ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক বোয়ালমারীতে শতবর্ষী কালী মন্দিরে ভাঙচুর চাঁদাবাজির অভিযোগে সোনারগাঁওয়ের এমপি পুত্র সজীব আটক প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু ‘কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন’ আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ যুদ্ধবিরতির পথে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপ শুরু জেনেভায় সিলেটে টানা বৃষ্টি, বন্যার শঙ্কা পাউবোর বাংলাদেশের বাজেট ২০২৬-২০২৭: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা গাজীপুরে নিষিদ্ধ আ. লীগের বিক্ষোভ মিছিল প্রযুক্তির অপচ্ছায়া সড়কে ‘এআই ক্যামেরা’ ও অভিনব ডিজিটাল ডাকাতি বাবা দিবসে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: আমরা কি বাবা-মাকে হারাচ্ছি, নাকি তাদের সঙ্গে সময়ের সংযোগ হারাচ্ছি! ১০ দফা দাবিতে চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের মানববন্ধন সোমবার মোহভঙ্গের বাংলাদেশ: যখন বুঝলাম সর্বনাশ হয়ে গেছে অরণ্যের অন্ত্যজ কথা বরিশালে গ্রেপ্তার এড়াতে ছাদ থেকে পড়ে আ. লীগ নেতার মৃত্যু ইরান ম্যাচে বেলজিয়ামের মূল ফোকাস নিজেদের খেলায়: গার্সিয়া কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু গোপনে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বিপ্লব দেব প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র জাহাজডুবির দুঃসহ অধ্যায় শেষে দেশে ফেরা সুনামগঞ্জে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত হাইড্রোলিক হর্নের অত্যাচার ও বিপন্ন জনস্বাস্থ্য

গোয়েন্দা নজরদারিতে রাজনৈতিক দল

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৩, ১২:৩০ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪৭ এএম
গোয়েন্দা নজরদারিতে রাজনৈতিক দল
প্রতীকী ছবি

দেশে বিশৃঙ্খলার উদ্দেশ্যে যদি কোনো রাজনৈতিক দল অবৈধ অস্ত্র মজুত রাখে, তাহলে শক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এ জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড ও নেতা-কর্মীদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ-বিএনপির বেশ কিছু অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর একটু বেশি নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একটি বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য জানায়।

বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীর কাছে অবৈধ কোনো অস্ত্র আছে কি না, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের তা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 
সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের এক বৈঠকে সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নামে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। ডিএমপি ও র‌্যাব বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করে। গত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শতাধিক অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে। বড় দুই রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১৯ আগস্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ এক অভিযানে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের ছয় নেতাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গোয়েন্দারা জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্য তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে মাঠে রয়েছেন তারা। গোয়েন্দা পুলিশের আরেক অভিযানে ২৮ আগস্ট ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবুল হাসান চৌধুরীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

ছাত্রদল নেতাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে ডিবি পুলিশ জানায়, পুলিশকে দুর্বল মনে করে কোনো অস্ত্র কারবারি, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি বা শীর্ষ সন্ত্রাসী ঢাকা শহরে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াবে আর ডিবির টিম বসে থাকবে, সেটি হবে না। পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে ভয় পায় না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে, সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা পুলিশের প্রতিটা টিম অবৈধ অস্ত্র কারবারিদের বিরুদ্ধে সতর্ক রয়েছে।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ও ডিবি-উত্তর) খোন্দকার নুরুন্নবী বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে একটি রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা-কর্মী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ত্র মজুত করছেন। আমরা বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে জানতে পারি, তারা ছাত্রদলের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী। এরপর তদন্তে উঠে আসে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে অস্ত্র সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, অস্ত্র সরবরাহকারীরা ছাত্রলীগ, ছাত্রদল বা যে দলেরই হোক না কেন, তথ্য পেলেই আমরা ব্যবস্থা নেব।

গোয়েন্দারা জানান, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য তারা মাঠে কাজ করছেন। এই দুই দলের কোনো নেতা-কর্মীর কাছে অবৈধ অস্ত্র আছে কি না, সে ব্যাপারেও নজরদারি করা হচ্ছে। 

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহকারীদের আমরা আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি। ইতোমধ্যে অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন দলের ক্যাডারদের আমরা গ্রেপ্তার করেছি।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের দায়িত্বশীল আরেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, শুধু বড় দুই দলেরই নয়, তাদের সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক দল জড়িত রয়েছে, তারাও যাতে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ করে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, তা মাথায় রেখেই সতর্ক আছে পুলিশ।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চলমান। শুধু বড় দুই দলের নেতা-কর্মীরা আমাদের নজরদারিতে রয়েছেন, বিষয়টি এমন নয়। অস্ত্রধারী কেউ কোনো দলের হতে পারে না। আমাদের উদ্দেশ্যটা রাজনৈতিক নয়, উদ্দেশ্য হলো অপরাধ দমন করা। কে কোন দলের, সেটি মুখ্য বিষয় নয়। অপরাধীরা অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে চাইবে, সেটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, দুই মাস আগে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদলের সবাই কেন্দ্রীয় নেতা। আমরা এর আগে এবং পরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছি। এটা চলমান প্রক্রিয়া।

সালমান

ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় কারাবন্দি এক ম্যাজিস্ট্রেট

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় কারাবন্দি এক ম্যাজিস্ট্রেট
সাইফুল ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

একসময় যিনি মাঠ প্রশাসনে রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হয়ে মানুষের বিরোধ মীমাংসা করতেন, আজ নিয়তির নির্মম পরিহাসে তিনিই বন্দি চার দেয়ালের অন্ধকারে। একটি স্বাক্ষর কীভাবে একজন মানুষের সাজানো জীবনকে ওলট-পালট করে দিতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ ৩৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে নরসিংদীর এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপে করা একটি স্বাক্ষরই আজ তাকে দাঁড় করিয়েছে আসামির কাঠগড়ায়। গত প্রায় ১৪ মাস ধরে তিনি কারাগারে। অথচ প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের দাবি, ঘটনার সময় তিনি দুর্ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। কারাগারে যখন তিনি ন্যায়বিচারের প্রহর গুনছেন, তখন বাইরে তার চার বছরের অবুঝ সন্তান আর স্ত্রী পার করছেন চরম অনিশ্চয়তা ও একাকিত্বের এক বুকফাটা আর্তনাদ।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নরসিংদী। ১৭ জুলাই জেলখানা মোড়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে পাঠানো হয়েছিল বলে আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, সেখানে কিছু সময় অবস্থান করার পর পরিস্থিতির অবনতি হলে অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে আসেন।

সাইফুল ইসলামের দাবি, আন্দোলন ও গণবিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করায় পরদিন ১৮ জুলাই তিনি আর জেলখানা মোড়ে যাননি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সার্কিট হাউস এলাকায় অবস্থান করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন তিনি কোনো পুলিশি অভিযানে অংশ নেননি এবং কোনো বাহিনীকে নির্দেশও দেননি। কিন্তু ঘটনার কয়েক দিন পর একটি স্বাক্ষরই তার জীবনের গতিপথ পাল্টে দেয়।

জবানবন্দিতে এই কর্মকর্তা জানান, ২২ জুলাই রাতে তাকে পুলিশের এমসিসি ফরমে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। তিনি প্রথমে আপত্তি জানান। কারণ তার দাবি অনুযায়ী, তিনি সংশ্লিষ্ট সময় পুলিশের সঙ্গে কোনো দায়িত্ব পালন করেননি। কিন্তু পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ ও চাপের মুখে তাকে স্বাক্ষর করতে হয়। এই এমসিসি ফরম নিয়েই এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

এমসিসি বা বিপি ফরম নং-১০ মূলত পুলিশের দায়িত্ব পালনের একটি রেকর্ড। কোন ফোর্স কোথায় মোতায়েন ছিল, কখন দায়িত্ব শুরু ও শেষ করেছে, এসব তথ্য সেখানে লিপিবদ্ধ থাকে। এটি গুলিবর্ষণের আদেশ দেওয়ার কোনো আইনগত ফরম নয়। আইন অনুযায়ী, জনতা নিয়ন্ত্রণে গুলিবর্ষণের প্রয়োজন হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নির্দেশ দিতে হয়।

সাইফুল ইসলামের পক্ষে দাবি করা হচ্ছে, ঘটনার দিন তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেওয়ার সুযোগও তার ছিল না। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের অবস্থান, সহকর্মীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সেদিনের তথ্য যাচাই করলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন তার তদন্ত প্রতিবেদনে নরসিংদীর ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে বিভিন্ন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। সেই প্রতিবেদনে সাইফুল ইসলামের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৮ জুলাই নরসিংদী জেলখানা মোড়ে গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিহত কিশোর তাহমিদ ভূঁইয়ার বাবা রফিকুল ইসলাম যে অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করেন, সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলামের নাম উল্লেখ নেই।                     

২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর দাখিল করা ওই অভিযোগে ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলেও পরবর্তী সময়ে তদন্ত প্রতিবেদনে সাইফুল ইসলামের নাম অভিযুক্তদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং প্রাথমিক অভিযোগপত্রে তার নাম না থাকার বিষয়টি নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আলভী সরকার খবরের কাগজকে বলেন, ‘স্পটে ছিলাম। তাহমিদ (১৪) ছিল আমাদের বিক্ষোভ মিছিলের কিছু আগে। সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে ঢিল ছুড়তে ছুড়তে বেশ সামনের দিকে চলে গিয়েছিল। পুলিশ গুলি শুরু করলে সরাসরি তার বুকে লাগে। সেখানেই লুটিয়ে পরে তাহমিদ।’ পুলিশ দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে গুলি করেছে? বা সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ছিল কি না? খবরের কাগজের এমন প্রশ্নের জবাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই মুখ্য সংগঠক বলেন, ‘না, সেখানে এই নামের কোনো ম্যাজিস্ট্রেট দেখিনি। সেখানে আন্দোলন দমন করার জন্য ৭ থেকে ৮ জন পুলিশ ছিল। তারাই গুলি করেছে এবং সেখানেই তাহমিদ নিহত হয়েছে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ হাকিম বলেন, সারা দেশের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ১৭ জুলাই রাতে স্থানীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৮ জুলাই বেলা ৩টা থেকে নরসিংদী জেলখানা মোড়ে ব্লকেড কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এদিন কর্মসূচি পালন স্থলের আশপাশে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট ছিল না। 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র মুনিয়া রহমান মনিকা বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে সে সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম এবং আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। আন্দোলনের একপর্যায়ে তাহমিদ নিহত হয়েছে। সে সময় সেখানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের সঙ্গে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিল বলে আমরা দেখিনি।’ 

নরসিংদী জেলার সাবেক জেলা প্রশাসক ও বর্তমানে চট্টগ্রামের উপ-ভূমি সংস্কার কমিশনের কমিশনার (উপসচিব) পদে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা ড. বদিউল আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঘটনার দিন (১৮ জুলাই) আমি দেশে ছিলাম না। ১৯ তারিখ ভারত থেকে দেশে ফিরে আসি। তাই এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না।’ সাইফুল ইসলামকে ২২ জুলাই এমসিসিতে স্বাক্ষরের জন্য ডিসি হিসেবে চাপ প্রয়োগ করেছেন–এমন অভিযোগের বিষয়ে ডিসি বলেন, ‘আমি যেহেতু ঘটনা সম্পর্কে জানি না, তাই কোনো কর্মকর্তাকে স্বাক্ষরের চাপ দেওয়ার প্রশ্ন আসে না।’

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (শিল্পকলা শাখা) ও নরসিংদী জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (১৮ জুলাই) মৌসুমী সরকার রাখী খবরের কাগজকে বলেন, ‘তৎকালীন সদর উপজেলার সাবেক এসি ল্যান্ড ও ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ঘটনার সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অথবা সার্কিট হাউসে ছিলেন বলে শুনেছি। কারণ ঘটনার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ কর্মসূচি এতটাই তীব্র ছিল, নিরাপত্তার কারণে সেখানে ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিত থাকার মতো পরিবেশ ছিল না। জেলার অধিকাংশ ম্যাজিস্ট্রেট সে সময় ডিসি কার্যালয় অথবা সার্কিট হাউসে ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ডিসি কার্যালয়ে আমার একাধিকবার দেখা হয়েছে।’

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই আরেকটি বাস্তবতার কথা বলছেন। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ বা সমর্থক হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা প্রশাসনিক ও আইনি চাপের মুখে পড়েছিলেন। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, সাইফুল ইসলামের ঘটনাটিও নিরপেক্ষভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে?

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে?
‘শহিদ রুদ্রসেন লেক’ ভরাট করে এভাবেই নির্মাণ করা হচ্ছে গাড়ির গ্যারেজ। ছবিটি মঙ্গলবার তোলা। ইনসেটে খননের পর খাল। ছবি: খবরের কাগজ

দেশজুড়ে যখন খাল খনন ও জলাধার সংরক্ষণের উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে, তখন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রাকৃতিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে খনন করা একটি খাল ভরাট করে সেখানে গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণ করা হচ্ছে।

খালটি দৃষ্টিনন্দন জলাধার রূপে দৃশ্যমান হওয়ার পর প্রথমে নাম দেওয়া হয়েছিল ‘সাস্ট লেক’। পরে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শাবিপ্রবির একমাত্র শিক্ষার্থী শহিদ রুদ্র সেনের স্মরণে এর নামকরণ করা হয় ‘শহিদ রুদ্র সেন লেক’। কিন্তু বর্তমানে গ্যারেজ নির্মাণের কারণে লেকটির অস্তিত্বই প্রায় মুছে যেতে বসেছে। ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হওয়া লেকটি এখন আর চিহ্নিত করার মতো অবস্থায় নেই। গ্যারেজ করার মতো জায়গা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর প্রশ্ন, একটি কার্যকর জলাধার ভরাট করে গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণ করা হচ্ছে কার গরজে?

লেক সৃষ্টি যেভাবে

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাতের সময় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। এ সমস্যা প্রাকৃতিকভাবে মোকাবিলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে খাল খননের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তী সময়ে সেই খালকে কেন্দ্র করে একটি লেক নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ছিল লেক, লেকপাড়ে ওয়াকওয়ে এবং মাঝখানের একটি টিলায় পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ৭ মে ‘শাবিপ্রবিতে হবে পাখির অভয়ারণ্য’ শিরোনামে খবরের কাগজে সচিত্র একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ২০২৫ সালের ২ জুন ‘শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতা: খাল খননেই মিলল সুফল’ শিরোনামে ফলোআপ প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। 

২০২৫ সালের ৩ জুলাই লেকটির উদ্বোধনকালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী এটিকে ‘রুদ্র সেন লেক’ হিসেবে ঘোষণা করেন। কিন্তু সেই ঘোষণার এক বছরের মধ্যেই লেকটি ভরাটের মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে গাড়ির গ্যারেজ। লেকটি এখন গায়েব প্রায়।

কার গরজে গ্যারেজ?

সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্যারেজ নির্মাণের জন্য লেকের বড় একটি অংশ ভরাট করা হয়েছে। নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। তবে তাদের অভিযোগ, প্রশাসন সে প্রতিবাদ আমলে নেয়নি। শিক্ষার্থী ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলছেন, যে লেক নির্মাণে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, এখন সেই লেকই অর্থ ব্যয় করে ভরাট করা হচ্ছে। তাদের মতে, এটি পরিকল্পনার সমন্বয়হীনতার স্পষ্ট উদাহরণ। মাত্র ২২টি গাড়ির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার ও ক্যাম্পাসের নান্দনিকতা নষ্ট করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি অবিচারের শামিল।

গাড়ির গ্যারেজ তৈরিতে গরজ ছিল কার? এ প্রশ্নে অনুসন্ধানে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্যারেজের পাশেই প্রায় শতাধিক গাড়ি রাখার মতো খালি জায়গা রয়েছে। গ্যারেজটি সেখানে স্থানান্তর করা হলে লেক রক্ষা পেত এবং খালি জায়গারও যথাযথ ব্যবহার হতো। কিন্তু বর্তমান স্থানে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে পেছনের খালি জায়গায় যাওয়ার পথ স্থায়ীভাবে বাধাগ্রস্ত হবে এবং জায়গাটি ভবিষ্যতে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়বে। মাত্র ২২টি গাড়ি রাখার জন্য সাত কোটি টাকা ব্যয় কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প-২’ এর আওতায় লেক ভরাট করে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের একটি দোতলা গ্যারেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। গ্যারেজ নির্মাণের জন্য পাশের টিলার কিছু অংশও কাটা হয়েছে। নির্মাণাধীন গ্যারেজটিতে মাত্র ২২টি গাড়ি রাখা যাবে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে বর্তমানে ৪২টি যানবাহন রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। এ ছাড়া নতুন নির্মিত গ্যারেজটিতে বড় যানবাহন প্রবেশের জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত গ্যারেজটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন পূরণে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আশিক বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রধান সৌন্দর্য হলো লেকটি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সেই লেক ভরাট করে গ্যারেজ নির্মাণ করা হচ্ছে! এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করবে। আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই, তবে প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন উন্নয়ন আমরা চাই না। প্রশাসনের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ–অবিলম্বে লেক ভরাটের এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বন্ধ করুন এবং ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করুন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটি’র সভাপতি জাহ্নবী দত্ত বলেন, ‘বর্তমানে যে লেকটি শহিদ রুদ্র সেন লেক বা ‘সাস্ট লেক’ নামে পরিচিত, সেটির যখন পরিকল্পনা ও নির্মাণ কাজ শুরু হয়, তখন এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার কাছেই বেশ প্রশংসার বিষয় ছিল। লেকটি ছিল একাধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের উপাদান, পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার একটি কার্যকর মাধ্যম। কিন্তু এখন যে ভরাটের কাজ চলছে, এটি সত্যিই দুঃখজনক। এখানে আমাদের উচিত প্রকৃতিকে না সরিয়ে মানবসৃষ্ট কাঠামোর বিকল্প উপায় ভাবা। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে চেষ্টা করব, এর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কি-না।’

কর্তৃপক্ষ কী বলে

যোগাযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. জয়নাল ইসলাম চৌধুরী দাবি করেন ২০১৯ সালের জুলাইয়ে যখন ডিপিপি অনুমোদন হয়, তখন এই লেকটা ছিল না। গ্যারেজ নির্মাণের গরজ সম্পর্কে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘যখন এই লেক খনন করা হয় তখন আমরা বাধা দিয়েছিলাম। কারণ ডিপিপিতে গ্যারেজের জন্য এই স্থানটা উল্লেখিত। এটা ছিল প্লেইন ল্যান্ড।  এখানে লেক কখনোই ছিল না। ডিপিপিতে যেটা আছে সেটা হলো একনেকে পাস করা প্রধানমন্ত্রী থেকে অ্যাপ্রোভড। এখানে কেন লেক করা হলো সেটা প্রকৌশল দপ্তরকে জানানোই হয়নি। কারণ আমরা করব না আগেই না করে দিয়েছিলাম। লেক খননের কাজে প্রকৌশল দপ্তরের কোনো অংশগ্রহণই ছিল না। কারণ শুরু থেকেই বলা হয়েছিল যে, এটা ডিপিপির অন্তর্ভুক্ত গ্যারেজের জায়গা।’

লেক যেহেতু খনন করা হয়ে গেছে এবং শিক্ষার্থীরাও এখানে গ্যারেজ করার বিরুদ্ধে দাবি জানিয়েছিলেন, তবু বিকল্প জায়গায় গ্যারেজ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে চিফ ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যখন দাবি জানাল, তখন আমরা টিলার পেছনে গ্যারেজ করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু ওই সময় ভিসি স্যার (সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী) আমাদের জানান যে ভিসি বাংলোর আশপাশে এ ধরনের কোনো স্থাপনা করবেন না। যেখানে আছে সেখানেই করেন। এখন যেখানে আছে সেখানে তো লেক। তখন আমরা টিলার কাছ ঘেঁষে লেকের ঢালের কিছু অংশ ভরাট করে রিটেইনিং ওয়াল দিয়ে দিই, যাতে লেকের বাকি অংশের কোনো ক্ষতি না হয়।’

গ্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্তের দায় সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীর ওপর বর্তান চিফ ইঞ্জিনিয়ার। তবে এ বিষয়ে সাবেক উপাচার্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একদিকে লেক নির্মাণে ব্যয়, অন্যদিকে সেই লেক ভরাট করে নতুন ব্যয়—এই দ্বৈত আর্থিক ব্যয়ে রয়েছে অর্থের নয়ছয় ও অপচয়। এ নিয়ে তখনকার প্রশাসনের দায়িত্বশীল কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

জানতে চাইলে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় ঈদের ছুটির কারণে বন্ধ ছিল। শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এখানে গ্যারেজ নির্মাণের কারণ ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিত্যপণ্যের বাজারে নেই মূল্যতালিকা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
নিত্যপণ্যের বাজারে নেই মূল্যতালিকা
ভোগ্যপণ্যে ঠাসা মুদি দোকানে দেখা যায়নি কোনো মূল্যতালিকা। ছবিটি চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে তোলা/ মোহাম্মদ হানিফ।

চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজারে অধিকাংশ দোকানেই মূল্যতালিকা দেখা যায় না। ফলে একই পণ্য সব দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পণ্যের প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত হতে না পেরে প্রতিদিনই বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির মুখে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, মূল্যতালিকা না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছেন। ফলে তাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে নিয়মিত তদারকি এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন জরুরি বলে মনে করছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতারা। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর কাজীর দেউড়ি, চকবাজার, বহদ্দারহাট, হালিশহর, রিয়াজউদ্দিন বাজার এবং রাস্তার পাশের খুচরা দোকান ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে মূল্যতালিকা নেই। কিছু কিছু দোকানে থাকলেও তারিখ ও পণ্যের দাম পরিবর্তনের দিকে বিক্রেতার খেয়াল নেই। আবার বিভিন্ন দোকানে একই পণ্য ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কাজীর দেউড়ি বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু তার পাশে ব্যাটারি গলিতে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ নগরীর বিভিন্ন অলিগলির খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ (হালি জাত) বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। অথচ রিয়াউদ্দিন বাজার থেকে বের হয়ে দেখা যায়, একই পেঁয়াজ ভ্যানগাড়িতে ৩ কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি দাম পড়ছে ৩৩ টাকা। বাজারভেদে মাছ, মাংস, সবজির দামেও এ রকম হেরফের দেখা গেছে। 

এদিকে মূল্যতালিকা না থাকার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন করেও কোনো সদুত্তর মেলেনি। ব্যবসায়ীদের একেক জনের রয়েছে একেক রকম যুক্তি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের কাছে একাধিক মূল্যতালিকা রয়েছে, কিন্তু বাজারে মূল্যতালিকা কেউ টাঙায় না। তাই তিনিও রাখেননি। আবার কেউ জানিয়েছেন, মূল্যতালিকা রাখলে বা কম দামে পণ্য বিক্রি করলে, যারা বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করে তাদের সঙ্গে ঝগড়া হয়। তাই ঝগড়া এড়াতে এবং যে যার মতো করে ইচ্ছামতো দামে পণ্য বিক্রি করতে মূল্যতালিকা রাখেন না। 

রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী মো. শওকত বলেন, ‘আপনি পুরো বাজার ঘুরে দেখেন কোনো মূল্যতালিকা নেই। সবাই যেহেতু মানছে না, আমি আর একা মূল্যতালিকা রেখে লাভ কী!’

হালিশহর কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী মো. আলম বলেন, ‘আমার কাছে ৩টা মূল্যতালিকা আছে। কিন্তু রাখা হয়নি। কারণ একটি পণ্য একেক জায়গায় একেক দামে বিক্রি হয়। আমি একটি পণ্যের দাম পাশের দোকানদারের তুলনায় কম লিখলাম। তখন আমাদের ব্যবসায়ীদের নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হয়।’ 

নগরীর ফইল্যাতলী এলাকার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘এক লিটার গরুর দুধ কিনতে গেলাম। এক দোকানে ৮০ টাকা, পাশের আরেক দোকানে ৯০ টাকা। অন্য ভোগ্যপণ্যের দামেও একই অবস্থা। অর্থাৎ দামে কোনো স্বচ্ছতা নেই। তাই এখন বাজার করতে গেলে আগে পুরো বাজার ঘুরি। যেখানে কম দাম বলে সেখান থেকেই কিনি। কিন্তু এটা তো আমাদের জন্য কষ্টদায়ক। সব জায়গায় একই দাম থাকলে যে যেখান থেকে ইচ্ছা কিনতে পারেন। ক্রেতারাও বিভ্রান্ত হন না।’ 

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ জানান, যখনই কোনো বাজারে অভিযান চালানো হয়, সেখানে কেউ বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছে কি না, মূল্যতালিকা ও কেনা-বেচার পাকা রসিদ আছে কি না- ইত্যাদি বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। 

ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘মূল্যতালিকা রাখা বা বেশি দামে পণ্য বিক্রির বিষয়ে বিভিন্ন সভা, সেমিনার করেও কোনো লাভ তো হচ্ছে না। পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ী দুজনই নানা কায়দায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ায়। বাজারকে কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। ফলোআপ করতে হবে। তাহলে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।’

পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি!

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি!
ছবি: সংগৃহীত

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন। এই বাজেটের কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে। কিন্তু ইতোমধ্যে অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে বাজেটে মসলাসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের দাম কমাতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু সাত দিন চলে গেলেও এক টাকা কমেনি এসব পণ্যের দাম। আগের মতোই বেশি দামে চাল, ডাল, মসলা বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া, পাঙাশসহ অন্য মাছের দামও কমেনি। কোরবানি ঈদের পর চাহিদা কমলেও আগের মতো চড়া দামে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে। বাজার সবজিতে ভরা থাকলেও অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার বেশি।

বিক্রেতারা বলছেন, সরকার মুখে বললেও বাজার নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই তো কোনো জিনিসের দাম কমে না। ভরা মৌসুমেও এক কেজি পোলাওয়ের চাল  বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করে সরকার। তাতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এই রাজস্ব আদায়ে অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু পণ্য ও সেবায় দাম কমার প্রস্তাব করেছেন সাধারণ মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে। ধান, চাল, গম, আলু, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬০টি পণ্যের দাম কমাতে উৎসে কর এবং খেজুর, জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়ার মতো মসলার দাম কমাতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক কমার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু গতকাল বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে এসব জিনিসের দাম এক টাকাও কমেনি।

মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের বিসমিল্লাহ স্টোরের মো. বাবু মিয়াসহ অন্য বাজারের খুচরা বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার যাই বলুক বাজার চলছে বাজারের মতো । মিল থেকে দাম না কমালে আমরা কীভাবে কম দামে বিক্রি করব। কাজেই মিলে যাতে দ্রুত দাম কমে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারব। ভোক্তারাও কম দামে কিনতে পারবেন। বর্তমানে সব পণ্যের দাম ঝিম ধরে আছে।’

বেশি দামেই চাল বিক্রি

গতকালও আগের মতো মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ ও মোটা চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হয়। দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা, আমদানি করা ডাল ১২০ টাকা, ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ২ কেজির প্যাকেট আটা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।  

টাউন হল বাজারের মায়ের দোয়া রাইস স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রিয়াদ হোসেন বলেন, ‘বোরো ধান ওঠা শেষ। তার পরও চালের দাম কমছে না। ব্যবসায়ীরা গোডাউনে ধান ভরে নিয়েছেন। মিল থেকে এখনো বেশি দামে পুরোনো চাল বিক্রি করছে। মিলমালিকদের না ধরলে চালের দাম কমবে না। প্রাণ, চাষি গ্রুপসহ অন্যরাও ইচ্ছামতো পোলাও চালের দাম বাড়িয়েছে, যা ১৯০ টাকা কেজি। আজব এ দেশ।’

কোরবানির ঈদের আগে আদার দাম বাড়লেও গতকাল তা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, আলু ৩০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। শুল্ক কমানো হলেও মসলার দাম কমেনি। আগের মতো গতকালও  লবঙ্গের কেজি দেড় হাজার টাকা, দারুচিনি ৫২০ টাকা, জিরা ৬৫০ টাকা ও এলাচ সাড়ে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।’ খেজুর বিক্রেতারাও জানান দাম কমেনি। নিউ মার্কেটের মোক্তার হোসেন বলেন, ‘আগের দামেই সব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। বাজেটের পণ্য দেশে এলে কমতে পারে।’

অধিকাংশ সবজি ১০০ টাকার ঘরে

বাজারে এখনো শীতের কপি, টমেটো বিক্রি হচ্ছে। গ্রীষ্মকালের সবজিও ভরে আছে। তার পরও বেগুনসহ অধিকাংশ সবজি যেন ১০০ টাকা কেজিতে স্থির হয়ে গেছে। বিভিন্ন বাজারে টমেটো ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ১০০, বরবটি ও কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০, কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৪০, শজনেডাঁটা ২০০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ থেকে ৬০, পটোল ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। গ্রীষ্মকালের ঝিঙা, ধুন্দুল, চিচিঙ্গাও ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৬০ থেকে ৭০ টাকার কমে মেলে না। নিউ মার্কেট বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. সবুজসহ অন্য বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে। এর প্রভাবে সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। আড়তে সব সবজিই বেশি দামে কেনা। তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’

কমেনি মাছের দাম

কোরবানির ঈদের পরও মাছের দাম কমেনি। তেলাপিয়া মাছও আকারভেদে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। রুই, কাতল মাছও আগের মতো ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, নদীর চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। তবে চাষ করা এসব মাছ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়। আগের সপ্তাহের মতোই গতকালও সোনালি মুরগির কেজি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা, ব্রয়লার ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ ও  খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে ডিমের দাম ১০ টাকা কমে ১১০ থেকে ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হয়।

পশুর শিংয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম কসাইয়ের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
পশুর শিংয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম কসাইয়ের
রাজশাহীর কসাই রিপন আলীর সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার শিং ও মাথার খুলি দিয়ে তৈরি ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম। ছবি: সংগৃহীত

পেশায় তিনি কসাই। প্রতিদিন পশু জবাই ও মাংস বিক্রিই তার কাজ। কিন্তু এই পেশার মধ্যেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন এক ভিন্ন জগতের সন্ধান। অন্যরা যেখানে পশুর মাথা ও শিংকে বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেন, সেখানে রাজশাহীর রিপন আলী সেগুলোকে রূপ দিচ্ছেন দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্মে। গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার পরিত্যক্ত মাথা সংগ্রহ করে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তৈরি করছেন ব্যতিক্রমী শোপিস, যা এখন দর্শনার্থীদের কৌতূহল ও প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

৪০ বছর বয়সী রিপন আলী রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলাকার বাসিন্দা। গত এক দশক ধরে তিনি এই ব্যতিক্রমী শিল্পচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তার সংগ্রহে শতাধিক নান্দনিক শোপিস জমা হয়েছে। বাড়ির একটি কক্ষজুড়ে সাজিয়ে রেখেছেন এসব শিল্পকর্ম। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর মানুষ তার এই সংগ্রহ দেখতে ভিড় করছেন।

রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘প্রথমে কৌতূহল থেকে দেখতে এসেছিলাম। এখানে এসে আমি সত্যিই মুগ্ধ। সাধারণত যেসব জিনিস আমরা বর্জ্য হিসেবে দেখি, সেগুলোকে এত সুন্দর ও নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করা যায়, তা কল্পনাও করিনি।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংগ্রহের ছবি দেখে এখানে এসেছি। কাছ থেকে দেখে আরও ভালো লাগছে। প্রতিটি শোপিসের পেছনে যে শ্রম, ধৈর্য ও মেধা রয়েছে, তা স্পষ্ট বোঝা যায়। একজন কসাইয়ের হাতে এমন ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।’

জানা গেছে, রিপনের এই শিল্পযাত্রার শুরুটা হয়েছিল একেবারেই সাধারণ একটি ঘটনা থেকে। কসাইপট্টিতে কাজ করার সময় একটি বড় মহিষের শিং তার নজর কাড়ে। শিংটির সৌন্দর্য দেখে তিনি ভাবেন- এটি কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় অনুসন্ধান।

প্রথমদিকে কাজটি সহজ ছিল না। পশুর মাথা সংরক্ষণ ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখার কোনো কার্যকর পদ্ধতি তার জানা ছিল না। এ বিষয়ে জানতে তিনি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি। এরপর নিজেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। বছরের পর বছর চেষ্টা, ব্যর্থতার পর তিনি একটি কৌশল বের করেন। এই কৌশলের ফলে পশুর মাথা ও শিং দীর্ঘদিন পচনমুক্ত রেখে শৈল্পিক রূপ দেওয়া সম্ভব হয়।

রিপন জানান, ২০১৭ সাল থেকে তিনি পরিকল্পিতভাবে এই কাজ শুরু করেন। তবে সব ধরনের পশুর মাথা তিনি সংগ্রহ করেন না। যেসব পশুর শিং বা মাথার গঠন দেখতে আকর্ষণীয় ও নান্দনিক, সেগুলোই বেছে নেন। পরে সেগুলো পরিষ্কার, সংরক্ষণ ও শৈল্পিক উপস্থাপনের মাধ্যমে শোপিসে রূপ দেন।

এই কাজে তাকে অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখিও হতে হয়েছে। পশুর হাড় ও মাথা সংগ্রহ করে বাড়িতে রাখার কারণে একসময় পরিবার ও প্রতিবেশীদের সমালোচনা শুনতে হয়। দুর্গন্ধ ও অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেকে তাকে নিরুৎসাহিতও করেছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি  বদলে গেছে। একসময় যারা তার এই কাজকে অদ্ভুত ভাবতেন, তারাই এখন প্রশংসা করছেন। এই শিল্পকর্মের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়েও অনেকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

রিপন আলী বলেন, আমি শুধু বাজার থেকে সংগ্রহ করা গৃহপালিত পশুর মাথা ও শিং ব্যবহার করি। কোনো সংরক্ষিত বা বন্যপ্রাণীর অঙ্গ ব্যবহার করি না। আমার বিশ্বাস, গৃহপালিত পশুর হাড় ও শিং দিয়ে তৈরি নান্দনিক শোপিস জনপ্রিয় হলে বন্যপ্রাণীর অঙ্গ দিয়ে ঘর সাজানোর প্রবণতা কমবে। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই উদ্যোগ একদিন ক্ষুদ্র শিল্পে পরিণত হবে।