আবু উবাইদ আত-তাসতারি (রহ.) বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন কিয়ামত এসে গেছে। লোকজন সমবেত হয়েছে। এদিকে একজন ঘোষক ঘোষণা করল, হে লোকেরা, যারা দুনিয়ার জগতে ক্ষুধার্ত ছিল, তারা যেন আহার করার জন্য প্রস্তুত হয়। লোকজন পর্যায়ক্রমে আহারের জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগল। এরপর আমাকেও ডেকে বলা হলো, আবু উবাইদ। তুমিও প্রস্তুত হও। আমিও আহারের জন্য প্রস্তুত হলাম। বিছানো হলো দস্তরখানা। আমি মনে মনে বললাম, কতই না আনন্দের বিষয় আমিও এখানে আসতে পেরেছি।
মআহমাদ বিন মাসরুক বলেন, স্বপ্নে দেখলাম কিয়ামত এসে গেছে। মানুষ সমবেত হয়েছে। হঠাৎ ঘোষণাকারী ঘোষণা করল, নামাজের সময় হয়েছে। কাতারবন্দি হয়ে গেল সবাই। এরপর আমার কাছে একজন ফেরেশতা এলেন; যার মুখমণ্ডল ছিল দৈর্ঘ্য-প্রস্থে প্রায় এক মাইলের মতো। আমাকে বললেন, আগে যাও এবং লোকদের নামাজ পড়াও। আমি তার চেহারার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকালাম। হঠাৎ তার কপালে লেখা দেখতে পেলাম ‘জিবরাইল আমিনুল্লাহ’। আমি জিজ্ঞেস করলাম, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোথায়? জিবরাইল বললেন, তিনি সুফিদের পানাহার করানোর কাজ করছেন।
শায়খ আবু সাদ বলেন, মহান আল্লাহ কিয়ামত সম্পর্কে বলেন, ‘আমি কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারও প্রতি জুলুম হবে না।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৪৭)
আরও পড়ুন: স্বপ্নে জাহান্নাম দেখলে কী হয়?
কোনো স্থানে কিয়ামত কায়েম হতে দেখা উক্ত স্থানের অধিবাসীদের জন্য সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আলামত। সেখানকার জালেমদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নেওয়া এবং মজলুমদের সাহায্য করারও লক্ষণ। কেননা কিয়ামত হলো ফায়সালা ও ইনসাফের দিন।
কোথাও কিয়ামতের কোনো আলামত প্রকাশ পেতে দেখা, যেমন পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া, মাটির নিচ থেকে প্রাণী বের হওয়া, দাজ্জাল বা ইয়াজুজ-মাজুজ ইত্যাদির প্রকাশ হওয়া। এক্ষেত্রে স্বপ্নদ্রষ্টা সৎ ও নেককার হলে উক্ত স্বপ্ন তার জন্য সুসংবাদ হিসেবে বিবেচ্য হবে। অসৎ ও দুষ্কৃতকারী কিংবা মন্দ কাজের ইচ্ছা পোষণকারী হলে স্বপ্নটি তার জন্য সাবধানবাণী বোঝাবে।
কিয়ামত কায়েম হয়েছে এবং সে আল্লাহতায়ালার সামনে দাঁড়িয়ে আছে দেখলে ওই স্বপ্ন ধ্রুব সত্য। সেখানে দ্রুত ন্যায় ও ইনসাফ দেখা দেবে। কবর ফেটে গেছে এবং মৃতরা কবর থেকে বের হচ্ছে দেখলে ওই স্বপ্নও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষণ। যদি দেখে কিয়ামত কায়েম হয়েছে, অথচ সে রণাঙ্গনে আছে তা হলে সে সাহায্য পাবে। স্বপ্নদ্রষ্টা কিয়ামতের ময়দানে অবস্থান করছে দেখলে ওই স্বপ্নের মাধ্যমে তার সফর আবশ্যক হয়ে উঠবে। স্বপ্নদ্রষ্টা একা বা অন্য আরেকজনের সঙ্গে হাশর হয়েছে দেখলে ওই স্বপ্ন দ্বারা বোঝাবে, স্বপ্নদ্রষ্টা একজন অত্যাচারী। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘জালেমদের এবং তাদের দোসরদের সমবেত করো।’ (সুরা সাফফাত, আয়াত: ২২)
আরও পড়ুন: স্বপ্নে মৃতের খাটিয়া দেখলে কী হয়?
যদি দেখে শুধু তার ওপরেই কিয়ামত এসেছে, তা হলে উক্ত স্বপ্ন তার মৃত্যুর লক্ষণ। কেননা হাদিস এসেছে, ‘যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল, তার কিয়ামত কায়েম হয়ে গেল।’
যদি দেখে কিয়ামত কায়েম হয়েছে এবং তার ভয়াবহ অবস্থা স্বচক্ষে দেখার পর আবারও দেখল, তা শান্ত হয়েছে এবং আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে, তা হলে এটা এমন লোকের পক্ষ থেকে ন্যায়-ইনসাফের পরেই জুলুম-অত্যাচারের আলামত, যাদের পক্ষ থেকে অত্যাচারের আশঙ্কা করা হয়নি। কারও মতে, এ ধরনের স্বপ্ন এই আলামত বোঝায় যে, স্বপ্নদ্রষ্টা পাপ কাজে আছে, অথবা অনবরত মিথ্যার ওপর পড়ে আছে। কেননা মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি তারা আবারও প্রেরিত হয়, তবুও তাই করবে, যা তাদের নিষেধ করা হয়েছিল। নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী।’ (সুরা আনয়াম, আয়াত: ২৮)
(স্বপ্নের ব্যাখ্যাবিদ মুহাম্মাদ ইবনে সিরিনের বিখ্যাত বই তাফসিরুল আহলাম বা স্বপ্নের ব্যাখ্যা থেকে সংক্ষেপিত)
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক