চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল কারখানার ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।
আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং নৌবাহিনীর ১৯টি ইউনিট।
আগুনের ভয়াবহতা, ফায়ার সার্ভিসের কাজের সীমিত সুযোগ এবং ভবনের ভেতরে থাকা কেমিক্যালের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।
এরআগে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। নয়তলা ভবনের সপ্তম তলায় প্রথম আগুন দেখা যায়। দুপুরে বিরতির সময় হওয়ায় শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে ছিলেন না। এ ছাড়া উপরের অষ্টম ও নবম তলা গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যেখানে তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক শ্রমিক কাজ করতেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আগুনের তাপ প্রায় আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। কিছুক্ষণ পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। আগুনের লেলিহান শিখা আকাশের বিশাল অংশ আলোকিত করে তোলে। প্রায় অর্ধসহস্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়ন্ত্রণ কাজে অংশ নেন। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করেন। চারপাশে উৎসুক জনতার ভিড় নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তা বাহিনীকে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, আগুন লাগা ভবনে প্যাকেজিং, তুলা, কেমিক্যাল ও ফেব্রিকসহ বিভিন্ন কারখানা ছিল।
সিইপিজেডে অবস্থিত ওই ভবনে আগুন লাগার পর সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধীরে ধীরে নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুরো ভবন অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়। তখন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মূলত আশপাশের ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধে কাজ করেন। এরপরও একই কোম্পানির পাশের একটি চারতলা ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রামের উপপরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আগুনের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে। আগুন উপর থেকে লাগায় নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছিল। ভোর ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনও কাজ করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি।’
চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক আবদুস সোবহান খবরের কাগজকে বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। ওই কারখানায় বেশি শ্রমিক কাজ করতেন না। দুপুরের দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় শ্রমিকরা বিরতির সময় কারখানার বাইরে ছিলেন।’
রিফাত/