ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ঝিনাইদহে রেললাইন-মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি রোহিঙ্গাদের জন্য জমি চাইল জাতিসংঘ, নাকচ করল বাংলাদেশ ব্রাজিলের বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষার আগে স্বকীয়তায় ফেরার আহ্বান ম্যাকগিনের রামু বৌদ্ধ বিহারে একদিন দ্রুত বিদায়ে হতাশ তুরস্ক কোচ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বাবা বরগুনায় বেড়েছে গরুর ক্ষুরা রোগ,ভ্যাকসিন সংকটে খামারিরা রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের আহ্বান বারভিডার আ. লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর লজ্জিত আরদা গুলের বেনজিরকে শিগগিরই ফেরত আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী ২৮ জন টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার চকরিয়ায় শ্রীরামকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ রূপগঞ্জে  ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন নওগাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের খাঁচায় ৩ ডাকাত আইওএস ২৭-এ আসছে নতুন ফিচার কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক রাঙামাটিতে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষিকার মৃত্যু ব্রাজিলের কাছে হেরেও ফুটবলারদের নিয়ে গর্বিত হাইতির কোচ বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে চুক্তি হতে পারে ১৫-১৭টি : পররাষ্ট্র সচিব চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’ অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশের’ মৃত্যু টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ট্রাম্পের ভাগ্যে বড় পরিবর্তনের আভাস জ্যোতিষীদের

জাহান্নামে শাস্তির প্রকার

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:১৯ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:১৯ এএম
জাহান্নামে শাস্তির প্রকার
প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট

দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। দুনিয়ায় মুমিনদের কষ্ট-দুর্ভোগ সবই দ্রুত ফুরিয়ে যাবে। কিয়ামতের পরে শুরু হবে এক নতুন জীবন। সে জীবনের শুরু আছে বটে, কোনো শেষ নেই। সেই অনন্ত জীবন কাফেরদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। এমন এক বোঝা, যা থেকে না তারা পালাতে পারবে, না এড়িয়ে যেতে পারবে। সেখানে মৃত্যু নেই, নেই শাস্তি থেকে বাঁচার কোনো উপায়

আল্লাহতায়ালা কাফেরদের স্বাগত জানিয়েছেন জাহান্নামে। অভিনব পদ্ধতিতে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।

গায়ের চামড়া দগ্ধ করা হবে: জাহান্নামের আগুন তার অধিবাসীদের চামড়া দগ্ধ করবে। দগ্ধ চামড়া যখন অনুভূতিহীন হয়ে পড়বে, তখন আল্লাহ তাদের নতুন চামড়া দান করবেন। কারণ চামড়ার সাহায্যেই মানুষ দহন-যন্ত্রণা অনুভব করে। এভাবে অনন্তকাল পর্যন্ত চলতেই থাকবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা আমার নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করে, তাদের আমি আগুনে দগ্ধ করবই। যখনই তাদের চামড়া দগ্ধ হবে, তখনই তার স্থলে নতুন চামড়া সৃষ্টি করা হবে, যাতে তারা শাস্তি ভোগ করে। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৫৬) 

পেটের সমস্ত কিছু গলিয়ে ফেলা হবে: জাহান্নামের মারাত্মক একটি শাস্তি হলো ফুটন্ত পানিতে গোসল। যারা জাহান্নামে যাবে, তাদের মাথায় গরম পানি ঢালা হবে। এই পানি এতটাই গরম হবে, তাদের পেট ও পাকস্থলী গলে যাবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা কুফরি করে, তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আগুনের পোশাক। তাদের মাথার ওপর ঢেলে দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি, যা দ্বারা তাদের পেটে যা আছে, তা এবং তাদের চামড়া গলানো হবে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ১৯-২০) 

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জাহান্নামিদের মাথার ওপর অতি উত্তপ্ত পানি ঢেলে দেওয়া হবে। এই পানি বুক-পিঠ অতিক্রম করে পেটে চলে যাবে। পেটের সমস্ত কিছু বিগলিত করে বের করে দেবে। এরপর পা দিয়ে বেরিয়ে আসবে। এটাকেইসাহর' বলা হয়। তাদের সঙ্গে অনবরত এমন হতেই থাকবে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৫৮২) 

অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে: মানবদেহের সবচেয়ে সম্মানিত অঙ্গ হলো চেহারা। এ কারণে আল্লাহর রাসুল (সা.) চেহারায় প্রহার করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু জাহান্নামিদের এই সম্মানটুকুও রক্ষা করা হবে না। তাদের কিয়ামতের দিন মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায় উপস্থিত করা হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ যাদের পথনির্দেশ করেন, তারাই পথপ্রাপ্ত। আর তিনি যাদের পথভ্রষ্ট করেন, আপনি কখনোই তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে তাদের অভিভাবক পাবেন না। কিয়ামতের দিন আমি তাদের সমবেত করব মুখে ভর করে চলা অবস্থায়-অন্ধ, মুক ও বধির করে। তাদের আবাসস্থল জাহান্নাম। যখনই এর আগুন স্তিমিত হবে, তখনই আমি তাদের জন্য অগ্নিশিখা বৃদ্ধি করে দেব।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৯৭) 

আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘যারা অসৎকর্ম নিয়ে আসবে, তাদের অধোমুখে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে এবং বলা হবে, তোমরা যা করতে তারই প্রতিফল তোমাদের দেওয়া হচ্ছে।’ (সুরা নামল, আয়াত: ৯০) 

শুধু তা-ই নয়; আগুনের ঝাপটা তাদের চেহারা ঝলসে দেবে। নিস্তার পাবে না তারা কিছুতেই। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হায়, যদি কাফেররা সে সময়ের কথা জানত, যখন তারা তাদের সামনে ও পেছন থেকে আগুন প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং তাদের কোনোরূপ সাহায্য করা হবে না।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৩৯)  

জাহান্নামের আগুনে টেনে নেওয়া হবে: কাফেরদের জাহান্নামের আগুনে অধোমুখী করে টেনে নেওয়া হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় অপরাধীরা বিভ্রান্ত ও বিকারগ্রস্ত। যেদিন তাদের উপুড় করে জাহান্নামের দিকে টেনে নেওয়া হবে, সেদিন বলা হবে, জাহান্নামের যন্ত্রণা আস্বাদন করো।’ (সুরা কমার, আয়াত: ৬৬) 

তাদের চূড়ান্ত শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষে হাতে ও গলায় শৃঙ্খল ও বেড়ি পরিয়ে টেনে নেওয়া হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘শীঘ্রই তারা জানতে পারবে, যখন তাদের গলায় বেড়ি ও শৃঙ্খল থাকবে এবং তাদের টেনে নিয়ে যাওয়া হবে।’ (সুরা গাফির, আয়াত: ৭০-৭১) 

চেহারা কালো করে দেওয়া হবে: আল্লাহতায়ালা আখেরাতে জাহান্নামিদের চেহারা কালো করে দেবেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘সেদিন কতক মুখ হবে উজ্জ্বল আর কতক মুখ হবে কালো। (যাদের মুখ কৃষ্ণবর্ণের হবে) তাদের বলা হবে, ঈমান আনার পরে কি তোমরা কুফরি করেছিলে? তবে তোমরা শাস্তি ভোগ করো-যেহেতু তোমরা কুফরি করেছিলে।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৬) 

তাদের মুখমণ্ডল এতটাই কালো হবে যে, দেখে মনে হবে, ঠিক যেন অমাবস্যার অন্ধকার। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যারা মন্দ কাজ করে, তাদের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ এবং তাদের আচ্ছন্ন করবে হীনতা। আল্লাহর হাত থেকে তাদের রক্ষা করার কেউ নেই। তাদের মুখমণ্ডল যেন রাতের অন্ধকার আস্তরণে আচ্ছাদিত। তারা জাহান্নামবাসী। সেখানে তারা স্থায়ী হবে।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত: ২৭)  

আগুন কাফেরদের চতুর্দিক থেকে বেষ্টন করে ফেলবে : যেসব মানুষ কুফরিসহ সব ধরনের গুনাহে লিপ্ত হয়, কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন তাদের চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করে ফেলবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘অবশ্যই, যারা পাপ করে এবং পাপ যাদের বেষ্টন করে ফেলে, তারাই জাহান্নামবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৮১) 

উল্লেখ্য, এ ধরনের সামগ্রিক গুনাহ শুধু কাফের-মুশরিকদের ক্ষেত্রেই কল্পনা করা সম্ভব। এখানে পাপ দ্বারা কুফর ও শিরক বোঝানো হয়েছে। এ দুটি পাপ কারও মধ্যে পাওয়া গেলে তার সমস্ত গুণ ও পুণ্য নষ্ট হয়ে যায়। অন্যথায় তার কিছু পুণ্য বাকি থাকে। 

পাপ যদি হাতের চুড়ির মতো সমস্ত দিক থেকে বেষ্টন করে ফেলে, তবে প্রজ্ঞার দাবি এটাই, শাস্তিও তাকে সকল দিক থেকে পরিবেষ্টন করে ফেলবে এবং হবেও তা-ই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘জাহান্নামে তাদের (নিচে আগুনের) বিছানা থাকবে এবং ওপরে থাকবে (আগুনের) আচ্ছাদন। এভাবেই আমি জালিমদের শাস্তি দিয়ে থাকি।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৪১)  

আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘নিশ্চয় জাহান্নাম কাফেরদের পরিবেষ্টন করে ফেলবে।’ (সুরা তওবা, আয়াত: ৪৯)  

অন্তর গ্রাস করে নেবে জাহান্নামে আগুন: জাহান্নামের আগুন তাদের অস্থি-মজ্জা ও মাংস পুড়িয়ে কলিজা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কখনও নয়, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায়। আপনি কি জানেন, হুতামা কী? হুতামা হলো আল্লাহর প্রজ্বলিত অগ্নি, যা হৃদয়কে গ্রাস করে ফেলবে।’ (সুরা হুমাজা, আয়াত: ৪-৭) 

জাহান্নামিদের নাড়িভুড়ি বেরিয়ে পড়বে: উসামা ইবনে জায়িদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন একশ্রেণির লোককে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হলে, তারা জাহান্নামের আগুনে নিজেদের ঝুলেপড়া নাড়িভুঁড়ি বয়ে বেড়াবে। পেষণযন্ত্রের চারপাশে ঘুরে বেড়ানো গাধার মতো অনবরত ঘুরতে থাকবে। অন্য জাহান্নামিরা তাকে দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়বে। তারা নাম ধরে ডেকে জিজ্ঞেস করবে, কী অপরাধ তোমাদের? তোমরাই কি আমাদের ন্যায়ের আদেশ করতে না? অন্যায় কাজে নিষেধ করতে না? তারা বলবে, হ্যাঁ, আমরাই তোমাদের ন্যায়ের আদেশ করতাম। কিন্তু আমরা নিজেরা সেটা করতাম না। অনুরূপভাবে অন্যায় কাজে নিষেধ করতাম। কিন্তু সবার আগে আমরাই সেটা করতাম।’ (বুখারি, হাদিস: ৩২৬৭) 

যারা জাহান্নামে ঝুলেপড়া নাড়িভুঁড়ি বয়ে বেড়াবে তাদের অন্যতম হলো, আমর ইবনে আমির। সেই সর্বপ্রথম ইসলামকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছে এবং দেবতার পশু উৎসর্গের প্রচলন ঘটিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি আমর ইবনে আমির আল-খুজায়িকে জাহান্নামে নাড়িভুড়ি বয়ে বেড়াতে দেখেছি।’ (বুখারি, হাদিস: ৪৬২৩) 

জাহান্নামিদের জন্য রয়েছে শেকল, বেড়ি, শৃঙ্খল ও হাতুড়ি: মহান আল্লাহ জাহান্নামবাসীদের জন্য শেকল, বেড়ি, শৃঙ্খল ও হাতুড়ি প্রস্তুত করে রেখেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি শেকল, বেড়ি ও জ্বলন্ত আগুন।’ (সুরা দাহর, আয়াত: ৪) 

আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘আমার কাছে রয়েছে শৃঙ্খল ও প্রজ্বলিত আগুন। আর রয়েছে এমন খাদ্য, যা গলায় আটকে যাবে এবং রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা মুজজাম্মিল, আয়াত: ১২-১৩) 

লেখক: আলেম ও গবেষক

 

শামায়েল কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক
ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি জানেন, বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সবচেয়ে পছন্দের পোশাকটি কেমন ছিল এবং সেটি কোন দেশ থেকে আসত? আর যখনই তিনি কোনো নতুন পোশাক গায়ে দিতেন, তখন তিনি এমন একটি কাজ করতেন যা আমাদের জন্য অনুসরণীয়

ইসলামে পোশাক কেবল শরীর ঢাকার মাধ্যম নয়, বরং পোশাক মানুষের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায় সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব রাসুলুল্লাহ (সা.) সব সময় মার্জিত পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করতেন তবে তাঁর একটি বিশেষ চাদরের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পোশাকের তালিকায় সবচেয়ে প্রিয় ছিল ‘হিবারা’ সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট সর্বাধিক প্রিয় কাপড় ছিল হিবারা (ইয়ামানে তৈরি এক বিশেষ চাদর)’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮১৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৫৬২)

তৎকালীন আরব বিশ্বে ইয়েমেনের তৈরি পোশাকের বিশেষ খ্যাতি ছিল সুতি বা কাতান কাপড়ের ওপর লাল, নীল কিংবা সবুজ রঙের ডোরাকাটা কারুকার্যময় বিশেষ চাদরকে ‘হিবারা’ বলা হতো এটি যেমন ছিল আরামদায়ক, তেমনই দেখতেও ছিল অত্যন্ত মার্জিত আকর্ষণীয়

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে অসুস্থ থাকা অবস্থায়ও মার্জিত পোশাক পরিধান করেছিলেন হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে আরও একটি বর্ণনা পাওয়া যায়, একদা রাসুল (সা.) (অসুস্থতার কারণে) উসামা ইবনে যায়েদ (রা.)-এর কাঁধে ভর করে বাইরে বের হলেন সময় তাঁর দেহে পরা ছিল একটি ইয়ামেনি নকশি কাপড় তার পর তিনি লোকদের নামাজের ইমামতি করেন (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৩৭৮৭) এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি পরিপাটি সুন্দর পোশাক পরিধান করাকে পছন্দ করতেন

রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো নতুন পোশাক (যেমন- পাগড়ি, জামা বা চাদর) লাভ করতেন, তখন তিনি আনন্দের সঙ্গে সেটির নাম উচ্চারণ করতেন এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এক চমৎকার দোয়া পাঠ করতেন হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নতুন কাপড় পরিধানের পর বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আন্তা কাসাওতানিহি, আসআলুকা মিন খাইরিহি ওয়া খাইরি মা সুনিআ লাহ, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহি ওয়া শাররি মা সুনিআ লাহ

অর্থ: হে আল্লাহ! তোমারই জন্য যাবতীয় প্রশংসা যেহেতু তুমিই আমাকে তা পরিধান করিয়েছ আমি তোমার কাছে এর কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আরও কল্যাণ চাচ্ছি যে উদ্দেশ্যে এটা তৈরি করা হয়েছে তার আর আমি তোমার শরণাপন্ন হচ্ছি এর যাবতীয় অনিষ্ট হতে এবং যে উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে তার অনিষ্ট হতে (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪০২২; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১১২৬৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পোশাকের এই পছন্দ অভ্যাস থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামে রুচিশীলতা পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব কতখানি অপচয় না করে সাধ্যের মধ্যে সুন্দর মার্জিত পোশাক পরিধান করা এবং নতুন পোশাকে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা রাসুল (সা.)-এর অত্যন্ত সুন্দর একটি সুন্নাহ

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

২০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২০ জুন ২০২৬, শনিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

এশা

৮.০৮ মিনিট

 

ফজর (২১ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মৌসুমি ফল আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
মৌসুমি ফল আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত
ছবি: সংগৃহীত

ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ যেন ফলের এক অফুরন্ত ভান্ডার। বছরজুড়ে ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় বাজারের ফলের ডালি। প্রতিটি মৌসুম নিয়ে আসে নতুন স্বাদ, নতুন পুষ্টি। এই বৈচিত্র্য নিছক প্রকৃতির খেলা নয়, বরং মহান আল্লাহর অপার দয়ার নিদর্শন।

পবিত্র কোরআনে ফলকে আল্লাহ বারবার তার নেয়ামত হিসেবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি এরশাদ করেছেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য তা দিয়ে উৎপন্ন করেন শস্য, জলপাই, খেজুর, আঙুর এবং সব ধরনের ফল।’ (সুরা নাহল, ১১)। অন্যত্র মানুষকে নিজের খাবারের প্রতি দৃষ্টি দিতে বলে আল্লাহ আঙুর, খেজুর, বাগান ও ফলের কথা উল্লেখ করে এরশাদ করেছেন, ‘এসব তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর জীবনোপকরণস্বরূপ।’ (সুরা আবাসা, ২৪-৩২)। প্রতিটি মৌসুমি ফল তাই আল্লাহরই দান, যা চিন্তাশীল মানুষকে তার কুদরতের কথা স্মরণ করায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে মৌসুমি ফল খেতেন এবং তা উপভোগ করতেন। বর্ণিত আছে, তিনি তরমুজ পাকা খেজুরের সঙ্গে খেতেন (আবু দাউদ, ৩৮৩৬; তিরমিজি, ১৮৪৩)। তিনি শসা খেতেন পাকা খেজুরের সঙ্গে (বুখারি, ৫৪৪০; মুসলিম, ২০৪৩) বিশেষভাবে, মৌসুমের প্রথম ফল হাতে পেলে নবিজি (সা.) আল্লাহর কাছে বরকতের দোয়া করে এই দোয়া পড়তেন–আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি সামারিনা, ওয়া বারিক লানা ফি মাদিনাতিনা...—হে আল্লাহ! আমাদের ফলে বরকত দিন, আমাদের শহরে বরকত দিন...। এরপর তিনি ফলগুলো উপস্থিত সবচেয়ে ছোট শিশুর হাতে তুলে দিতেন (মুসলিম, ১৩৭৩)। এ থেকে শেখা যায়, নতুন ফল পেলে কৃতজ্ঞতা ও দোয়ার সুন্নাহ।

নেয়ামত ভোগের পর শুকরিয়া আদায় ঈমানের দাবি। আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘আমি তোমাদের যে পবিত্র রিজিক দিয়েছি তা খাও এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো।’ (সুরা বাকারা, ১৭২)। আর শুকরিয়ার প্রতিদান বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও তিনি দিয়েছেন, এরশাদ করেছেন, ‘যদি কৃতজ্ঞ হও, অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম, ৭)। তাই প্রতিটি মৌসুমি ফল মুখে দেওয়ার আগে ‘বিসমিল্লাহ’ আর শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে আমরা যেন স্মরণ করি–এ স্বাদ, এ পুষ্টি সবই আল্লাহর দান। আল্লাহ আমাদের তার নেয়ামতের কদর করার ও যথাযথ শুকরিয়া আদায়ের তওফিক দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’
ছবি: খবরের কাগজ

প্রতি বছর লাখ লাখ বাংলাদেশি উমরা পালনের জন্য সৌদি আরব যান। কিন্তু সেবার মান, এজেন্সির স্বচ্ছতা ও যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। বাংলাদেশ থেকে কি বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব নাকি অসম্ভব, প্রতিবন্ধকতা কী কী—এসব নিয়েই ট্রাভেল সেবা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উমরা সেবা ও মনির গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন মুফতি উমর ফারুক আশিকী

অন্যান্য মুসলিম দেশের তুলনায় বাংলাদেশের উমরা সেবা নিয়ে এত সমালোচনা কেন?
মো. মনিরুল ইসলাম: সততার সঙ্গে স্বীকার করছি, সমালোচনার কিছু ভিত্তি আছে। আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে এ সেক্টরে ‘যত কম খরচে যত বেশি যাত্রী নেওয়া যায়’ এমন একটা মানসিকতা কাজ করেছে। আর যখন কম খরচে বেশি যাত্রী নেওয়ার মানসিকতা কাজ করবে, তখন সেবার মান গৌণ হয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ প্রশিক্ষিত গাইড, নির্দিষ্ট মানের হোটেল এবং প্যাকেজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সুনাম কুড়িয়েছে। আমরা সে জায়গায় পিছিয়ে। আমাদের উমরা প্যাকেজ বিভিন্ন অস্বচ্ছতায় মোড়ানো থাকে। তবে এগুলো অযোগ্যতার সমস্যা নয়, ব্যবস্থাপনার সমস্যা, যা খুব সহজেই ঠিক করা সম্ভব।

বিমান টিকিট ও ফ্লাইট নিয়ে অভিযোগ আসে, এ ব্যাপারে আপনাদের অবস্থান কী?
মো. মনিরুল ইসলাম: বড় অভিযোগ হলো শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট পরিবর্তন করা বা দীর্ঘ ট্রানজিট চাপিয়ে দেওয়া। অনেক যাত্রী জানেনই না তিনি কোন বিমানে যাচ্ছেন, কত ঘণ্টার ট্রানজিট বিরতিতে যাচ্ছেন। আমরা চুক্তির সময়ই বিমানের নাম, রুট ও ট্রানজিটের সময়সহ সব আলোচনা লিখিতভাবে জানিয়ে দিই। বয়স্ক যাত্রীদের জন্য যথাসম্ভব সরাসরি বা স্বল্প-ট্রানজিট ফ্লাইট রাখি, কারণ দীর্ঘ যাত্রা তাদের শরীরে মারাত্মক চাপ ফেলে।

হোটেল ও আবাসন নিয়ে সবচেয়ে পুরোনো অভিযোগ হলো—যে মানের হোটেল দেওয়ার কথা ছিল তার চেয়ে নিম্নমানের হোটেল দিয়েছে। এর সমাধান কী?
মো. মনিরুল ইসলাম: উমরা সফরের সবচেয়ে বড় ফাঁকি হলো এটি। অনেকে হারামের কাছে বলে বাস্তবে কয়েক কিলোমিটার দূরে রাখেন। এখন নুসুকের নিয়মে কেবল মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হোটেলই ব্যবহার করতে হয়, আর বুকিং ডিজিটালি নথিভুক্ত হয়–ফলে মিথ্যা বলার সুযোগ কমেছে। আমরা হোটেলের নাম, হারাম থেকে দূরত্ব ও গুগল ম্যাপের লিংক যাত্রীকে আগেই দিই, যেন নিজে যাচাই করতে পারেন।

খাবার নিয়ে যাত্রীদের, বিশেষত বয়স্কদের অভিযোগ থাকে। এ বিষয়ে কী করছেন?
মো. মনিরুল ইসলাম: ভিনদেশি খাবারে অনেকেরই, বিশেষ করে বয়স্ক যাত্রীদের কষ্ট হয়। আমরা পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বাংলা ঘরানার খাবার–ভাত, ডাল, মাছ-মাংস দেওয়ার ব্যবস্থা রাখি এবং খাবারের মান নিয়মিত তদারকি করি। ইবাদতের পূর্ণ শক্তি ধরে রাখতে সুস্থ শরীর জরুরি, তার ভিত্তিই হলো ভালো খাবার।

ধর্মীয় দিকনির্দেশনা ও গাইড বা মুয়াল্লিম সেবা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মো. মনিরুল ইসলাম: এটিই উমরার প্রাণ। অনেকে জীবনে প্রথমবার যান, ইহরাম-তাওয়াফ-সাঈর নিয়ম ঠিকমতো জানেন না। আমরা যাত্রার আগে দেশে প্রশিক্ষণ করাই এবং সঙ্গে প্রশিক্ষিত মুয়াল্লিম দিই, যিনি প্রতিটি ধাপে কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিক নিয়ম শেখান। নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা সহায়িকা ও নিরাপদ ব্যবস্থা রাখা হয়।

প্যাকেজের দাম ও লুকানো খরচ নিয়ে বড় অভিযোগ। স্বচ্ছতা কীভাবে আসবে?
মো. মনিরুল ইসলাম: লুকানো খরচই আমাদের এ খাতের সবচেয়ে বড় আস্থার সংকট। এ থেকে বেরিয়ে আশা আবশ্যক। কারণ, উমরা সাধারণ কোনো সফর না, এটি ইবাদতের সফর। সুতরাং এ সফরে কোনো কিছু লুকানো থাকা উচিত না। 

আমরা চুক্তিপত্রে ভিসা, বিমান, হোটেল, খাবার, পরিবহন, জিয়ারত–প্রতিটি খাত আলাদা করে লিখে দিই; পরে কোনো বাড়তি টাকা নেওয়া হয় না। যাত্রী আগেই জানেন তিনি কী পাচ্ছেন, কত টাকায়। স্বচ্ছতাই দীর্ঘমেয়াদে আস্থা তৈরি করে, আর আস্থাই এ ব্যবসার মূলধন।

আপনার দৃষ্টিতে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা কী কী?
মো. মনিরুল ইসলাম: বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানতম সমস্যা হলো যথেষ্ট প্রশিক্ষণের অভাব। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ, যারা ভালো মানের উমরা সেবা দেন বলে বিশ্বে স্বীকৃত তারা যাত্রীদের উন্নতমানের ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে সফরে পাঠান। আমাদের দেশে এ প্রশিক্ষণের প্রচণ্ড অভাব। যারা কিছু প্রশিক্ষণ দেন, তাও যথেষ্ট নয়। 

এছাড়া আরেকটি সমস্যা হলো, উমরা সেবাকে নিছক বাণিজ্যিকীকরণ মানসিকতা। ব্যবসা করা তো হলাল, তবে উমরা সেবাকে নিছক ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করার কারণে মানসিকতাগত ঘাটতি ঘটে এবং এর ফলে যাত্রীরা প্রতারিত হন। 

বাংলাদেশ কি বিশ্বমানের উমরা সেবা দিতে পারবে?
মো. মনিরুল ইসলাম: অবশ্যই পারবে, এ ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। আমাদের যাত্রীর সংখ্যা বিশাল, চাহিদাও প্রবল। দরকার শুধু জবাবদিহি, প্রশিক্ষণ আর সততা। সরকার ও হাব যদি কেবল লাইসেন্সধারী, যাচাই করা এজেন্সিকে কাজের সুযোগ দেয়, অসাধুদের কঠোরভাবে দমন করে, আর আমরা মালিকরা মুনাফার আগে যাত্রীর মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিই; তাহলে মালয়েশিয়া কেন, যেকোনো দেশের সম সেবা বাংলাদেশ দিতে পারবে। মনে রাখতে হবে, আমরা শুধু পর্যটক পাঠাচ্ছি না, আল্লাহর মেহমান পাঠাচ্ছি। এই দায়িত্ববোধটুকু জাগলেই বাংলাদেশের উমরা সেবা বিশ্বসেরা হবে, ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয়

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয়
ছবি: সংগৃহীত

বছর শেষ হয়। নতুন বছর আসে। কিন্তু আরবি নববর্ষের আগমন শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো নয়। এটি একটি ডাক, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বান্দার দিকে ডাক। নতুন করে শুরু করার, পুরোনো গুনাহ ঝেড়ে ফেলার, আর তার দিকে ফিরে আসার ডাক। কেননা আরবি ১২ মাসের প্রথম মাস, মুহাররম, কোনো সাধারণ মাস নয়। এটি স্বয়ং আল্লাহর মাস। মুহাররম শব্দটি আরবি হারাম ধাতু থেকে এসেছে, অর্থ নিষিদ্ধ বা পবিত্র। নামের মধ্যেই এই মাসের মর্যাদার ইঙ্গিত।

ইসলামপূর্ব আরবেও এই মাসকে সম্মান করা হতো। যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ থাকত, রক্তপাত নিষিদ্ধ ছিল। ইসলাম এসে সেই মর্যাদাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) ৬৩৯ খ্রিষ্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে হিজরি সনের গণনা শুরু করেন। তিনি মুহাররমকেই এই নতুন সনের প্রথম মাস নির্ধারণ করেন।

আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা ১২টি, আল্লাহর কিতাবে, যেদিন থেকে তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। সুতরাং এই মাসগুলোয় তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না। (সুরা তাওবা: ৩৬)। এই চারটি সম্মানিত মাস হলো, মুহাররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ। ইমাম ইবনে কাসির এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এ মাসগুলোয় গুনাহের ভার বহুগুণ বেশি, তেমনি নেক আমলের প্রতিদানও বহুগুণ বেশি। মানুষ যেন সারা বছর পাপ করে এই মাসে এসে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ পায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ। (মুসলিম: ১১৬৩) ইবনে রজব (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন অত্যন্ত চমৎকার কথা–আল্লাহতায়ালা শুধু সেই সত্তা বা বস্তুকেই নিজের দিকে সম্বন্ধিত করেন, যা তার কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদার, যেভাবে তিনি তার নবিদের আবদুল্লাহ বলেছেন, কাবাকে বায়তুল্লাহ বলেছেন, আর উষ্ট্রীকে নাকাতুল্লাহ বলেছেন। সেই একই সম্মানে মুহাররমকে বলা হয়েছে শাহরুল্লাহ, আল্লাহর মাস। আর যেহেতু রোজাকে আল্লাহ নিজেই বলেছেন এটি আমার জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব, তাই এই মাসে রোজা রাখার মর্যাদা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।

মুহাররমের দশম দিন, আশুরা। আরবি আশারা থেকে এই নাম, অর্থ দশ। এই একটি দিনে আল্লাহতায়ালা একাধিকবার তার অসীম রহমতের দরজা খুলে দিয়েছেন। সবচেয়ে বড় ঘটনা, এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সমুদ্র দুই ভাগ হয়েছিল। লাখ লাখ মানুষ পার হয়েছিল। আর পেছনে ফেরাউন তার বাহিনীসহ সেই পানিতেই ডুবে গিয়েছিল। ইতিহাসের সেই বিস্ময়কর দৃশ্যের কথা কল্পনা করুন, একটি অসহায় জাতির মুক্তি, একটি অহংকারী জালিমের পতন। এই দিনেই! হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখলেন ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা কেন? তারা বলল, এটা মহান দিন। এই দিনে আল্লাহ মুসা ও তার সম্প্রদায়কে রক্ষা করেছেন, ফেরাউনকে ডুবিয়ে দিয়েছেন। তাই মুসা (আ.) কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রোজা রেখেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমরা মুসার অধিক হকদার। তখন তিনি নিজে রোজা রাখলেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখতে বললেন। (বুখারি: ২০০৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, তিনি বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (মুসলিম: ১১৬২), এক বছরের ছোট গুনাহ! শুধু একটি রোজার বিনিময়ে। এই সুযোগ কি হাতছাড়া করতে পারে?

তবে শুধু দশম তারিখে রোজা রাখলে ইহুদিদের সঙ্গে মিল হয়ে যায়। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, পরের বছর বেঁচে থাকলে আমি নবম তারিখেও রোজা রাখব। (মুসলিম: ১১৩৪), পরের বছর আসার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন। 

মুহাররমে করণীয় আমল

অধিক নফল রোজা রাখা। গোটা মুহাররম মাসই নফল রোজার জন্য বিশেষ। ইবনে রজব (রহ.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জিলহজ মাসে রোজা রেখে বছর শেষ করল এবং মুহাররমে রোজা রেখে বছর শুরু করল, তার পুরো বছরটি ইবাদতের মধ্যে ধরা যায়।

তওবা ও ইস্তেগফার বাড়ানো। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই পুরোনো গুনাহের বোঝা ঝেড়ে ফেলুন। মাসটি আল্লাহর মাস, তাই তার কাছে বেশি বেশি ফিরে আসুন। প্রতিটি সন্ধ্যায় একটু সময় রাখুন হিসাব-নিকাশের, গত বছর কী হারিয়েছি, এই বছর কী পাওয়ার চেষ্টা করব।

নেক আমলে মনোযোগী হওয়া। সম্মানিত মাসে নেক আমলের প্রতিদান বহুগুণ বেশি। কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ, সদকা–সবকিছুতে মনোযোগ বাড়ান। ইমাম ইবনে কাসির বলেছেন, আল্লাহ যাকে সম্মান দিয়েছেন, জ্ঞানীরা সেটাকে সম্মান করে।

পরিবারের জন্য খরচ বাড়ানো। একটি বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি আশুরার দিন পরিবারের জন্য প্রশস্ত খরচ করে, আল্লাহ সারা বছর তার রিজিকে প্রশস্ততা দেন। তবে এই হাদিসটি মুহাদ্দিসদের দৃষ্টিতে দুর্বল। তাই এটি ফজিলতের আমল হিসেবে বিবেচনা করা গেলেও একে মজবুত ভিত্তিতে প্রচার করা ঠিক নয়।

মুহাররমে বর্জনীয় বিষয়

নিজেদের ওপর জুলুম করা। আল্লাহ নিজেই সুরা তাওবায় সতর্ক করেছেন, এই মাসে নিজেদের প্রতি অন্যায় করো না। পাপাচারে জড়ানো, হক নষ্ট করা, এগুলো অন্য মাসেও হারাম, কিন্তু এই মাসে আরও বেশি গুরুতর।

মাতম ও বুকে বাড়ি মারা। হজরত হুসাইন (রা.)-এর স্মরণে বুকে বাড়ি মারা, শোকমিছিল বের করা, নিজেকে আঘাত করা, এগুলো ইসলামের নির্দেশ নয়, বরং জাহেলি প্রথা। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট বলেছেন, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে গালে থাপ্পড় দেয়, কাপড় ছেঁড়ে এবং জাহেলি যুগের মতো বিলাপ করে। (বুখারি: ১২৯৪; মুসলিম: ১০৩) হজরত ইয়াকুব (আ.) প্রিয় পুত্র ইউসুফকে হারিয়ে কাঁদতেন, তার চোখ সাদা হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তিনি বুকে বাড়ি মারেননি, জামা ছেঁড়েননি। বেদনা প্রকাশের ইসলামসম্মত পথ হলো ধৈর্য আর দোয়া।

আশুরাকে বিশেষ উৎসব বানানো। কেউ কেউ এই দিন বিশেষ খাবার রান্না করে, উৎসব পালন করে, এরও কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই। ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন, এই দিনকে কেউ শোকের দিন বানায়, কেউ উৎসবের দিন বানায়, দুটোই বিদআত।

মুহাররমকে অশুভ মাস মনে করা। অনেকে মনে করেন এই মাসে বিয়ে-শাদি বা শুভ কাজ করা যায় না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কুসংস্কার, ইসলামে এর কোনো প্রমাণ নেই।

৬১ হিজরির মুহাররমের দশম তারিখ। ইরাকের কারবালার মাঠ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র, ফাতেমা (রা.)-এর কলিজার টুকরা, হজরত হুসাইন (রা.) সেদিন ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহিদ হয়েছিলেন। সেই ত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য চিরকালের অনুপ্রেরণা। তাকে ভালোবাসা ঈমানের দাবি, কিন্তু সেই ভালোবাসা প্রকাশ পাবে তার পথে চলার মধ্যে, মাতম আর শোকমিছিলে নয়। মুহাররম আমাদের দরজায় এসে দাঁড়ায় প্রতি বছর, একটাই বার্তা নিয়ে; নতুন করে শুরু করো। গুনাহ ছেড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসো। আশুরার রোজা এই যাত্রার সবচেয়ে মূল্যবান পাথেয়। রমজান আসতে এখনো অনেক বাকি, কিন্তু এখনই একটি রোজা রাখলে এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যেতে পারে।

 

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক