মাদকে আসক্ত ব্যক্তি পরিবার ও সমাজের জন্য বোঝা। সারা দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যে বা যারা মাদকের ভয়াবহ ব্যবসায়ে জড়িত, তাদের জন্য একটাই মেসেজ, মাদকের ব্যবসা করা যাবে না। এ দেশ মাদকমুক্ত হবে। খবরের কাগজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন নবনিযুক্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) আলী হোসেন ফকির। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত বিজেনস এডিটর ফারজানা লাবনী।
খবরের কাগজ: অনেক বছর ধরে পুলিশে কাজ করছেন। আপনার অভিজ্ঞতা অনেক। এবারে পুলিশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পেয়েছেন। এ দায়িত্ব পেয়ে কেমন লাগছে এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব দেবেন?
আলী হোসেন ফকির: ‘দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন’ একটি চিরন্তন নীতি, যার অর্থ অসাধু বা দুষ্ট লোকেদের শাস্তি দেওয়া এবং সাধু বা ভালো মানুষকে রক্ষা করা বা লালন-পালন করা। এই নীতিটি সাধারণত সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। যেখানে অন্যায় দূর করে সুবিচার নিশ্চিত করা হয়। এটিই আমার নীতি। তবে অনেক বড় দায়িত্ব, আমি চেষ্টা করব সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করার জন্য।
খবরের কাগজ: আমাদের দেশে পুলিশ সম্পর্কে অনেক ধরনের অভিযোগ শোনা যায়। বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন পুলিশ জনগণের বন্ধু না, তারা সুযোগ পেলেই অকারণে হয়রানি করে। এসব ধারণা থেকে জনগণকে বের করে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আপনি কী ধরনের ভূমিকা রাখবেন?
আলী হোসেন ফকির: মোটাদাগে বা গড়ে সব পুলিশকে একভাবে দেখলে বা ভাবলে হবে না। ভালো-মন্দ সব জায়গায় আছে। পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রক্ষণাবেক্ষণ করা। আমার চেষ্টা থাকবে, রক্ষক কোনোভাবেই যেন ভক্ষক না হয়ে ওঠে–সেটা নিশ্চত করা। কোনো পুলিশ সাধারণ মানুষকে অকারণে হয়রানি করলে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বর্তমানে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে। পুলিশ যেন সাধারণ মানুষের বিপদের বন্ধু হিসেবে কাজ করে, এটা নিশ্চিত করার সবোর্চ্চ চেষ্টা করব। একই সঙ্গে সৎ ও যোগ্য পুলিশ সদস্যরা যেন সম্মান পান সে চেষ্টাও থাকবে।
খবরের কাগজ: সন্ত্রাস দমনকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন?
আলী হোসেন ফকির: সন্ত্রাস দমনে অবশ্যই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো সন্ত্রাসীকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মনে রাখতে হবে, গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে। সাধারণ মানুষ এই সরকারের ওপর আস্থা রেখেছেন। সরকারপ্রধানের নির্দেশে দেশে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে পুলিশ কাজ করছে। সন্ত্রাসী সে যে দলেরই হোক, যত ক্ষমতাবানই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা এসব সন্ত্রাসী ধরতে সব ধরনের প্রস্তুত নিয়ে রেখেছি।
খবরের কাগজ: দেশে এখন মব ভায়োলেন্স বড় ইস্যু। মব নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা কী হবে?
আলী হোসেন ফকির: আইন আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না। কোনোভাবে মব করার সুযোগ দেওয়া হবে না। কেউ মব করলে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দেখেন পুলিশ জনগণের বন্ধু হবে ঠিকই, তবে সন্ত্রাসীদের জন্য তারা কঠোর থাকবে। এখানে কোনো ছাড় নেই। কেবল তো মাত্র সরকার গঠন হয়েছে। আমি নতুনভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আপনারা দেখেন কীভাবে কাজ করি। খারাপ কাজ করলে অবশ্যই সমালোচনা করবেন। ভালো করলেও উৎসাহ দেবেন। একটা বিষয় খুব স্পষ্ট মবে জড়িতদের কোনো ছাড় নেই। আমি বলব, মব না করে, আইনি পথে যান। পুলিশের কাছে আসুন, অভিযোগ করেন। এরপর দেখেন আমরা কী করি।
খবরের কাগজ: আমরা অতীতে দেখেছি, পুলিশ রাজনৈতিক দলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাজ করে। এতে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হয়। এ ক্ষেত্রে আপনার পদক্ষেপ কী হবে?
আলী হোসেন ফকির: শপথ নিয়ে পুলিশে অংশ গ্রহণ করেছি। দেশ ও জাতির স্বার্থে কাজ করব। এই শপথ মেনে চলার চেষ্টা করব। আমি অন্য পুলিশ সদস্যদেরও বলব আপনারা শপথের মর্যাদা রাখুন।