বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হয়। কোনো বিরতি ছাড়াই ভোট নেওয়া হবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ফজলুল করিম বলেন, ভোট হবে ব্যালট পেপারে। আর ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। কোনো বিরতি ছাড়াই ভোট নেওয়া হবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। তবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগে যারা কেন্দ্রে প্রবেশ করবেন তাদের সবারই ভোট নেওয়া হবে বিকেল সাড়ে ৪টার পরেও।
নির্বাচনি পরিবেশ কেমন, পর্যবেক্ষণে কারা থাকবেন আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কী ব্যবস্থা আছে–এমন প্রশ্নের উত্তরে ফজলুল করিম বলেন, পুলিশ, আনসার ও র্যাব সদস্যদের পাশাপাশি আট প্লাটুন বিজিবি, বিচার ও নির্বাহী বিভাগের ২০ জন ম্যাজিস্ট্রেট আর নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ১৮ জন সিনিয়র কর্মকর্তা থাকবেন পর্যবেক্ষক হিসেবে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমপক্ষে ১৮ জন করে সদস্য থাকবেন।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, কেন্দ্রে যাওয়া-আসার পথ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ও সাদাপোশাকে থাকবেন বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। ১৫১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ভোটারদের সহযোগিতা করবেন নির্বাচনি কর্মকর্তারা। জেলা নির্বাচন অফিসের একটি সূত্র জানায়, বগুড়া-৬ আসনে ৫৮টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ও ডিসি অফিসে একটি পোস্টার ব্যালট কেন্দ্রসহ ১৫১টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন ৪ লাখ ৫৪ হাজারের কিছু বেশি ভোটার।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিলে আসনটি শূন্য হয়। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন আসন দুটি উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমানের সঙ্গে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবিদুর রহমান ভোট পান ৯৭ হাজার ৬২৬টি। তারেক রহমান পান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার এ আসনে পাঁচটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশ নিলেও উপনির্বাচনে প্রার্থী তিনজন। বিএনপি ও জামায়াতের পাশাপাশি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আছেন আল আমিন তালুকদার। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মাঠে দেখা গেলেও আল আমিন তালুকদারকে দেখা যায়নি। এমনকি শহরের সাতমাথাসহ গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থানেই তার প্রচারপত্র দেখা যায়নি।
বিএনপির প্রার্থী রেজাউল কমির বাদশা ভোটের পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। কত ভোট প্রত্যাশা করছেন–এ প্রশ্নের উত্তরে রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘আশা করছি ২ লাখ ১৬ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ হাজার ভোট পাব।’
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, ‘উপনির্বাচনে আমি জয়ী হব।’
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ায় ভোট পড়ে ৭১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। তবে ভোটারদের মধ্যে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তেমন উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। সে কারণে অনেকেরই আশঙ্কা এবার উপনির্বাচনে ভোট পড়বে কম। প্রার্থীরাও বলেছেন, উপনির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করা বড় চ্যালেঞ্জ।
শেরপুরে লড়ছেন তিন প্রার্থী
শেরপুর-৩ আসনের ভোট উপলক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সরঞ্জামাদি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতের মাসুদুর রহমান ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী মিজানুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনের ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে এবং ৭৫১টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ২৭টি, গুরুত্বপূর্ণ ৩২টি এবং সাধারণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৬৯টি।
জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিম, পুলিশের ২৬টি মোবাইল টিম, ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ১৮ জন পর্যবেক্ষক, দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির তিনজন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর কয়েকটি টিম মাঠে থাকবে। প্রতি ভোটকেন্দ্রে পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য ও ১২ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি এ আসনের ভোট স্থগিত করা হয়। পরে নতুন তফসিল অনুযায়ী আজ ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।