ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ডিভোর্স হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়: এমপি সিরাজ জেন্ডার বাজেট বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা-ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন অধিকারকর্মীদের সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা দেম্বেলে রহস্য! ঘানাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার রাশফোর্ডের নাটোরে এক গ্রামেই ৪ শতাধিক ঘরজামাই! ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার? বিশ্বকাপে মিশরকে প্রথম ম্যাচ জয় উপহার দিয়ে উচ্ছ্বসিত সালাহ ঘরছাড়া মানুষের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে ভাইরাল ভেড়া অপরাধ নির্মূলে কার্যকর ভূমিকার বিকল্প নেই চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা ‘মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছি’- ড্রেসিংরুমে ইরানের বার্তা যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম চকরিয়ায় সৌদিয়া বাস উল্টে আহত ৭ আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হবে ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে আগুন

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: মৃত্যুর আগে বিচার দেখে যেতে চান বাবা-মা

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: মৃত্যুর আগে বিচার দেখে যেতে চান বাবা-মা
ফেলানীর কবরের পাশে তার বাবা-মা। ছবি: খবরের কাগজ

‘জীবন তো শ্যাষ। আর কতদিন বাঁচমু। মেয়ে হত্যার বিচারটা দেইখা যাইতে চাই’–বলছিলেন ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু। গতকাল মঙ্গলবার ফেলানীদের বাড়িতে গেলে এ কথা বলেন তিনি।

১৫ বছর আগে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নির্মমভাবে মারা যায় কিশোরী ফেলানী। কাঁটাতারে তার লাশ ঝুলে থাকে দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টা। ১৫ বছর হয়ে গেলেও ফেলানী হত্যার বিচার সম্পন্ন করেনি ভারত।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনিটারী গ্রামের দরিদ্র নুরুল ইসলাম পেটের তাগিদে আর ১০ জনের মতো পাড়ি জমান ভারতে। পরিবার নিয়ে থাকতেন ভারতের বঙ্গাইগাঁও এলাকায়। নুরুল ইসলামের বড় মেয়ে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হয় বাংলাদেশে। বিয়ের উদ্দেশে নিজ দেশে ভারতের কাঁটাতার টপকে আসতে হবে তাদের। ৭ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্তে মই বেয়ে কাঁটাতার টপকান ফেলানীর বাবা। পরে কাঁটাতার টপকানোর চেষ্টা করে ফেলানী। এ সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় মেয়েটি। কাঁটাতারে ঝুলে থাকে তার লাশ। এ ঘটনায় গণমাধ্যমসহ বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত। বিশ্বব্যাপী তোলপাড়ের পর ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। বিএসএফের এ আদালতে সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ও মামা হানিফ। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আসামি অমিয় ঘোষকে খালাস দেন বিএসএফের বিশেষ আদালত। রায় প্রত্যাখ্যান করে পুনর্বিচারের দাবি জানান ফেলানীর বাবা। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনর্বিচার শুরু হলে ১৭ নভেম্বর আবারও আদালতে সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা। ২০১৫ সালের ২ জুলাই এ আদালত পুনরায় আত্মস্বীকৃত আসামি অমিয় ঘোষকে খালাস দেন। রায়ের পর একই বছর ১৪ জুলাই ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) ফেলানীর বাবার পক্ষে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন করে। ওই বছরের ৬ অক্টোবর রিট শুনানি শুরু হয়। ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে কয়েক দফা শুনানি পিছিয়ে যায়। ২০২০ সালের ১৮ মার্চ করোনা শুরুর আগে শুনানির দিন ধার্য হলেও তা হয়নি এখনো। পরে বিএসএফের বিশেষ আদালতে দুই দফায় বিচারিক রায়ে খালাস দেওয়া হয় অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে। হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছরেও সুষ্ঠু বিচার পায়নি ফেলানীর পরিবার। পরবর্তী সরকারের কাছে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে সঠিক বিচার পাবেন বলে প্রত্যাশা তাদের। 

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ফেলানী হত্যার ১৫ বছর হয়ে গেল, এখন পর্যন্ত বিচার পাই নাই। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে বিচারটা নিয়া গেলাম, কয়েকবার শুনানির তারিখ দিলেও তা পিছিয়ে গেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর বিচার মরার আগে দেখে যেতে চাই। সামনে যেহেতু ভোট, যে সরকারই আসুক, ফেলানী হত্যার বিচার যেন করে।’ তিনি বলেন, ‘জীবন তো শ্যাষের দিকে। আর কত বাঁচমু। মেয়ের বিচারটা দেখে যেতে চাই। তাহলে শান্তি পাব।’ তিনি বলেন, ‘এখন আমার মামলার কোনো আইনজীবী নাই। সরকারের কাছে একজন আইনজীবী চাই। তিনি আমার মামলা দেখবেন।’

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘অনেকবার মেয়ে হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ফল পাইনি। ভোটে যেই আসুক, আমার মেয়ে হত্যার বিচারটা যেন করে। আমার মেয়ের বিচার হলে কাঁটাতারে আর কেউ ঝুলবে না। আমার মতো কোনো মায়ের বুক খালি হবে না।’ 

কুড়িগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম বলেন, ভারত সরকার যদি খুব দ্রুত এই আপিলটি নিষ্পত্তি করে, ফেলানী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং দায়ী যে বিএসএফ সদস্য তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়, তাহলে ভারতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। সীমান্ত হত্যা অনেকাংশে কমে যাবে।

ফেলানীর পর কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৩ ভারতীয়সহ ৩০ জনের মৃত্যু
সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, ফেলানী হত্যাকাণ্ডের পর কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্তে দুই ভারতীয়সহ ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক। জেলার ফুলবাড়ীতে ২০১১ সালে ফেলানী ও মিঠু মিয়া, ২০১২ সালে আলমগীর হোসেন, ২০১৪ সামছুল হক ও মুকুল মিয়া, ২০১৫ সালে শ্যামল চন্দ্র বাদ্যকার, ওই বছর উলিপুরে বায়েজিদ হোসেন, ২০১৯ সালে ভারতীয় নাগরিক সবুর মিয়া, নাগেশ্বরীতে ২০১৯ সালে আবুল হাসেম, ২০২০ সালে ছবিল উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, একই বছর রৌমারীতে হাসিনুর রহমান, ২০১৬ সালে ফুলু মিয়া, তাহারুল ইসলাম, নুরুল আমিন, নুর ইসলাম, বাহারুল ইসলাম, মনসের আলী, ২০২০ সালে খয়বর আলী, শাহিনুর রহমান ফকির চাঁদ, আখিরুল ইসলাম, ২০২১ সালে হাসিবুর রহমান, সহিবর রহমান, রাশেদুল ইসলাম, ভারতীয় নাগরিক মোহাম্মদ আলী, ২০১৬ সালে ভূরুঙ্গামারীতে আব্দুল বারেক, ২০১৭ সালে জাহাঙ্গীর আলম ও ২০১৯ সালে ভারতীয় নাগরিক আখেরুল ইসলাম নিহত হন। ২০২২ সালের ৩ জুলাই ভারত থেকে আসার সময় ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের ধাওয়ায় নদী পার হতে গিয়ে ভাইবোন ভেসে যায়। দুই দিন পর তাদের লাশ মেলে। ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রৌমারী সীমান্তে গুলিবিদ্ধ একজনের লাশ উদ্ধার হয়। সবার ধারণা, বিএসএফের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। 

ডিভোর্স হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়: এমপি সিরাজ

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
ডিভোর্স হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়: এমপি সিরাজ
বগুড়া-৫ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে অবিচ্ছেদ্য উল্লেখ করে বগুড়া-৫ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ বলেছেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ডিভোর্স হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ডিভোর্স সম্ভব নয়। 

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জিএম সিরাজ বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে প্রতিবেশী এবং এই সম্পর্ক কোনোভাবেই অস্বীকার করা সম্ভব নয়। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন।’ 

তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী, আবার আমরাও ভারতের প্রতিবেশী। তাই পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য প্রসঙ্গেও তিনি কথা বলেন, ‘নতুন হাইকমিশনার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কাব্যিক ভাষায় ইতিবাচক মন্তব্য করলেও দেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতবিরোধী নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেন এই বিরূপ মনোভাব তৈরি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’

সীমান্ত পরিস্থিতি ও মাদক সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সীমান্তে ‘পুশইন’ বা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি মাদক চোরাচালান রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, মাদক দেশের যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের ধ্বংস করছে।’ 

তিনি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিরোধ নয়, বরং দুই দেশের মানুষের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।’

এলিস/রিফাত/

জেন্ডার বাজেট বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা-ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন অধিকারকর্মীদের

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
জেন্ডার বাজেট বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা-ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন অধিকারকর্মীদের
ছবি: খবরের কাগজ

জেন্ডার বাজেটে সংখ্যাতাত্ত্বিক বরাদ্দ বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সহিংসতা মোকাবিলা এবং তৃণমূল নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকার চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে বলে অভিযোগ এনেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও নারীনেত্রীরা। তাদের মতে, জেন্ডার বাজেটের মূল বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে’ বরাদ্দ কমিয়ে নারীর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর ফার্মগেটে ডেইলি স্টার ভবনে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত ‘২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জেন্ডার বাজেট: নারীসমাজের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরমিন্দ নীলোর্মি।

আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিপিডি-র রিসার্স অ্যাসোসিয়েট প্রীতিলতা হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক তানিয়া হক, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু, জেন্ডার বাজেট ও প্ল্যানিং বিশেষজ্ঞ নিলুফার করিম ও প্রাগ্রসরের নির্বাহী পরিচালক ফৌজিয়া খন্দকার।  

অধ্যাপক ড. শরমিন্দ নীলোর্মি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জেন্ডার সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫৯ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ গত অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৫ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা থাকলেও, এবারের প্রস্তাবনায় তা ১৭৫ কোটি টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ১৯৬ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

বক্তারা বলেন, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা যখন চরমে, তখন এই খাতে বরাদ্দ কমানো নারীর প্রতি চরম অবহেলা। সরকারি পরিষেবা খাতে আইনগত সহায়তা ও সুরক্ষা খাতের আওতা সংকুচিত করা হয়েছে। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ এবং নির্যাতিত নারীদের শেল্টার হোম বাড়ানোর মতো অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলো বাজেট প্রস্তাবে উপেক্ষিত থেকে গেছে।

সিপিডির রিসার্স অ্যাসোসিয়েট প্রীতিলতা হক বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের হার গতবারের ৮০ শতাংশ থেকে নেমে ৬৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শিশু স্বাস্থ্যে ২২ শতাংশ এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এসএমপি কার্যক্রমে ৬৬ শতাংশ বরাদ্দ কমানো হয়েছে, যা নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে। এ ছাড়া গৃহস্থালিতে নারীর মজুরিহীন সেবামূলক কাজের স্বীকৃতির কোনো প্রতিফলন এবারের বাজেটে নেই।

বক্তারা বলেন, সম্পদ বন্ধক রাখা ছাড়া নারীদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ নেই। অথচ উত্তরাধিকার আইনে নারীর সমান অধিকারের সুযোগ নেই। এই বৈষম্য দূর না করলে নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়।

নারী অধিকারকর্মীদের ভাষ্যে, বাজেট প্রণয়নকারীদের জেন্ডার বাজেট সম্পর্কে ধারণাগত সীমাবদ্ধতা ও অনীহা রয়েছে। তারা বিষয়টিকে বস্তুগতভাবে না দেখে ব্যক্তিগতভাবে (সাবজেক্টিভ) দেখছেন। জেন্ডার বাজেটের টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে, তা নারী উন্নয়ন নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তার কোনো খতিয়ান বা মূল্যায়ন রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না।

বৈঠকে বক্তারা দাবি করেন, জেন্ডার বাজেটের নামে কেবল প্রকল্পনির্ভর ব্যয় না করে নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার ফোকাল পয়েন্টের তথ্য ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রাখা, সরকারি কর্মকর্তাদের জেন্ডার সংবেদনশীল প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এবং জেন্ডার লেন্স ব্যবহার করে বাজেট প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম

সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়া এবং বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ার ঘটনায় সংসদে বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্নের নোটিশ উত্থাপন করেছেন শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনের শুরুতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিষয়টি সংসদে উপস্থাপন করেন।

নোটিশে রাশেদুল ইসলাম রাশেদ উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ ও অন্যান্য অংশ দিয়ে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ছে এবং অবকাঠামোগত বিভিন্ন ত্রুটি দৃশ্যমান হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কার্যকারিতা অক্ষুণ্ন রাখতে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্পিকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে সংসদ সচিবালয়-সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় কার্যপ্রণালি বিধির ৫৪(৩) অনুযায়ী নোটিশটি বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্নের প্রশ্ন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিন স্পিকার আরও জানান, চলতি অধিবেশনে এ পর্যন্ত মোট ছয়টি বিশেষ অধিকার প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে চারটির সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে সংসদকে জানানো হয়েছে।

একই দিনে জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান সংসদ সদস্যদের পরিচিতি সহজ করতে টেলিভিশন সম্প্রচারে সদস্যদের নাম ও নির্বাচনি এলাকার নাম প্রদর্শনের দাবি জানান। তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশনের সম্প্রচারে কেবল সদস্যদের চেহারা ও বক্তব্য দেখা যায়, কিন্তু পরিচয় জানা যায় না। স্পিকার এই প্রস্তাবকে যুক্তিযুক্ত আখ্যা দিয়ে সংসদ সচিবালয়কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে এই নোটিশটিও বিশেষ অধিকারের আওতাভুক্ত না হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়নি।

এলিস/রিফাত/

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ইতিবাচক রূপান্তরে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের দুঃশাসন দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে যে গভীর সংকটে ফেলেছিল, সেখান থেকে উত্তরণে তরুণ প্রজন্মকে বইপাঠের মাধ্যমে আলোকিত মানুষ হতে হবে।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে ‘জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম ২০২৬’-এর সনদ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ একসময় গৌরবময় ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত ছিল। বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে আমরা সাময়িক পিছিয়ে পড়লেও জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে দেশকে আবারও শ্রেষ্ঠত্বের আসনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’

ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসন আমাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে ‘জেন-জি’ একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, তা বাস্তবায়নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং মাদকের বিস্তার রোধ বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা কোনো ধরনের আপোশ করব না। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা হবে অগ্রণী।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, ‘জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। বই পড়ার অভ্যাস একজন মানুষকে আলোকিত করে এবং জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলে। দেশের গণগ্রন্থাগারগুলোর উন্নয়নে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

করোনাকালীন সংকটের সময় যাত্রা শুরু করা ‘জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম’ এখন জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। এবারের আয়োজনে দেশের ৯টি গ্রন্থাগারের ৬৪৭ জন পাঠক অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দুই ক্যাটাগরিতে ২০ জন সেরা পাঠককে পুরস্কার প্রদান করা হয়। ‘ক’ ক্যাটাগরিতে (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) পড়তে হয়েছিল হুমায়ূন আহমেদের সায়েন্স ফিকশন ‘তোমাদের জন্য ভালোবাসা’। ‘খ’ ক্যাটাগরিতে পড়তে হয়েছিল (একাদশ শ্রেণি ও তদূর্ধ্ব) জহির রায়হানের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বইপ্রেমী পাঠক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম

শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: সংগৃহীত

শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, এমপি। 

তিনি বলেন, ‘শিশু কীভাবে শিখবে এবং শিক্ষক কীভাবে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন, তার ভিত্তি তৈরি করে পাঠ্যক্রম। তাই প্রাথমিক শৈশব বিকাশে পাঠ্যক্রম সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশের স্বাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ে (আইইউবি) আয়োজিত ‘প্রাথমিক শৈশব বিকাশ বিষয়ে জাতীয় সংলাপ: নীতি ও বাস্তবচর্চা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়টির ফার্মেসি ও জনস্বাস্থ্য অনুষদের অধীন জনস্বাস্থ্য বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের শেখার প্রক্রিয়ায় মুখস্থনির্ভরতা ও পরীক্ষার ফলাফলের চেয়ে চিন্তাশক্তি, কৌতূহল, যোগাযোগ দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার এবং শিক্ষা পদ্ধতির আধুনিকায়নে সরকার কাজ করছে। শিশুর প্রাথমিক বিকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ের অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সংলাপ আয়োজন করায় তিনি আইইউবির প্রশংসা করেন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন, ট্রাস্টি জাভেদ হোসেন এবং জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ।

ফরিদ আহমদ বলেন, ‘প্রাথমিক শৈশব বিকাশ শুধু বিদ্যালয় বা সরকারের দায়িত্ব নয়; এতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। এটি শুধু শ্রেণিকক্ষ বা অবকাঠামোর বিষয় নয়; বরং শিশুদের শেখা, বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়।’

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ‘শিশুর প্রাথমিক বিকাশ ও উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও অংশীজনদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আইইউবি অত্যন্ত আগ্রহী।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শৈশব বিকাশ নেটওয়ার্কের (বিইএন) সহসভাপতি মাহমুদা আখতার। তিনি প্রাথমিক শৈশব বিকাশের গুরুত্ব এবং প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

আইইউবির ফার্মেসি ও জনস্বাস্থ্য অনুষদের ডিন ডা. কামরান উল বাসেত শিক্ষক উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে আরেকটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং পরে উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন। এতে সরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন আইইউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ. লুন্ড। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জনস্বাস্থ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. তানভীর আহমেদ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বিলকিস বানু।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শৈশব বিকাশ নেটওয়ার্ক (বিইএন) শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। আইইউবি এ নেটওয়ার্কের নির্বাহী সদস্য।

রিফাত/