিস/নাঈম