হজের সফরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সীমানা হলো মিকাত। মিকাত অতিক্রম করার আগেই ইহরাম বাঁধা প্রতিটি হাজির জন্য আবশ্যিক। ইহরাম বাঁধার আগে দুই রাকাত নামাজ পড়া সুন্নত বা মুস্তাহাব। কিন্তু এই নামাজকে কেন্দ্র করে অনেক হাজির মধ্যে একটি বড় ভুল ধারণা কাজ করে। অনেকে মনে করেন, ইহরামের আগে দুই রাকাত নামাজ পড়া বুঝি একদম বাধ্যতামূলক বা জরুরি। ফলে দেখা যায়, বিমানে বা অন্য কোনো বাহনে যাতায়াতের সময় নামাজের জায়গা বা সুযোগ না পাওয়ায় তারা ইহরাম বাঁধতে বিলম্ব করতে থাকেন। এমনকি নামাজের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে তারা ইহরাম ছাড়াই মিকাত অতিক্রম করে ফেলেন।
আরো পড়ুন: ইহরাম অবস্থায় কাবার গিলাফ ধরা যাবে কি?
মনে রাখা জরুরি যে, ইহরাম ছাড়া মিকাত অতিক্রম করা অত্যন্ত বড় গুনাহ এবং এর ফলে দম বা জরিমানা ওয়াজিব হয়ে যায়। পক্ষান্তরে ইহরামের আগের দুই রাকাত নামাজ পড়া কেবল মুস্তাহাব। অর্থাৎ নামাজের সুযোগ থাকলে অবশ্যই তা পড়ে ইহরাম বাঁধবেন। কিন্তু যদি নামাজের সুযোগ না থাকে কিংবা এমন পরিস্থিতি হয় যে নামাজ পড়তে গেলে মিকাত পার হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে নামাজ ছাড়াই ইহরামের নিয়ত করে ফেলবেন।
আরো পড়ুন: বিদায় হজের ভাষণ নিয়ে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা ও বাস্তবতা
নামাজ পড়তে না পারার কারণে ইহরাম বিলম্বিত করে মিকাত পার করে দেওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে মোটেও সঠিক নয়। হজের প্রতিটি ধাপ অনেক স্পর্শকাতর। তাই আবেগের চেয়ে মাসয়ালার গুরুত্ব দেওয়া বেশি প্রয়োজন। মিকাত আসার আগেই ইহরামের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হোন এবং সম্ভব হলে অজু করে নিন। যদি নামাজের পরিবেশ না থাকে, তবে আল্লাহর ওপর ভরসা করে ইহরামের নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ শুরু করুন। আল্লাহ আমাদের হজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি আমল সহিহভাবে আদায় করার তাওফিক দিন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক