সরকারের কঠোর নির্দেশের তোয়াক্কা না করে তিন দফা দাবি আদায়ে অনড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। তারা পূর্ব ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজধানীসহ দেশের জেলা পর্যায়ে অনেক বিদ্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলছে, বন্ধ থাকছে বার্ষিক পরীক্ষা। তবে কোথাও কোথাও ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা নিজেরাই বার্ষিক পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন। কোথাও কোথাও ইউএনও, প্রধান শিক্ষক, অফিস সহকারী ও নৈশপ্রহরীদের সহায়তায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষা নিতে গিয়ে পিরোজপুরসহ কয়েকটি স্থানে অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে একাধিক শিক্ষককে শোকজও করা হয়েছে।
শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় হযবরল অবস্থা তৈরি হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংগঠনের আহ্বায়ক খায়রুন নাহার লিপি। ইতোমধ্যে এই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। তিনি গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে শাটডাউনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।’ শোকজ নোটিশ ও মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও শিক্ষকদের আন্দোলনে ভাটা পড়েনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, কর্মসূচি থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে- শিক্ষকরা পরীক্ষা না নিলে সরকারি চাকরি আইন, আচরণবিধি ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, শিক্ষকদের গ্রেড-সংক্রান্ত ফাইল অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং পে-কমিশনের রিপোর্ট পাওয়ার পর বেতন স্কেল উন্নীতকরণ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে শিক্ষক সংগঠনগুলোর দাবি, এসব প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো ফল নেই।
প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো- জাতীয় বেতন স্কেলে আপাতত ১১তম গ্রেড দেওয়া, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডপ্রাপ্তির জটিলতার নিরসন এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি দেওয়া। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে আছেন (শুরুর মূল বেতন ১১ হাজার টাকা)। তিন দফা দাবি আদায়ে সহকারী শিক্ষকরা গত বুধবার থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক আনোয়ার উল্যাহ বলেন, ‘২২ দিন অপেক্ষার পরও কোনো বাস্তব অগ্রগতি না দেখে আমরা বাধ্য হয়েই শাটডাউনে গেছি। সরকারের কাছ থেকে দাবি বাস্তবায়নের স্পষ্ট সময়সীমা ছাড়া আন্দোলন স্থগিত করার প্রশ্নই ওঠে না।’
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সেখানে কর্মরত ৩ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষকের বড় অংশই সহকারী শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেডে উন্নীত হলেও সহকারী শিক্ষকরা এখনো ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। দাবি আদায়ে এখন শিক্ষকদের কর্মবিরতি চলছে।
এমন অচল অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। তারা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে শিশুরা মানসিক চাপে পড়ছে। একদিকে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা না দিতে পারা, অন্যদিকে আবার হঠাৎ করে অন্যের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া- সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে।
গতকাল শেরপুর, রংপুর, ঝালকাঠি, মাগুরা, নেত্রকোনা, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা সকালে পরীক্ষা দিতে এসে দেখেছে বিদ্যালয়ের দরজায় তালা। পরে তালা ভেঙে অনেক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী ও অভিভাবকদের সহায়তায় এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিছু এলাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে তালা খুলে পরীক্ষা পরিচালনা করে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।
শেরপুর: শেরপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গতকাল দাবি আদায়ে শ্রেণিকক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে পরীক্ষা বর্জন করলেও শ্রীবরদী উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শ্রেণিকক্ষের তালা ভেঙে পরীক্ষার কার্যক্রম চালু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে শ্রেণিকক্ষের তালা ভেঙে তিনি পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নূরন নবীসহ অনেকেই।
এ সময় অভিভাবক হালিম মিয়া বলেন, ‘হুটহাট করে শিক্ষকরা পরীক্ষা নেওয়া বন্ধ করবেন, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বার্ষিক পরীক্ষা দিতে না পেরে শিশুরা মানসিক চাপে পড়েছে।’
আরেক অভিভাবক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমি বলব এটা আন্দোলন না, এটা শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা। সরকারকে কঠোর হতে হবে। কিছু হলেই আন্দোলন তা ঠিক না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করা, এটা কেমন আন্দোলন আপনারাই বলেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ বলেন, ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জরুরি নির্দেশ দিয়ে শিক্ষকদের অবিলম্বে পরীক্ষায় ফিরতে বলেছে। একই সঙ্গে শাটডাউন বা কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে সরকারি চাকরি আইন, আচরণবিধি ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা না নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে, এ তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
রংপুর: একদিকে অফিস কক্ষে বসে সহকারী শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন। অন্যদিকে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে অভিভাবকরা ভাগ হয়ে নিজেদের সন্তানদের পরীক্ষা নিচ্ছেন। তাদের সহযোগিতা করছেন স্কুলের অফিস সহকারীরা। এমন চিত্র দেখা গেছে গতকাল রংপুর কারমাইকেল কলেজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
একই চিত্র নগরের কেরানিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোমস্তারাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ রংপুরের বিদ্যালয়গুলোতে।
অভিভাবকরা বলছেন, পরীক্ষার কক্ষে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি মর্মাহত করেছে এবং হতাশা বাড়ছে। ওই বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে এমন এক শিক্ষার্থীর মা স্বপ্না বেগম দাঁড়িয়ে পরীক্ষা নিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম দিন থেকে শিক্ষকরা পরীক্ষা না নেওয়ায় আমরা অভিভাবকরা নিজেরাই এমন উদ্যোগ নিয়েছি। বাচ্চাদের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ এখন পরীক্ষা দেবে। এমন সময়ে এসে শিক্ষকদের এমন সিদ্ধান্ত অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের বিপাকে ফেলেছে।’
আর এক অভিভাবক মাহমুদা আক্তার নিধি বলেন, ‘পরীক্ষা নেওয়া দরকার, কারণ বাচ্চারা এতদিন পড়াশোনা করেছে। বাচ্চাদের সময় নষ্ট হচ্ছে তাই আমরাই পরীক্ষা নিচ্ছি।
সুমি আক্তার বলেন, ‘ম্যাডামরা পরীক্ষা নিচ্ছেন না তাই বাধ্য হয়ে আমরা অভিভাবকরা নিচ্ছি।’
পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া সিদরাতুল মুনতাহা বলে, ‘ম্যাডামরা না থাকায় অনেকে দেখাদেখি করে লিখছে। অভিভাবকদের কেউ ভয় করছে না। তাই আমাদের ম্যামদের দরকার ছিল।’
পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করা শিক্ষকদের একজন আসমা বেগম বলেন, ‘নভেম্বর মাস থেকে তিন দাবি নিয়ে আন্দোলন চলছে। উচ্চতর গ্রেড বন্ধ হয়ে আছে- এটা প্রাণের দাবি। প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের অনেক ফারাক হয়ে গেছে, এটা অপমানজনক। আমরা সম্মানজনক গ্রেড পাচ্ছি না। সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়। আমাদের মূল্যায়ন একেবারে কম। ওপর মহল থেকে আশ্বাস পেলে আমরা কাজ করব।’
প্রধান শিক্ষক সানজিদা সুলতানা বলেন, ‘প্রশ্ন থেকে শুরু করে সব হাতে পেয়েছি তাই বাচ্চাদের যাতে ক্ষতি না হয় অভিভাবকদের দিয়ে পরীক্ষা নেওয়াচ্ছি। তারা যদি তাদের কর্মবিরতি তুলে না নেন, তাহলে এভাবেই পরীক্ষা শেষ করব, যাতে বাচ্চাদের সুবিধা হয়।’
ঝালকাঠি: ঝালকাঠির রাজাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আখতার হোসেনের নেতৃত্বে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন চললেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ প্রথম বিবেচ্য। পরীক্ষা পেছালে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হতো। প্রশাসনের সহায়তায় আমরা পরীক্ষা পরিচালনা করেছি। পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
পরীক্ষা নেওয়ার খবর পেয়ে রাজাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি। তিনি বলেন, ‘শিশুদের শিক্ষাজীবন থেমে থাকা উচিত নয়। এখানে এসে দেখি শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকট দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।’
মাগুরা: মাগুরায় শিক্ষক আন্দোলনের প্রভাব পড়লেও জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করায় জেলায় ৫৯২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৯৪টিতে সফলভাবে গতকাল বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের নিবিড় তদারকি না থাকলে এত বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হতো না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে মাগুরা সদর ও মহম্মদপুর উপজেলার আটটি বিদ্যালয়ে গতকাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের একটি অংশ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জন করায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
দিনাজপুর: গতকাল জেলার ১ হাজার ৮৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা যায়- শিক্ষার্থীরা যথারীতি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, শিক্ষকরা পরীক্ষা পরিচালনায় ব্যস্ত। যদিও আন্দোলনরত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শাটডাউনের ঘোষণা ছিল, বাস্তবে অধিকাংশ বিদ্যালয়েই তা কার্যকর হয়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বি এম শাজাহান সিদ্দিকী জানান, দিনাজপুরে সবকটি বিদ্যালয়ে কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা বন্ধ রাখার কোনো কারণ নেই। আমরা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি- যদি কেউ পরীক্ষা গ্রহণে অনাগ্রহ দেখায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে দু-একটি বিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষক পরীক্ষার কাজে অংশ নিতে অনীহা দেখান এবং কোথাও কোথাও বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। খবর পেয়ে প্রশাসন তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।
নেত্রকোনা: জেলার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের মাইলোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নিজে পরিচালনা করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাদা ওসমানী। এ জন্য তিনি অভিভাবক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। প্রধান শিক্ষক বলেছেন, শিশুদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তিনি এ পদক্ষেপ নেন।
তিনি বলেন, ‘সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলন চলছে। তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। এদিকে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ হলে নতুন বর্ষের সিলেবাসে চালু করা কঠিন হবে। তা ছাড়া শিশুরা সন্তানের মতো, ওদের ভবিষ্যতের প্রতি নজর থাকা প্রয়োজন। এ ছাড়া ওপর থেকে কড়া নির্দেশও রয়েছে।’
তবে অভিভাবকদের একাংশ দাবি করেছেন, নামমাত্র পরীক্ষা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দেখে দেখে খাতায় লিখেছে। সহকারী শিক্ষকরা থাকলে যে পরিবেশে পরীক্ষা চলত তেমনটি হচ্ছে না। অন্যদিকে কয়েকজন অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষককে ধন্যবাদ দিতে হয়। তিনি পরীক্ষা চালাতে গিয়ে একাই অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। তা না হলে পরীক্ষা বন্ধ থাকত।