অন্তর্বর্তী সরকার ‘উগ্র ডানপন্থি শক্তিকে বিভিন্নভাবে মদদ যুগিয়ে’ দেশকে ‘নতুন বিপদের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতারা।
মানিকগঞ্জে বাউলদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে রবিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠান সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন।
দেশব্যাপী পীর-ফকির, বাউল, মাজারপন্থী আউলিয়াদের ওপর অব্যাহত হামলা, গ্রেফতার, নির্যাতনের ঘটনায় সরকারকে অভিযুক্ত করে সিপিবি নেতারা বলেন, মানিকগঞ্জে আজকের ঘটনায় দেখা গেছে সন্ত্রাসীদের সাথে যৌথভাবে পুলিশ সদস্যরাও সহিংসতায় নিয়োজিত ছিল। তার মানে, সরকার পুলিশকে সন্ত্রাসের পক্ষে ব্যবহার করছে।
ক্ষুব্ধ সিপিবি নেতারা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা গত বছর আগস্ট মাসে অঙ্গীকার করেছিলেন তার সরকার পরিচালনার লক্ষ্য হবে অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রক্ষা করার কথা বলেছিলেন। কিন্ত বাস্তবতা হল, তিনি সেই অঙ্গীকার বিস্মৃত হয়েছেন।
মানিকগঞ্জে বাউল গানের আসর থেকে প্রখ্যাত বাউল সাধক আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার এবং জেলা আদালত চত্বরে তার সমর্থকদের উপর ‘তৌহিদি জনতা’ নামধারী উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠীর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। যৌথ বিবৃতিতে উদীচীর সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, ‘এদেশে সবাই যার যার মত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করবেন- সেটি ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা। অথচ, অভ্যুত্থানের পর থেকেই অন্ধকারের অপশক্তি সেই চেতনার সরাসরি বিরোধিতা করে আসছে। সেই সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী অপশক্তি এদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চা বন্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে যারা প্রগতিশীল সংস্কৃতি চর্চায় বাধা দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশ ও প্রশাসনের সমালোচনা করেন উদীচীর নেতারা।
মৌলবাদী অপশক্তিকে প্রতিহত করে দেশে অবিলম্বে সংস্কৃতি চর্চার অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে উদীচী।
জয়ন্ত সাহা/