ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনি সংলাপ শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সূত্রে জানা গেছে, কেবল নিবন্ধন স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগ ছাড়া বাকি ৫৩ দল ইসির এই সংলাপে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পাচ্ছে।
এদিকে গতকাল বুধবার গণঅধিকার পরিষদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিতে দাবি জানিয়েছে, বিলুপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মী যেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, ইসিকে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, সংলাপের মাধ্যমে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), আচরণবিধি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যান্য বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হবে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের পঞ্চম তলার সম্মেলন কক্ষে এই নির্বাচনি সংলাপের আয়োজন করেছে সংস্থাটি। আজ প্রথম দিন ১২টি নিবন্ধিত দল সকালে ও বিকেলে দুই ধাপে নির্বাচনি সংলাপে অংশ নেবে।
সংলাপের প্রথম ধাপে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা সংলাপে অংশ নেবেন।
দ্বিতীয় দফায় দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংলাপে অংশ নেবেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) দলের প্রতিনিধিরা।
সংলাপ কার্যক্রম ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। দেশে বর্তমানে ৫৩টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত এবং তিনটি দলের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। নতুন আরও তিনটি দলের নিবন্ধন ১২ নভেম্বর চূড়ান্ত হওয়ার কথা। গত ২৮ নভেম্বর শুরু হয় ইসির এই নির্বাচনি সংলাপ। সে সময় সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবী, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, নারী নেত্রী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সংলাপ করেছে সংস্থাটি। এবার শেষ ধাপে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করেছে ইসি।
এদিকে নির্বাচনি সংলাপের আগে গতকাল গণঅধিকার পরিষদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। পরে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানিয়েছেন, স্মারকলিপিতে আগামী নির্বাচনে বিলুপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার দাবি জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, ‘যদি আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেন তবে দলটি তার অর্থায়ন করবে এবং নির্বাচন অস্থিতিশীল করতে কাজ করবে। সে জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মী যেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
সংলাপের বিষয়ে ইসি সচিব মঙ্গলবার জানিয়েছেন, এ মাসের মধ্যেই দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় কার্যক্রম তারা শেষ করতে চান যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো যায়। এবারের সংলাপে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), আচরণবিধিসহ সুষ্ঠু নির্বাচনের নানা দিক নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হবে।’
ইসি জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের জন্য তাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।