প্রতিটা ন্যায় ও কার্যকর কাজের জন্য যেমনটা সাধুবাদ জানাতে হয়, ঠিক তেমনি সঠিক ও গঠনমূলক নয় এমন কাজের প্রতি সমালোচনা করতে হয়। ব্যাপারটা বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতেই সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর ব্যক্ত গঠনমূলক কথার পরিপ্রেক্ষিতে প্রচলিত লটারিভিত্তিক প্রথা থেকে বেরিয়ে ভর্তি পরীক্ষা ও মেধাভিত্তিক পুরোনো প্রথায় ফিরে যাওয়াটা সম্পূর্ণ যৌক্তিক। এতে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাতেই হয়, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত শিগগিরই নেওয়ার জন্য, যা বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার ধ্বংস করেছিল। এতে করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যেমন মান অক্ষুণ্ণ থাকবে, ঠিক তেমনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী বের হবে। এতে যোগ্য জনশক্তির চালিকাশক্তিও তৈরি হবে এবং দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা বজায় থাকবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের দলীয় প্রেক্ষাপট বিস্তারকরণ মোটেও সাধুবাদের নয়, বরং অপচর্চার প্রতিচ্ছবি। কে কোন দল করবে তা যদি একান্ত ব্যক্তিগত, তবে এভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া কি বোকামি নয়? এসব বিষয় কি দেশের আপামর জনসাধারণ বোঝে না? মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী একটি সময়ে বিচক্ষণ হলেও এখন কি দলের অতীত ও নিজের লেগ্যাসি ভুলে, বিগত ফ্যাসিবাদের ন্যায় শিক্ষা খাত ধ্বংসের শুরু করবেন না তো? বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানচর্চার সর্বোচ্চ পর্যায়গুলোর একটি, এখানে দলীয় কাঠামো বাস্তবায়ন না করে, বরং যা উচিত তা বাস্তবায়ন করাই মুখ্য ও বিবেচ্য হওয়া উচিত।
আব্দুল ওয়াহাব আনাস
শিক্ষার্থী, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]