দূতাবাসের বিবৃতিতে মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘এখনই মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ুন। আমেরিকার সরকারি সাহায্য ছাড়া ইরান ত্যাগ করার পরিকল্পনা তৈরি রাখুন। হাতে সময় খুব কম। যদি ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে বেরোতে না পারেন, নিরাপদ আশ্রয় খুঁজুন। সেখানে পর্যাপ্ত খাবার, পানি, ওষুধ ও অন্য জরুরি সামগ্রীর ব্যবস্থা রাখুন।’ ইরানে মার্কিন নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করেছে দূতাবাস। মার্কিন দূতাবাস আরও জানিয়েছে, আমেরিকার সরকার কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির দায় নিতে পারবে না। কারও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারবে না। আহা, কত মধুর বচন! কী সুপরামর্শ, সতর্কবাণী! আমি ইরানে বোমা ফেলব, তার দায় আমার নয়! তুমি তোমার নিজের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেই করো। নিরাপদ আশ্রয় নিজেই খুঁজে নাও। মার্কিন নাগরিকদের একাংশ না হয় সে দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়ে নিজেদের জীবন বাঁচাতে পারেন, কিন্তু জীবিকা? সেই নিরাপত্তা জুটবে কীভাবে? যুদ্ধের এ অবস্থায় ইরানের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে যাবেন কোথায়? আমেরিকার এ বিষয়ে পরামর্শই বা কী? আমেরিকা ইরানে বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্র ফেলে মানুষ মারছে, বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করে দিচ্ছে, আর সেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির দায় তার নয়! সে কথা আবার আমেরিকার সভ্য সরকার জোর গলায় বলছে! কোনো সরকার এতটা কাণ্ডজ্ঞানহীন দুরাচারী হতে পারে? আমেরিকা বোধহয় এসব অনায়াসে পারছে। ভাবলে অবাক লাগে, এরপরও ডোনাল্ড ট্রাম্প কি না শান্তির নোবেল পুরস্কার আশা করেন।
লিয়াকত হোসেন খোকন
রূপনগর, ঢাকা
[email protected]