মহান আল্লাহতায়ালা এই পৃথিবীতে অসংখ্য প্রাণী সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটি প্রাণীর মধ্যে রয়েছে তাঁর অসীম কুদরত ও হিকমতের নিদর্শন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘আল্লাহ প্রতিটি প্রাণীকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ পেটের উপর চলে, কেউ দুই পায়ে চলে, আবার কেউ চার পায়ে চলে। আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই সৃষ্টি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।’ (সুরা নূর, ৪৫)।
আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে লাখো প্রজাতির প্রাণী সৃষ্টি করেছেন। ক্ষুদ্র পিঁপড়া থেকে শুরু করে বিশাল তিমি মাছ— প্রতিটি প্রাণীই তাঁর অপূর্ব কারিগরির নিদর্শন। সূক্ষ্ম মৌমাছি থেকে শুরু করে শক্তিশালী সিংহ— সবার মধ্যেই রয়েছে আল্লাহর অসীম জ্ঞান ও ক্ষমতার প্রমাণ। প্রতিটি প্রাণীর দেহ গঠন তাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে নিখুঁতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মাছের পাখনা, পাখির ডানা, উটের কুঁজ, জিরাফের লম্বা গলা- প্রতিটি অঙ্গই আল্লাহর পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সৃষ্টি। আল্লাহতায়ালা প্রতিটি প্রাণীর জন্য খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘পৃথিবীতে এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নয়।’ (সুরা হুদ, ৬)
আল্লাহতায়ালা অনেক প্রাণীকে মানুষের খাদ্যের জন্য হালাল করেছেন। গরু, ছাগল, ভেড়া, মুরগি, মাছ—এসব প্রাণী মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে। ঘোড়া, উট, গরু, মহিষ- এসব প্রাণী মানুষের পরিবহন ও কৃষিকাজে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনি ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা সৃষ্টি করেছেন তোমাদের আরোহণ ও শোভার জন্য।’ (সুরা নাহল, ৮)। ভেড়ার পশম, রেশম কীটের রেশম, গরুর চামড়া—এ সবকিছুই আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত, যা মানুষের জীবনকে সহজ করেছে। মধু, মাছের তেলসহ অনেক প্রাণী থেকে প্রাপ্ত উপাদান মানুষের স্বাস্থ্যরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রাণীদের প্রতি দয়া দেখানোর ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটি জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শনে সওয়াব রয়েছে।’ (বুখারি ও মুসলিম)। প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। একটি হাদিসে এসেছে যে, একজন মহিলাকে একটি বিড়ালের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। প্রাণী জবাই করার সময়ও ইসলাম দয়া ও করুণার শিক্ষা দেয়। ধারালো ছুরি ব্যবহার করা, প্রাণীকে কষ্ট না দেওয়ার চেষ্টা করা- এসবই ইসলামের নির্দেশনা।
আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি রহস্যের একটি অংশ হলো প্রাণিজগতের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা। মৌমাছি ফুলের পরাগায়ন করে, পাখিরা বীজ ছড়িয়ে বনভূমি সৃষ্টি করে, মাছেরা জলজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখে—এভাবে প্রতিটি প্রাণী তাদের নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করে। পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন প্রাণীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা নামল-এ পিঁপড়ার কথা, সুরা নাহল-এ মৌমাছির কথা, সুরা ফীল-এ হাতির কথা রয়েছে। এসব ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি যে, আল্লাহতায়ালা ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সব প্রাণীকেই তাঁর পরিকল্পনায় ব্যবহার করতে পারেন।
আল্লাহতায়ালার সৃষ্ট প্রাণিজগৎ তাঁর অসীম ক্ষমতা ও দয়ার নিদর্শন। প্রতিটি প্রাণীর মধ্যে রয়েছে তাঁর হিকমত ও কল্যাণের ইঙ্গিত। একজন মুমিন হিসেবে আমাদের উচিত এই নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং প্রাণিজগতের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা। আল্লাহতায়ালা আমাদের তাঁর সৃষ্টির যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, তাতে রয়েছে উষ্ণতা ও বিবিধ উপকার এবং তা থেকে তোমরা আহার করে থাক।’ (সুরা নাহল, ৫)
লেখক: শিক্ষার্থী, শরীফবাগ ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা, ধামরাই