বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রযুক্তির ব্যবহার একটি যুগান্তকারী পথ হতে পারে। বর্তমানে এনালগ নথিপত্র ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা ও তথ্যের গোপনীয়তাকে কাজে লাগিয়ে যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়, তা একটি ‘সমন্বি ব্লকচেইন ও নাগরিক তদারকি মডেল’ ব্যবহারের মাধ্যমে নিরসন করা সম্ভব। ব্লকচেইন প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো এর বিকেন্দ্রীভূত ডাটাবেস ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি লেনদেন ও প্রকল্পের তথ্য এমনভাবে সংরক্ষিত থাকে যা পরিবর্তন বা মুছে ফেলা অসম্ভব। ফলে সরকারি বাজেটের প্রতিটি ধাপ জনসমক্ষে স্বচ্ছ রাখা যায় এবং অর্থ আত্মসাতের সুযোগ বন্ধ হয়। এ ব্যবস্থার সঙ্গে একটি ইন্টারেক্টিভ নাগরিক অ্যাপ যুক্ত করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিজ এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাবে। যদি কোথাও কাজের গুণগত মান বা বরাদ্দে অনিয়ম দেখা দেয়, তবে নাগরিকরা সরাসরি প্রমাণসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ফিডব্যাক দিতে পারবে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চপদস্থ তদারকি সংস্থার নজরে আসবে। এ ডিজিটাল রূপান্তর মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করবে এবং সরকারি সেবাসমূহকে সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে। প্রযুক্তির এ সমন্বিত ব্যবহার কেবল দুর্নীতিই কমাবে না, বরং রাষ্ট্রীয় কাজে নাগরিক অংশীদারত্ব তৈরি করবে। মূলত, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং নাগরিক অংশগ্রহণের এ দ্বিমুখী পদ্ধতিই একটি দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ার শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে।
চৌধুরী জওহর দুদায়েভ
শিক্ষার্থী, একাদশ শ্রেণি, মালিবাগ, ঢাকা
[email protected]