গত কয়েক সপ্তাহ থেকে গরমের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে তাপমাত্রা অনেক সময় ৩৫-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চাপে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপ কমানোর চেষ্টা করে। ফলে পানি ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট দ্রুত কমে যায়। তাই খাদ্যাভ্যাসে সঠিক নির্বাচন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গরমে শরীরের পানির চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এ কারণে শুধু পানি নয়, পানিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ জরুরি। লাউ, করলা, পেঁপে, লেবু, তরমুজ, শসা, বাঙ্গি, আনারসের মতো ফলে ৮৫-৯০ ভাগ পর্যন্ত পানি থাকে। যা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এগুলোতে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ থাকে, যা ত্বক ভালো রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ডাবের পানি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের উৎকৃষ্ট উৎস। এতে পটাশিয়াম বেশি থাকে, যা শরীরের তরল ভারসাম্য রক্ষা করে। হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে শরীরের তাপ উৎপাদনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যেসব খাবার হজমে বেশি সময় নেয় সেগুলো থার্মিক ইফেক্ট অব ফুড বাড়িয়ে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায়। তাই গরমে সহজপাচ্য খাবার যেমন ভাত, ডাল, সবজি, মাছ বেছে নেওয়া উচিত। মাঠা, দই বা প্রোবায়োটিক খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং গরমে হওয়া হজমজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমায়। সঠিক খাদ্যাভ্যাসই এই তীব্র গরমে শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ইসলাম
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]