তাঁতশিল্পকে বাঁচাতে হবে। সরকার এ ব্যাপারে তাঁতিদের সহযোগিতা করলে তাঁতশিল্পে আবারও জোয়ার আসতে পারে। প্রয়োজনে যাচাই করে প্রকৃত তাঁতশিল্প উপভোক্তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করতে হবে। তাছাড়া ব্যক্তিগতভাবে কর্মরত তাঁতিদের কম করে হলেও ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। এ অর্থ ব্যবহার করে তাঁত বোনার মেশিনের মেরামতিও করতে পারবেন তারা।
তাঁতশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প। যা গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষেত্র। সুতা থেকে হস্তচালিত বা বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রের সাহায্যে শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, মশারি, জামদানি ও মসলিনসহ বিভিন্ন বস্ত্র তৈরি করা হয়। টাঙ্গাইল, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নরসিংদী ও মানিকগঞ্জ তাঁতশিল্পের প্রধান অঞ্চল। তাঁতশিল্প বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শিল্প। তাছাড়া মণিপুরী সম্প্রদায়ের বসতি অঞ্চলেও তাঁতশিল্প রয়েছে। উচ্চমূল্য, সুতার দাম বৃদ্ধি ও যান্ত্রিক প্রতিযোগিতায় এ শিল্প চ্যালেঞ্জের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও তাঁতিরা আধুনিক ডিজাইনের মাধ্যমে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় সুবিধা দেওয়া হোক সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া প্রভৃতি জেলার তাঁতিদের। যদি তাঁতিদের সহযোগিতা করা হয়, তাহলে এটা হবে চমৎকার খবর। তাঁতিদের পাশে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাঁড়ালে তবেই তো বাজারে আসবে আরও নতুন নতুন ডিজাইন। সুতরাং, তাঁতশিল্পকে ভালোভাবে বাঁচিয়ে রাখতে ও সমৃদ্ধ করতে এখনই চাই উদ্যোগ, কর্মসূচি ও প্রকল্প।
লিয়াকত হোসেন খোকন
রূপনগর, ঢাকা
[email protected]