দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর ত্যাগের পর যখন একজন হাজি পবিত্র বাইতুল্লাহর একেবারে কাছে পৌঁছান, তখন আবেগের আতিশয্যে অনেকেই কাবা শরিফের দেয়াল স্পর্শ করতে চান কিংবা গিলাফ ধরে আলিঙ্গন করতে চান। কিন্তু ইহরাম অবস্থায় এই সাধারণ কাজটি আপনার ইবাদতে বড় ধরনের ত্রুটি তৈরি করতে পারে।
ইহরামের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো শরীরে বা কাপড়ে কোনো প্রকার সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না। পবিত্র কাবা শরিফের দেয়াল এবং গিলাফের নিচের অংশে (প্রায় ৭-৮ ফুট পর্যন্ত) সব সময় প্রচুর পরিমাণে উন্নত মানের সুগন্ধি বা আতর লাগানো থাকে। আপনি যখনই গিলাফ বা দেয়াল স্পর্শ করবেন, আপনার হাতে বা ইহরামের কাপড়ে সেই সুগন্ধি লেগে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
আরো পড়ুন: আপনিও কি এই ভুলটি করছেন?
ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিযুক্ত গিলাফ বা দেয়াল স্পর্শ করলে আপনার অঙ্গে সুগন্ধি লেগে যায়, যা ইহরামের পরিপন্থি। যদি সুগন্ধি বেশি পরিমাণে লেগে যায়, তবে ক্ষেত্রবিশেষে দম বা জরিমানা ওয়াজিব হয়ে যেতে পারে। তাই বাইতুল্লাহর প্রতি গভীর মহব্বত থাকা সত্ত্বেও ইহরাম অবস্থায় গিলাফ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকাই শরিয়তের নির্দেশ।
বাইতুল্লাহর নিকটে গিয়ে কান্না করা, দোয়া করা এবং তার দিকে তাকিয়ে থাকা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। তবে এই মহব্বত প্রকাশ করতে গিয়ে যেন ইহরামের কোনো হুকুম লঙ্ঘন না হয়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। আবেগের এই মুহূর্তে নিজের হুঁশকে কাজে লাগানোই প্রকৃত ইবাদত।
আরো পড়ুন: ভিন্ন মাজহাবের ইমামের পেছনে নামাজ কি হবে?
হজ বা উমরার ইহরাম খোলার পর আপনি প্রাণভরে বাইতুল্লাহ স্পর্শ করুন, মুলতাজামে বুক লাগিয়ে দোয়া করুন–তাতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু ইহরাম অবস্থায় নিজেকে সংযত রাখুন। সামান্য অসতর্কতায় যেন আপনার কষ্টার্জিত ইবাদতে কোনো ত্রুটি না আসে। আল্লাহ আমাদের সবার হজ ও উমরাকে কবুল ও মাকবুল করুন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক