জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত বা সম্মতি নেওয়ার জন্য একটি গণভোট আয়োজিত হতে যাচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গণভোটের বিষয়ে একমত হলেও, সেটি আদৌ কতটা জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে পারবে। বিশ্বের অনেক দেশেই কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়ে জনগণের মতামত নিতে গণভোট বা জনমত জরিপ করার চর্চা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে অতীতে যে কয়টি গণভোট হয়েছে, তাতে জনগণ ভোট দিতে পেরেছে কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে! দেশের ইতিহাসে যে তিনটি গণভোট হয়েছে, তার প্রথম দুটিকে বলা হয় ‘প্রশাসনিক গণভোট’ আর তৃতীয়টিকে বলা হয় ‘সাংবিধানিক গণভোট’। আমাদের দেশে গণভোটের ঐতিহ্য খুব একটা ভালো নয়! এর কারণ হলো, প্রথম দুটি প্রশাসনিক গণভোটে (১৯৭৭ ও ১৯৮৫ সালে) তৎকালীন দুই সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নিজেদের শাসন কাজের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য গণভোট প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করেছিলেন। তবে ১৯৯১ সালের তৃতীয় গণভোটের কার্যত কোনো গুরুত্বই ছিল না। গণভোটে জনমতের প্রতিফলন কেমন হবে তা মূলত নির্ভর করে কখন, কোন বিষয়ে, কীভাবে ও কার অধীনে ভোট হবে তার ওপর।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যাতে ম্যান্ডেটের অভাব না হয় এবং জনগণ এটি সমর্থন করে কি না, সে অনুমতির জন্যই গণভোট হবে। তাতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে এবং কেউ আর হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এর মাধ্যমে জুলাই সনদের শক্তিশালী আইনি ভিত্তি রচনা হবে। যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে তা অধিকতর স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হওয়ার সুযোগ থাকে।
আসিফ আল মাহমুদ
রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।
[email protected]