ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বসনিয়া চ্যালেঞ্জ সুইসদের ১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি কানাডার সামনে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
Nagad desktop

হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১০:০৬ এএম
আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১০:১১ এএম
হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে
ছবি: খবরের কাগজ

সারা দেশে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ এখন আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। গত তিন মাসে রাজধানীসহ বরিশাল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, পাবনা, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৩৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপসর্গসহ আক্রান্ত ৬ শতাধিক। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় বাড়ছেই। শয্যাসংকটে অনেক জায়গায় শিশুদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

রাজধানীর এক হাসপাতালেই ২২ শিশুর মৃত্যু
রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চলতি বছরে মার্চ পর্যন্ত ২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শ্রীবাস পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট তানজিনা জাহান জানান, চলতি মাসের ২৯ দিনেই ৪৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। গত রবিবার সেখানে ৪৫ জন চিকিৎসাধীন ছিল।

বরিশালে নতুন করে আক্রান্ত ২৩ জন
বরিশালের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বরিশাল বিভাগে হামের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি বাড়ছে। গত তিন মাসে ছয় জেলায় ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৯ জন চিকিৎসাধীন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২৩ জন। 

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, সংক্রমণ বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে আলাদা ওয়ার্ড চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি থাকায় শিশুরা ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যমতে, বরগুনার পরিস্থিতি সবচেয়ে আশঙ্কাজনক। সেখানে ৮০ জন সন্দেহভাজনের মধ্যে ২২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। বরিশাল সিটি এলাকায় ১৬ জনের মধ্যে ১৩ জনই আক্রান্ত। শের-ই-বাংলা মেডিকেলে ১৯ জনসহ জেলায় ৩৩ জন ভর্তি আছে। ভোলায় ১৬ জন আক্রান্ত। ঝালকাঠিতে ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের হাম পাওয়া গেছে। পটুয়াখালীতে চিকিৎসাধীন ১২ জন ও পিরোজপুরে একজন আক্রান্ত।

শের-ই-বাংলা মেডিকেলের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এ কে এম নজমুল আহসান বলেন, ‘হামের লক্ষণ জ্বর, সর্দি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।’ তিনি ৯ ও ১৫ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়া নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

কুমিল্লায় ২১ শিশু চিকিৎসাধীন
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, জেলায় হামের প্রকোপ বাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে কুমিল্লায় ২১ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ জানান, আক্রান্তদের বিশেষায়িত সেবা দিতে আলাদা ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে। গত ১৮ মার্চ থেকে ২৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তিনি জানান, আক্রান্তদের বড় অংশ টিকা নেয়নি। হাম থেকে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের সমস্যা, কানের প্রদাহ বা কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হতে পারে।

চাঁদপুরে ৩ শিশুর মৃত্যু, শয্যাসংকটে মেঝেতে চিকিৎসা
চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২৩ শিশু ভর্তি রয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. নূরে আলম দ্বীন জানান, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালগুলোকে বাড়তি ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

সদর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বেড না থাকায় আক্রান্ত শিশুদের মেঝেতে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তাদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।’ 

পাবনায় ব্যাপক প্রকোপ, ২ শিশুর মৃত্যু
পাবনা প্রতিনিধি জানান, জেলায় হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নতুন ৮ জনসহ ২৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। গত তিন মাসে ৩৩ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্ত হয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, আক্রান্তদের বেশির ভাগই ৯ মাসের কম বয়সী। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রায় ২০০ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। 

মুকসুদপুরে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু, এলাকায় আতঙ্ক
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার মুকসুদপুরে হামের উপসর্গে তোহা নামে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৯ মার্চ জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সে অসুস্থ হয়। মুকসুদপুর ও ফরিদপুর ঘুরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ মার্চ শিশুটি মারা যায়। 

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, অসুস্থতার কারণে শিশুটিকে ২৫ মার্চের নির্ধারিত টিকা দেওয়া যায়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম বলেন, ‘মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে নথি পর্যালোচনা চলছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বর্তমানে কেস স্টাডি করছে।’

রামেক হাসপাতালে ভর্তি ২৭০ শিশু
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এ বছর ৩০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন জানান, পরীক্ষায় মাত্র একজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, বাকি ২৯ জনের নমুনায় পজিটিভ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে হাসপাতালে ২৭০ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছে, যাদের ৬৫ শতাংশেরই বয়স ছয় মাসের নিচে। 

এদিকে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পেছনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে দায়ী করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। গতকাল সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ দাবি করেন।

ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত ৪ জানুয়ারি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এটি ছড়াচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর রোগটির পুনরুত্থান ঘটেছে। টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ও ভ্যাকসিনসংকটে আজ এই পরিস্থিতি।’ 

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম জানান, ১ হাজার ২০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকছে। এটি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় চরম চাপ সৃষ্টি করছে।

চট্টগ্রামে আক্রান্ত ২, সতর্ক অবস্থানে স্বাস্থ্য বিভাগ
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ৪০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে দুজনের শরীরে হামের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে ২৯ মার্চ পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে ২৫ শিশু চিকিৎসাধীন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা বিশেষ কর্নার খোলা হয়েছে। 

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন হাসপাতাল পরিদর্শন করে জানান, চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৮ রোগীর মধ্যে একজনের হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকিরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তীব্র সংক্রমণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলায় গত কয়েক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৭৪ শিশু চিকিৎসাধীন। ২০ শয্যার বিপরীতে অতিরিক্ত রোগী হওয়ায় মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হান বলেন, ‘হামের তীব্রতা এখন সবচেয়ে বেশি। প্রায় ২০ বছর পর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, নমুনা সংগ্রহের তিন মাস পর রিপোর্ট পাওয়া যায়। এটি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ। 

খুলনা ও নওগাঁয় হামের প্রাদুর্ভাব
খুলনা প্রতিনিধি জানান, খুলনা বিভাগে ৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। কুষ্টিয়ায় আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। সেখানে ৬৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি। খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মুজিবুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত হাম ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হবে। 

নওগাঁয় প্রতিনিধি জানান, সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘৩৮টি নমুনার মধ্যে পাঁচজন হাম ও একজন রুবেলায় আক্রান্ত। আগামী মে মাসে সারা দেশে শিশুদের এমআর টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে।’ 

সিলেট ও কক্সবাজারে বাড়তি সতর্কতা
সিলেট ব্যুরো জানায়, গত এক সপ্তাহে সংক্রমণ বাড়ায় শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট চালু হয়েছে। সেখানে ১৪ শিশু চিকিৎসাধীন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম আহমদ জানান, ৪ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান জানান, চিকিৎসাধীন দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ৩৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শহিদুল আলম জানান, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও চোখের সংক্রমণের মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

নাটোরে আক্রান্ত ৬ শিশু 
নাটোর প্রতিনিধি জানান, হামে আক্রান্ত ৬ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে ৫ জন সদর হাসপাতালে ভর্তি। নাটোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. কামাল উদ্দীন ভূঁইয়া জানান, জেলায় ৩৮ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে। পরীক্ষা শেষে ১৩ জনের দেহে রোগ শনাক্ত হয়। ইতোমধ্যে ৭ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। 

ফরিদপুরে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা
ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, জেলায় হামের প্রকোপ বাড়ছে। ২০ মার্চের পর থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতালে ১৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন বিভাগ খোলা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, প্রতিটি শিশুকে গুরুত্ব দিয়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত জেলায় মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে
ছবি: সংগৃহীত

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন নির্ধারিত অনুষ্ঠানমালা বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের লক্ষ্যে তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। 

সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানমালা জুনের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী সময়সূচি যথাসময়ে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হবে।

 

মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

মায়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ-ও বলেছেন, ভারতের সাথে সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

প্রশ্নোত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে এবং সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ফেন্সিডিলসহ সব ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ বন্ধে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার মোতাবেক 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে বিজিবি। সেইসাথে, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, জানান মন্ত্রী।

এছাড়া, দুর্গম ও স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও  নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণের ফলে বিজিবির বিওপিসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং টহলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। সেগুলো হলো:

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এলাকায় ইতিমধ্যে 'স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম' স্থাপন করা হয়েছে।
দুর্গম পার্বত্য সীমান্তে সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যার ফলে বিজিবির টহল দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে যেকোনো সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সক্ষম হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের চোরাচালান ও অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে এবং অপরাধীদের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তার জন্য নিয়মিত 'জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম' পরিচালনা করা হচ্ছে।

এসএন/

যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী
মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে  না’ বলে যারা হুমকি দিচ্ছে, তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বিএনপি আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবে। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে বিএনপি কাজ করবে।’

‘যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা জনগণের স্বার্থে কথা বলছে না, তারা নিজের স্বার্থে কথা বলছে।  তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।’

একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে আছে তো— এখানে অনেক মুরুব্বি আছেন। মনে আছে তো— একাত্তরে এরা কী করেছিল? মনে আছে তো— ’৮৬ তে কী করেছিল? মনে আছে তো— এর মধ্যে এক যুগ যে আন্দোলন চলেছিল, সেই আন্দোলনে তাদেরকে কোথাও আমরা কিন্তু দেখিনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যদি শহিদদের তালিকা বের করা হয়, দেখা যাবে যে ছাত্রটি মারা গিয়েছে—তিনি ছাত্রদলের একজন কর্মী, যে ছাত্রটির বউ মরেছে তিনি ছাত্র দলের কর্মী, যে যুবকটি মারা গিয়েছে তিনি যুবদলের কর্মী, যে যুবকটি গুম হয়েছে তিনি যুবদলের কর্মী। যেই মানুষ বিনা কারণে জেল খেটেছে, খুঁজলে দেখা যাবে তিনি বিএনপির কর্মী, যে মানুষ মিথ্যা মামলা মাথায় করে বয়ে বেড়িয়েছে বছরের পর বছর, খোঁজ করলে দেখা যাবে তিনি শহিদ জিয়া, খালেদা জিয়ার কর্মী।’

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতি জনগণের ম্যান্ডেটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘মানুষ বিএনপিকে বলেছে, তোমরা দেশকে গড়ে তোলো, মানুষ বিএনপিকে বলে দিয়েছে, আগামী পাঁচ বছর তোমাদেরকে সময় দিলাম তোমরা দেশকে ঠিক করো। স্বৈরাচার দেশকে খালি করে দিয়ে চলে গিয়েছে।’

শ্রীমঙ্গল থেকে বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান মৌলভীবাজারে। এই অনুষ্ঠানে জেলার প্রান্তিক নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ১০ জন নারী সদস্যের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বাটন চেপে মৌলভীবাজারের ১৯ ওয়ার্ডসহ অনলাইনের মাধ্যমে আরো ২১ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তৃতীয় পর্যায়ে নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি একযোগে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের আগে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি আম ও নিম গাছের চারা  এবং এর আগে শ্রীমঙ্গলে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাম ও কৃষচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

মৌলভীবাজারের অনুষ্ঠানে চা-শ্রমিকের আবাসন এবং তাদের সন্তানদের বৃত্তি প্রদানসহ দুঃস্থ-অসহায়, প্রতিবন্ধী, প্রান্তিক মানুষের মধ্যে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করেন সরকার প্রধান।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বলেছে, সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না। তাদের সম্পর্কে সর্তক করে  আমি বলতে চাই, বিএনপির প্রতিশ্রুতির পরিকল্পনা জনগণের পরিকল্পনা। এটি যারা ভেস্তে দিতে চায়, তাদের সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির কিছু করা লাগবে না। জনগণ সতর্ক থাকলেই বিএনপির কাজ হয়ে যাবে। কারণ, এ দেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। মালিক যদি সতর্ক থাকে আর কারো টেনশন থাকবে না। এ দেশের মালিক জনগণ, জনগণের হাতে এই দেশের নিরাপত্তা, এ দেশের উন্নয়ন, এ দেশের ভবিষ্যৎ আমি সঁপে দিয়ে গেলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিএনপিকে সময় দিতে চায় না তারা বলে ফ্যামিলি কার্ড কোত্থেকে করবা? টাকা পাবা কই? তাদের উদ্দেশ্যে পরিস্কার করে বলে দিতে চাই, বিগত এক যুগ আমরা দেখেছি, সারা পৃথিবী দেখেছে, সারা পৃথিবী সাক্ষ্য দিয়েছে— কীভাবে এ দেশের অর্থ পাচার হয়ে গিয়েছিল। এখন থেকে বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে সেই পাচার আমরা রুখে দেব।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশের মানুষের অর্থ, এই দেশের মানুষের সম্পদ দেশেই থাকবে। কোথাও যেতে পারবে না। এ দেশের  মানুষের অর্থ এই দেশের মানুষের সম্পদ এ দেশের মানুষের ভালোর জন্য ব্যবহার হবে। যারা বলে টাকা কোথায় পাবা, তাদের কাছে এই হচ্ছে আমার জবাব। তাদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলতে চাই, মানুষকে নিয়ে চিন্তা করুন, মানুষকে নিয়ে কাজ করার চিন্তুা করুন, দেখবেন উপায় বের হবে।’

সামনে সময় দেশের জন্য কাজ করার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনের সময় হচ্ছে কাজ করার, সামনে সময় হচ্ছে দেশ গড়ার, সামনের সময় হচ্ছে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করার। আজকে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত, এই ৪০ কোটি হাত যদি অবশ হয়ে পড়ে থাকে, অলস হয়ে পড়ে থাকে— তাহলে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যাবে না।’

একাত্তরে দেশ স্বাধীন করেছিল বাংলাদেশের জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছিল কে? বাংলাদেশের জনগণই মুক্ত করেছিল। কাজেই দেশকেও গড়ে তুলবে বাংলাদেশের জনগণ। কারণ, খালেদা জিয়াকে যখন বলেছিল দেশ ছেড়ে চলে যাও। তখন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বাংলাদেশের মাটি হচ্ছে আমার প্রথম  এবং শেষ ঠিকানা। মনে আছে আপনাদের? আমাদের সকলের এই বাংলাদেশই হচ্ছে প্রথম ও শেষ ঠিকানা।’

‘কাজেই এ দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, এ দেশকে যদি গড়ে তুলতে হয় তাহলে সকলে আমাদেরকে হাতে হাত মিলিয়ে এক সাথে কাজ করতে হবে।’

উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন এখানে সবাই আমরা হাত তুলে প্রতিজ্ঞা করি যে, আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি, আমাদের আগামী দিনের প্রত্যাশা, আমাদের আগামী দিনের সকল কর্ম পরিকল্পনা হবে এই দেশ ও এ দেশের মানুষকে ঘিরে। দেশ গড়াই হবে আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি।’

১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো যেমন— ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, মুয়াজ্জিন, ইমামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের সম্মানিভাতা প্রদান, স্কুল শিক্ষার্থীদের ড্রেস প্রদান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা প্রভৃতি কাজ শুরু করার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর উপকারটা কার হবে? দলমত নির্বিশেষে এর উপকার পাবে সকল মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপিকে জনগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী করেছে।  ১৭ তারিখের পর এ সরকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সরকার। বর্তমান সরকার হচ্ছে, দলমত নির্বিশেষে সবার সরকার। আমাদের সরকারের মূখ্য বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণ ও বাংলাদেশের মানুষ।’

অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের এই অঞ্চলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে গত এক যুগেরও বেশি সময় এই জেলায় উন্নয়ন না হওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারহানা শারমিন, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউস, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এবং কেরানিগঞ্জ থেকে অনলাইনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

মৌলভীবাজারের অনুষ্ঠান শেষ করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেটের উদ্দেশ্যে সড়ক পথে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

নাঈম/

যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে আবেদন অনুমোদন পাওয়া প্রায় ছয় হাজার নাগরিকের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দূতাবাসের মাধ্যমে এসব এনআইডি সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা বুধবার (১৭ জুন) জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ১৬ হাজার ৭১৫ জন প্রবাসী এনআইডির জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ১০ হাজার ৯৬৮ জনের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিতদের মধ্যে ৫ হাজার ৮০৭ জনের এনআইডি বর্তমানে প্রিন্টিং পর্যায়ে রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডার মায়ামি এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে দূতাবাসের মাধ্যমে এনআইডি কার্যক্রম শুরু হয়। এর আওতায় নিউইয়র্কের ৪ হাজার ১৭০ জন, ওয়াশিংটনের ৪৩০ জন, মায়ামির ৩৬৫ জন এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের ৪৪২ জনের এনআইডি পাঠানো হচ্ছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ইসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার প্রবাসী ইতোমধ্যে এনআইডি পেয়েছেন।

বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদনকারীদের অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র, বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট, এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়ন, অনলাইন জন্মনিবন্ধন এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হয়। বিশেষ কিছু উপজেলার নাগরিকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্রও দাখিল করতে হয়।

ইসি আরও জানায়, প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট উপজেলায় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আবেদন অনুমোদন করে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের এনআইডি সরবরাহ করা হয়।

ইসি/এলিস/আমান

নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস (ডিইডব্লিউ) লিমিটেড থেকে নির্মিত হচ্ছে পাঁচটি রিভারাইন পেট্রল ভেসেল।

বুধবার (১৭ জুন) নারায়ণগঞ্জে ডিইডব্লিউ চত্বরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জন্য ওই পাঁচটি রিভারাইন পেট্রোল ভেসেল (আরপিভি) নির্মাণের লক্ষ্যে ‘কিল-লেয়িং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে জাহাজ নির্মাণে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড ও শিপইয়ার্ডগুলো সাফল্যের ধারাবাহিকতায় অগ্রযাত্রার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ ও নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ ধারাবাহিকতায় বুধবার ডিইডব্লিউ লিমিটেড থেকে কোস্টগার্ডের জন্য পাঁচটি ‘আরপিভি’ নির্মাণের লক্ষ্যে ‘কিল-লেয়িং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রধান অতিথি এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং ডিইডব্লিউ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তির ওই আরপিভির দৈর্ঘ্য ৩৮ দশমিক ৫ মিটার, প্রস্থ ৭ দশমিক ৯০ মিটার, গভীরতা ২ দশমিক ৪৫ মিটার এবং ২৩২ টন ডিসপ্লেসমেন্ট ক্ষমতাবিশিষ্ট সক্ষমতায় এটি নির্মিত হচ্ছে। প্রতিটি নৌযান ঘণ্টায় ২৫ মাইল বেগে চলাচল করতে সক্ষম হবে। এতে নৌযানে নেভিগেশন র‍্যাডার, জিপিএস, যোগাযোগ প্রযুক্তি, নাইট ভিশন ও বিভিন্ন ধরনের আধুনিক সরঞ্জামাদি সংযোজিত থাকবে। কম গভীরতায় চলাচলের উপযোগী ও উচ্চগতি সম্পন্ন এ নৌযানসমূহ বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের বহরে সংযোজনের মধ্য দিয়ে দেশের নদী, মোহনা এবং উপকূলীয় এলাকার সংকীর্ণ ও দুর্গম নৌপথে অধিক দক্ষতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, কম গভীরতাসম্পন্ন জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নজরদারি জোরদারকরণ, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নদীপথ ব্যবস্থাপনায় কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

আলমগীর হোসেন/নাঈম