বাংলাদেশে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ইস্যুতে ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা ও পতাকা স্ট্যান্ড ভাঙচুর হয়েছে। এ দুই বিষয়কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনীতি। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যেও অস্বস্তি এবং অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত দাবি করে বাংলাদেশে ভারতীয়দের কর্মকাণ্ডের ব্যাপক প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে। দেশটির (ভারতের) অধিকাংশ প্রচার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক খবর পরিবেশন করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের পক্ষ থেকে করণীয় নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সমাজচিন্তকের সঙ্গে কথা বলেছে খবরের কাগজ
সম্পর্ক সহনীয় রাখতে হবে: আবুল কাসেম ফজলুল হক
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুটি দিক রয়েছে। যারা সরকারে দায়িত্ব থাকেন, তাদের এক ধরনের করণীয় রয়েছে। তাদের সতর্কতার সঙ্গে কথা বলতে হবে। আবার আমরা যারা ক্ষমতার বাইরে আছি, তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি রয়েছে। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়। এই নীতি মেনে আমাদের কথা বলা উচিত। পত্র-পত্রিকার খবর অনুযায়ী, বর্তমানে সম্পর্ক খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে। সাধারণ নাগরিকরাও কথা বলছেন। ভারতবিদ্বেষ তৈরি হয়েছে। আমাদের সম্পর্ক সহনীয় রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে।
সভাপতি, বাংলা একাডেমি
ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করা উচিত: ড. সি আর আবরার
আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা উচিত। বাংলাদেশে যে বিরাট রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে, সেটাকে ভারত স্বীকার করছে না। এখানে জনগণের একটা অভ্যুত্থান হয়েছে পুরোনো ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করে। সে ব্যবস্থার পেছনে ভারত অবিচলভাবে জোর সমর্থন দিয়েছিল তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের কারণে। তাই এই বদলে যাওয়াটাকে তারা স্বীকার করে নিতে চাইছে না। ফলে এই একগুঁয়েমি অযৌক্তিক অবস্থান গ্রহণ করেছে ভারত সরকার, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবং ভারতীয় দক্ষিণপন্থি জনগণের একাংশ। একই সঙ্গে তারা এই উগ্র আচরণ করছে। তারা বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছে, যাতে পুরোনো ব্যবস্থার সঙ্গে কিছুটা কম্প্রোমাইজ (ছাড় দেওয়া) করা হয়। এটা অবশ্যই জনগণ গ্রহণ করবে না। বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে তারা যদি এগিয়ে যেত, তাহলে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে অগ্রযাত্রার একটা সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তারা সেটা মানছে না। ফলে তাদের জনপ্রিয়তা যতটুক ছিল, সেটাও হারাচ্ছে।
নির্বাহী পরিচালক
দ্য রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (আরএমএমআরইউ)
সাবেক অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ভূমিকা রাখতে হবে সংবাদমাধ্যমকে: ড. আমেনা মহসীন
এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিকভাবে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, আমরা তো সেসব করছি। সরকার তো ভারতীর হাইকমিশনারকে তলব করেছে। এর বাইরে নিজেদের ধৈর্য ধরে শান্ত থাকতে হবে। সংবাদমাধ্যম এবং প্রচারমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। প্রচার করতে হবে আসল খবরটা কী? পাশাপাশি আমাদের সবাইকে একসঙ্গে বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে হবে। আমরা দেখি, পৃথিবীর অন্য দেশেগুলোতে এ ধরনের সংকট তৈরি হলে সব নাগরিক ঐক্যবদ্ধভাবে ইস্যুগুলো ফেস করে। আমাদেরও সেভাবে করা দরকার। তাহলে সমস্যা কেটে যাবে। ভারতের যেসব সংবাদ মিথ্যা প্রচার করছে, তাদের আমরা আমন্ত্রণ জানাতে পারি। তাহলে তারা এসে দেখতে পারবে আসল ঘটনা কী ঘটছে? পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।
সাবেক অধ্যাপক
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


