ফ্লুয়েড দিয়ে একটি সংখ্যা মুছে দিয়েই হোল্ডিং মালিকের ২০ কোটি টাকা বাঁচিয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তিন কর্মকর্তা। তাতে সিটি করপোরেশন বড় ধরনের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হোল্ডিং মালিকের যোগসাজসে এই ঘটনা ঘটে বলে সংস্থাটির তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযুক্ত সংস্থার নাম এছহাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ।
তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, এছাক ব্রাদার্সের হোল্ডিং-এর জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন গৃহকর নির্ধারণ করে ২৬ কোটি ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ টাকা। এনিয়ে এছাক ব্রাদার্সের পক্ষ থেকে আপিল করা হয়।
আপিল রিভিউ বোর্ডে উপস্থাপনের সময় ওই পৌরকরের ‘ফিল্ড বুক’ থেকে ‘২’ মুছে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ঘষামাজা করে ২০ কোটি টাকা কমিয়ে উপস্থাপন করা হয় ৬ কোটি ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ টাকা। এছাক ব্রাদার্সের যোগসাজসে জালিয়াতি করেন কর কর্মকর্তা নুরুল আলম, উপ–কর কর্মকর্তা জয় প্রকাশ সেন। দায়িত্ব অবহেলা করেছেন হিসাব সহকারী আহসান উল্লাহ্।
দীর্ঘ ১০ মাস পর সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তদন্ত কমিটি চসিক মেয়রের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাদা ফ্লুইড ব্যবহার এবং ঘষামাজা করে প্রকৃত বার্ষিক মূল্যায়ন পরিবর্তন করে ২০ কোটি টাকা কমিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রতিবেদনে যাকে যতটুকু দায়ী করা হয়েছে সে ততটুকু শাস্তি পাবে। তবে আগের মেয়রদের আমলে এই অনিয়ম হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৭–২০১৮ অর্থবছরে পৌরকর নির্ধারণের বার্ষিক মূল্যায়নটি হয়। আপিল রিভিউ বোর্ডের শুনানি হয় ২০২১ সালের ১৩ জুন। পরবর্তীতে অডিটে বিষয়টি ধরা পড়লেও আমলে নেননি চসিকের তৎকালীন মেয়রসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘষামাজা করে প্রকৃত বার্ষিক মূল্যায়ন পরিবর্তন করার বিষয়ে প্রকৃত অপরাধী সনাক্ত করার জন্য নির্দেশনা দেন। এর প্রেক্ষিতে গত ১৩ জানুয়ারি ৪ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। ৩১ জানুয়ারি আকার বৃদ্ধি করে পাঁচ সদস্যে উন্নীত করা হয়।
চসিকের আইন কর্মকর্তা মহিউদিন মুরাদকে আহ্বায়ক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরীকে সদস্যসচিব করে গঠিত এ তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন– নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা, শিক্ষা কর্মকর্তা রাশেদা আক্তার ও ৮নং রাজস্ব সার্কেলের কর কর্মকর্তা আব্দুল মাজিদ।
অমিয়/