বৈধ জায়গার নামজারি যথাসময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় সেবাপ্রার্থীর দুর্ভোগের কারণ ভূমি মন্ত্রণালয়, নাকি ভূমি অফিস, এ প্রশ্ন জনমনে? একজন ভূমি কর্মকর্তা কম্পিউটারে দেখে বলছেন, আদালতের ডিক্রি সূত্রে অপশনটি সার্ভারে রাখা হয়েছে, আবার অন্য কর্মকর্তারা বলেছেন ভূমি মন্ত্রণালয় নতুন সার্ভারে শুধু ওয়ারিশ সূত্রে ও খরিদা সূত্রে অপশন রাখা হয়েছে, কিন্তু আদালতের ডিক্রি সূত্রে অপশন রাখা হয়নি। এ অজুহাতে ভূমি অফিস আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া নামজারি আটকে রাখায় সেবাপ্রার্থীর ভোগান্তি বাড়ছে। নিরুপায় সেবাপ্রার্থীরা অফিসে অফিসে ধরণা দিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি খাতে ঘুষ-দুর্নীতি, অনিয়ম, খামখেয়ালিপনার কারণেও এমনটি ঘটছে। যেমন, সুপ্রিম কোর্টেও নানা অজুহাতে তিন বছর ধরে হয়রানি করা হলে ওই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিচারের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি (তৎকালীন রেজিস্ট্রার জেনারেল) আজিজ আহমদ ভূঁইয়া বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। সেজন্য ওই কর্মকর্তা ক্ষমা চান এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রায়ের সংবাদটি ভুক্তভোগীর হাতে দেন। এভাবে ১৬ বছরেও নামজারি সম্পন্ন হয়নি, ফাইলটি ঝুলছে ভূমি অফিসে, বিষয়টি ভুক্তভোগী চট্টগ্রামের চান্দগাঁও সার্কেল ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাসকে বুঝিয়ে বললে তিনি সমস্যাটি সমাধানে একজন কর্মকর্তাকে ডেকে নিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন। বৈধ সেবাপ্রার্থীদের নামজারি দ্রুত সম্পন্ন করে নামজারির খতিয়ান হাতে পাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।
কাজী ইব্রাহিম সেলিম
কবি ও সাংবাদিক, চট্টগ্রাম
[email protected]