ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৪৮ লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে, ৯ দিন পর বিচ্ছেদ চাইলেন যুবক টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি তুরস্কের হারে নকআউটে যুক্তরাষ্ট্র নওগাঁর আম আমদানি করতে চায় জাপান বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিল হাইতি টাঙ্গাইলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৫০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি আজ ‘লম্বা মেয়েদের’ প্রশংসা পাওয়ার দিন আনচেলত্তির সন্তুষ্টি, স্কটল্যান্ড ম্যাচেই ফিরছেন নেইমার কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁট: মানবিক সংকটে রোহিঙ্গারা রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ স্কটল্যান্ড কোচ ক্লার্ক শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট-শপিংমল বন্ধ জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি বোয়ালমারীতে আলুবোখারা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন হাবিবুর পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানো অন্যতম চ্যালেঞ্জ মুখে হাত দিয়ে কথা বলে প্রথম লাল কার্ড দেখলেন প্যারাগুয়ের আলমিরন অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা জিতলেই নকআউটে জার্মানি গতির রাজা জর্ডান মরোক্কোর রেকর্ড ভেঙে দ্রুততম গোল প্যারাগুয়ের ব্রাজিল ম্যাচের চেয়েও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো খেলেছে মরক্কো: ওয়াহবি হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন ব্রাজিলের রাফিনহা

রাজধানীর ফুটওভার ব্রিজ চাঁদাবাজ চক্রের নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০৭ এএম
রাজধানীর ফুটওভার ব্রিজ চাঁদাবাজ চক্রের নিয়ন্ত্রণে
ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়কের পর এবার ফুটওভার ব্রিজও হকারদের দখলে চলে গেছে। নিরাপদে পথচারীদের পারাপারের জন্য নির্মিত এসব ব্রিজ এখন পরিণত হয়েছে অস্থায়ী বাজারে। হকারদের পাশাপাশি স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে এসব ফুটওভার ব্রিজ। কোথাও জামাকাপড়, কোথাও শাকসবজি, কোথাও ইলেকট্রনিক পণ্য; সব মিলিয়ে রাজধানীর অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজ হাটবাজারে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্র প্রতিদিন এসব হকারের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। ফলে যে ফুটওভার ব্রিজ পথচারীদের জন্য তৈরি হয়েছিল, তা এখন দখলের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, ফুটওভার ব্রিজের অবস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। লোহায় মরিচা ধরে ক্ষয় হয়ে গেছে। তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। বেশ কিছু ব্রিজে বাতি না থাকায় অন্ধকারে চলে মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ। রাতে ছিনতাইও নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে ব্রিজের নিচ দিয়ে চলাচল করছেন। অথচ কর্তৃপক্ষের এদিকে কোনো নজর নেই। 

শহর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ফুটওভার ব্রিজকে নিরাপত্তা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট স্থানে হকার জোন তৈরি করা যেতে পারে, যাতে তারা জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন আবার পথচারীরাও নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারেন। সিসিটিভি ক্যামেরাও তদারকির জন্য প্রয়োজন। রাজধানীর জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারাপারের নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা না করলে দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন।


ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে বর্তমানে প্রায় ৯২টি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে ৫১টি, দক্ষিণ সিটির অধীনে ৩৫টি, রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজ বিভাগের অধীনে ৫টি এবং রাজউকের অধীনে রয়েছে ১টি ব্রিজ। অধিকাংশ ব্রিজই এখন হকারদের দখলে। কোথাও এর এক পাশ, কোথাও আবার দুই পাশজুড়েই দোকান বসে। কিছু ব্রিজের অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কয়েকজন ক্রেতা দাঁড়ালেই চলাচলের জায়গা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

এ ছাড়া কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চলন্ত সিঁড়ি (এস্কেলেটর) অনেক জায়গায় অচল হয়ে পড়ে আছে। ভ্রাম্যমাণ দোকান, ময়লা-আবর্জনা ও বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে ফুটওভার ব্রিজগুলোতে হাঁটার পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

দখল করা ফুটওভার ব্রিজে মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত পণ্য বেশি বিক্রি হতে দেখা যায়। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে শার্ট, প্যান্ট, ব্রাশ, বিছানার চাদর, ওজন মাপার যন্ত্র, নামাজ পড়ার টুপি, আতর, তসবিহ, আয়না থেকে শুরু করে মোজা, গেঞ্জি, চশমা, হাতঘড়ি, মোবাইল ফোন অ্যাকসেসরিজ; এমনকি শাকসবজি, ডিম, খেজুর, খেজুরের গুড়সহ হরেক রকমের পণ্য নিয়ে বসেছেন হকাররা।

রাজধানীর দৃষ্টিনন্দন গুরুত্বপূর্ণ ফার্মগেট ফুটওভার ব্রিজটি এখন পুরোটাই দখলে। পুরোনো ব্রিজটি ভেঙে ২০২৩ সালে ২০ কোটি টাকা খরচ করে ঢাকার সবচেয়ে সুপ্রশস্ত এই ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। এটি ১৮ ফুট চওড়া। দৃষ্টিনন্দন করে তোলার জন্য বিভিন্ন ফুলের গাছ ছিল ব্রিজটিতে। অথচ ফার্মগেটের এই ফুটওভার ব্রিজটি এখন পুরোপুরি রমরমা বাজার। সন্ধ্যা নামলেই এখানে বসে ফল-সবজির বাজার। 

একইভাবে নিউ মার্কেট এলাকার ব্রিজটি যেন স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শাখা। বছরজুড়ে এই ব্রিজটিও থাকে হকারদের দখলে। দুই পাশে শতাধিকের বেশি দোকান, মাঝের মূল পথটি সংকীর্ণ হয়ে গেছে। পথচারীদের প্রতিনিয়ত এই স্থান দিয়ে রীতিমতো গা বাঁচিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে চলতে হয়। শার্ট-প্যান্ট থেকে শুরু করে মেয়েদের জামাকাপড়, ব্রাশ, বিছানার চাদর, নামাজের টুপি, আতর, তসবিহ, মোজা, চশমা, হাতঘড়ি, মোবাইল ফোনের অ্যাকসেসরিজ, এমনকি ডিম, শাকসবজি, খেজুর, গুড় পর্যন্ত পাওয়া যায় এসব দোকানে। 

মুগদা-কমলাপুর এলাকার ফুটওভার ব্রিজে বসেছে ৫০টির মতো অবৈধ দোকান। গুলিস্তানের ফুটওভার ব্রিজের চিত্রও একই। অনেক জায়গায় ভিক্ষুকরা অর্ধেকের বেশি অংশ দখলে নিয়েছে। ফলে চাপাচাপি করে হাঁটাচলা করতে হয় বলে বেশির ভাগ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই ব্রিজের নিচ দিয়ে রাস্তা পার হতে বাধ্য হন।

পরীবাগ ফুটওভার ব্রিজটি এখন যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ব্যবহার করলেও ব্রিজটির প্রতিটি সিঁড়ি জরাজীর্ণ আর ভাঙাচোরা। লোহা ক্ষয়ে এতে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যেকোনো পথচারী যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। এসব গর্তে কারুর পা পড়লেই নিশ্চিত ভূপাতিত হয়ে জীবন বিপন্ন হয়ে উঠবে। রাতে এই ব্রিজে কোনো বাতি জ্বলে না, ফলে অন্ধকারে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। সেখানে রাতে মাদক সেবনসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ডও চলে। ব্রিজের ওপর এবং এর চারপাশে এ রকম দৃশ্য দেখা গেছে। 

গুলিস্তানের পাতালপথ দিয়ে হাঁটলে বোঝাই মুশকিল এটি পারাপারের রাস্তা, নাকি মার্কেট। মূলত পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য এটি নির্মাণ করা হলেও এই আন্ডারপাস এখন রীতিমতো একটা জমজমাট ইলেকট্রনিকস মার্কেট। ক্রেতা ও দোকানিদের ভিড়ে সেখানে পথচারীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

সাধারণ মানুষের চলাচলের এমন দুঃসহ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন অনেক পথচারী। গুলিস্তানে অফিসগামী রুবেল হোসেন বলেন, “ফুটওভার ব্রিজগুলো এখন আর পার হওয়ার জায়গা নয়। হকাররা দখল করে রেখেছে। কোনো রকমে শরীর বাঁচিয়ে মাঝের সরু পথ দিয়ে চলতে হয়। কখনো আবার সেই পথের মাঝখানে ভিক্ষুকরা বসে থাকে। পথচারীদের ‘পা’ ধরে আটকে রেখে ভিক্ষা চায়। বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে তাই নিচ দিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। এতে ঝুঁকি অনেক, দুর্ঘটনাও ঘটে প্রায়ই।”

ধানমন্ডির গৃহিণী তানিয়া আক্তার বলেন, ‘নিউ মার্কেট ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে গেলে মনে হয় দোকানের ভেতর দিয়ে হাঁটছি। অথচ আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পারাপারের জন্যই তো এগুলো করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ চোখ বন্ধ করে আছে। কারুর যেন কোনো দায়িত্ব নেই।’ 

নিউ মার্কেটে ব্যবসায়িক কাজে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে সবকিছু চাঁদার বিনিময়ে চলছে। হকাররা তো দোকান বসায়, কিন্তু তাদের পেছনে আছে শক্তিশালী গোষ্ঠী। তারা প্রতিদিন চাঁদা তোলে, টাকা নেয়। পথচারীরা ভুক্তভোগী হলেও সমাধান নেই।’

অবশ্য ফুটপাত দখল করা হকারদের পাল্টা যুক্তির শেষ নেই। নিউ মার্কেট এলাকার এক হকার জানান, দোকানের আয়তন অনুযায়ী দৈনিক ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয় স্থানীয় প্রভাবশালী আর প্রশাসনের লোকদের। কারও কারও কাছ থেকে সাপ্তাহিক বা মাসিক হিসেবে চাঁদা আদায় করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা তো এখানে বসতে চাই না, জীবিকার জন্য বসি। টিকে থাকার জন্য চাঁদা দিতেই হয়।’

মিরপুরের এক হকার অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সবাই আমাদের কাছ থেকে নেওয়া চাঁদার টাকায় ভাগ বসান। আমরা যারা গরিব, তাদের টিকে থাকার তো জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে ফুটওভার ব্রিজে তাই দোকান বসাই।’

দায় এড়াচ্ছে কর্তৃপক্ষ
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা দায় এড়িয়ে গেলেন। উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ অভিযান চালালেও রাজনৈতিক প্রভাশালীরা আবারও এগুলো দখল করে নিয়েছেন। এই দখলদারত্বের পেছনে আছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাশালীদের ইন্ধন। তাদের হাতে নগরবাসী জিম্মি। সিটি করপোরেশনও নামেমাত্র অভিযান চালায়। কিছুদিন কড়াকড়ি থাকে, পরে গা ছাড়া ভাব দেখায়। আগের অবস্থায় ফিরে যায় ফুটওভার ব্রিজগুলো। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। 

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি; বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। এটা বন্ধ করতে হলে সবাইকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’ আবার সব স্থানে একসঙ্গে অভিযানও চালানো যাচ্ছে না, বললেন তিনি। তবে কী কারণে বা কাদের জন্য অভিযান সব স্থানে চালানো যাচ্ছে না, এ বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গেলেন। 

তবে এসব ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে চলা ভুক্তভোগী নগরবাসী বলছেন, এসব জনবিরোধী দখল ঠেকাতে হলে সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও স্থানীদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। নগর পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে গেছে। এখন পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের লক্ষ্যে তৈরি ফুটওভার ব্রিজও দখলে চলে গেছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি এবং চাঁদাবাজরা এক হয়ে এসব ফুটব্রিজ দখলে নিয়ে নিয়েছে।’

তিনি এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, ‘চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে, কোনো ছাড় দেবে না; এই ধরনের বার্তা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই দুর্বলতা বুঝতে পেরে চাঁদাবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের এখনই থামানো না গেলে পরে রাজনৈতিক সরকার এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। আমাদের আসলে সংস্কারের মধ্যে নগর উন্নয়নের বিষয়টিও রাখা উচিত। নিশ্চিত হতে হবে যে সরকার নাগরিক সুবিধার দিকগুলোও গুরুত্ব দেবে। চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক চরিত্র এবং সামাজিক চরিত্র না দেখে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে জনগণ স্বস্তি পাবেন।’

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:২৬ এএম
হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন আরও ১ হাজার ১০৯ বাংলাদেশি। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ১৫৬টি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন মোট ৬১ হাজার ৬৯৭ জন বাংলাদেশি হাজি।

দেশে প্রত্যাবর্তনকারী হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫৭ হাজার ৩৭৮ জন।

এদিকে হজ পালন করতে সৌদি আরবে গিয়ে হজ সম্পন্ন হওয়ার আগে ও পরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৫৪ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। মৃতদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা যান।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, ২০ জুন (সৌদি সময়) পর্যন্ত দেশে ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে শীর্ষে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৩৬৩ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ২১ হাজার ৬৫২ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৪ হাজার ১০ জন হাজি।

হজযাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত মোট ১৫৬টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৭৮টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৫৬টি এবং ফ্লাইনাস ২২টি ফ্লাইট।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২৪৯টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ১৯৮টি সেবা দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান।

হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩০ জুন। হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অন্তরা/

জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১০:২৬ এএম
জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সঠিক সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন। প্রায় দশ বছর ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য মোটেও কল্যাণকর নয় এবং রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়। জাতিসংঘ মহাসচিবের মায়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ দাবি তুলে ধরেন। 

শনিবার (২০ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মায়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখান থেকেই খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে দীর্ঘদিন আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর উল্লেখযোগ্য সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা আরো জোরদারের আহ্বান জানান, যেন রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়।

নাঈম/

দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার অবস্থান কত?

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার অবস্থান কত?
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বড় বড় শহরের সঙ্গে সমানতালে বাড়ছে মেগাসিটি ঢাকার বায়ুদূষণও। তবে কখনও কখনও বৃষ্টির কারণে বাতাসে দূষণের মাত্রা কিছুটা কম-বেশি হয়।

শনিবার (১৯ জুন) সকাল সোয় ৯টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের লাইভ র্যাংকিংয়ে ৮৬ স্কোর নিয়ে ঢাকা আছে ১৬তম অবস্থানে। আজ ঢাকার বাতাস  ‘সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত।

বায়ুদূষণে আজকের দিনে বিশ্বের শহরগুলোর তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, যার স্কোর ১৭০। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর ১৬১। পাকিস্তানের শহর লাহোর ১৬০ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসা, এই শহরের স্কোর ১৫৬। ১১৮ স্কোর নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো।

উল্লেখ্য, আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

এছাড়া ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

অন্তরা/

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
বৃষ্টি। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ওপর মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় আট বিভোগের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

শনিবার (২০ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বইতে পারে। সেই সঙ্গে আকাশ বিদ্যুৎ চমকাতে পারে এবং হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। 

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে বৃষ্টি হলেও সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

নাঈম/

রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য
ছবি: প্রতীকী

রাজধানীর পল্টনের আবাসিক হোটেল রমনায় মো. আল আমিন (৪০) নামে এক সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সঙ্গে থাকা এক তরুণীকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার (১৯জুন) দুপুরে অচেতন অবস্থায় সৌদিপ্রবাসী আল আমিনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত আল আমিন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরশাদী এলাকার ফেরদৌস উদ্দীনের ছেলে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সঙ্গে থাকা তরুণীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ থানা হেফাজতে নিয়ে গেছে।
  
তবে পুলিশ বলছে, নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই, তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিয়ে যেতে চায়।হোটেল রমনার বয় (কর্মী) মোহম্মদ হানিফ বলেন, ‘আল আমিন সৌদিপ্রবাসী। তিনি শুক্রবার (গতকাল) সকালে দেশে ফিরে হোটেল রমনা আবাসিকের ৯ তলার ৯২৩ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। তার সঙ্গে একজন তরুণীও ছিলেন। তার নাম সাগরিকা আক্তার। পরে আমরা জানতে পারি, সৌদি আরবে থাকাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাগরিকার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বিগত ছয় মাস তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ওই তরুণী বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার চরকান্দি গ্রামের সবুর শেখের মেয়ে। তিনি গাজীপুর নার্সিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের একজন শিক্ষার্থী।’ 

অন্যদিকে আটক তরুণী সাগরিকা দাবি করেন, ‘আল আমিন ওয়াশরুমে যাওয়ার পর হঠাৎ পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান। ওয়াশরুমের দরজা খোলা ছিল এবং আল আমিন মেঝেতে পড়ে ছিলেন। পরে তার চিৎকারে হোটেলের বয় হানিফসহ কর্তৃপক্ষ এগিয়ে যান। পরে তারা সবাই মিলে আল আমিনকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।’

গতকাল রাত সোয়া ৮টার দিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদেকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘মরদেহের সুরতহাল এখনো শেষ হয়নি। তবে নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই, তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিয়ে যেতে চায়। তবে সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখি, তারা কী নির্দেশনা দেন।’

ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘নিহত সৌদিপ্রবাসী আল আমিনের বন্ধুর বোন সাগরিকা। সাগরিকার ভাইও সৌদি আরবে থাকেন। সেখান থেকে কিছু জিনিস আল আমিনকে দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। সেসব নিতে সাগরিকা ওই হোটেলে গিয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক জানিয়েছেন, আল আমিন স্ট্রোক করে মারা গেছেন।’