আড়তে আলু বিক্রি হচ্ছে ২৩-২৪ টাকা কেজি। সেই আলু একটু দূরেই খুচরা পর্যায়ে ৩০-৩২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে আড়তে ১০৮-১১০ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হলেও বিভিন্ন খুচরা বাজারে তা ১২০-১২৫ টাকা কেজি। আড়তে তেমন না বাড়লেও খুচরা বাজারে ডিমের জডনে ৫-১০ টাকা বেশি। পাইকারি বাজারে ৫ লিটার ভোজ্যতেল ৭৮৫ টাকা বিক্রি হলেও খুচরা পর্যায়ে ৮৪৫ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে মুরগি ও গরুর মাংসের দাম কেজিতে ১০-৩০ টাকা বেড়েছে। পাইকারিতে মিনিকেট চাল ৬৬ টাকা হলেও খুচরায় ৭০ টাকা কেজি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের কড়াকড়িতে পাইকারিতে কিছু পণ্যের দাম কমেছে। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা বেশি দামেই বিক্রি করছেন। খুচরা বাজার একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তেল ও চিনির দাম খুচরায় কমানো হয়নি। যে যার মতো দামে বিক্রি করছে পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, চিনি, মাংস। বিক্রেতারা বলছেন, খুচরায় কতো লাভ করা যাবে সে ব্যাপারে সরকার কিছু বলেনি। তাই একটা লাভ ধরে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আলু, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, চাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্য আড়ত, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হয়। পেঁয়াজের দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে মিনহাজ বাণিজ্যালয়ের খলিল খবরের কাগজকে বলেন, ‘মুড়িকাটা পেঁয়াজ শেষ হয়ে আসছে ফরিদপুর ও পাবনার মোকামে। তাই কয়েক দিন থেকে পেঁয়াজের দাম বাড়ছেই। তিন দিন আগে আড়তে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯৫-১০০ টাকা কেজি। সেই পেঁয়াজ বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ১০৮-১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। মোকাম থেকে সব খরচ হিসাব করে দাম নির্ধারণ করে দেয়। আমরা সেই দামে বিক্রি করছি।’
দাম কি এভাবে বাড়তেই থাকবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আর বাড়বে না পেঁয়াজের দাম। মোকাম থেকে বলা হচ্ছে। কারণ হালি পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের মধ্যে কমতে শুরু করবে। রমজানে ৪০-৫০ টাকায় নেমে আসবে।’
অপর আড়তদার খান অ্যান্ড সন্স এর মালিক নাজমুল হোসেন বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজ শেষ। আমদানি করতে হবে। কারণ চট্টগ্রামসহ পাহাড়ের মানুষ আমদানি করা পেঁয়াজ খায়। আমদানি করা পেঁয়াজ না থাকায় তারা দেশি পেঁয়াজ খাচ্ছে। কিন্তু দেশের পেঁয়াজও শেষ পর্যায়ে। নতুন পেঁয়াজ আসতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।’
পেঁয়াজের বাজার অস্থির হওয়ায় খুচরা বিক্রেতারা বেশ বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। একই বাজারের খুচরা বিক্রেতা হালিম বলেন, ‘১২০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি। তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’
পেঁয়াজের মতো আড়তে কমলেও ভোক্তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে আলু। কারওয়ান বাজারের বিক্রমপুর বাণিজ্যালয়ের সবুজ বলেন, ‘আলুর দাম কমেছে, তা ২৩-২৪ টাকা কেজি। সেই আলু একটু দরেই খুচরা বাজারে ৩০-৩২ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে।’ দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে একই বাজারের সফিকুলসহ অন্য খুচরা বিক্রেতারা বলেন, দাম কমেছে। আগে ৩৫ টাকা বিক্রি করলেও বর্তমানে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।
টাউনহল বাজারের খুচরা বিক্রেতা রফিকসহ অন্য খুচরা বিক্রেতারাও বলেন, আলুর দাম কমেছে। আগে ৩৫-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩০ টাকা কেজি। টিসিবি বলছে, গতবছরের এই দিনে আলু বিক্রি হয়েছে ২২-২৫ টাকা কেজি।
আমনের ভরা মৌসুমে চালের দাম না কমায় সরকার বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালায়। এতে পাইকারি পর্যায়ে কিছুটা কমেছে চালের দাম। কিন্তু খুচরায় তেমন প্রভাব পড়েনি। জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের হাজী রাইস এজেন্সির মালিক আ. রহিম হাজী বলেন, ‘সরকারের কড়াকড়িতে কমেছে চালের দাম। এখন ৬৬ টাকা কেজি মিনিকেট, ২৮ চাল ৫১-৫৩ টাকা। কৃষিমার্কেটের পাইকারি বাজারেও চালের দাম কমেছে। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে তেমন প্রভাব পড়েনি। কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা বাচ্চু মিয়া বলেন, মিনিকেট ৭০ টাকা, ২৮ চাল ৫৫ টাকা ও মোটা চাল ৪৮-৫২ টাকা কেজি। অন্য খুচরা বিক্রেতারাও জানান, তেমন কমেনি চালের দাম।’
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে মাংসের দামও বেড়ে গেছে। মুরগির কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে পোলট্রি মুরগি ২০০ টাকা কেজি, পাকিস্তানি কক ৩০০-৩১০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৫০-৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে বলে কারওয়ান বাজারের বাংলা চিকেন হাউজের ফয়েজ জানান। অন্য বাজারেও বেশি দামে মুরগির মাংস বিক্রি হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানান।
গরুর মাংস লাগামহীন হয়ে পড়েছে। আগের সপ্তাহে ৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও গতকাল থেকে ৭৩০ টাকা বলে জানান কারওয়ান বাজারের মাংস বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম ও টিপু সুলতান। তারা আরও বলেন, গরু আমদানি না করলে দাম আরও বাড়বে। কারণ মোকামে গরু কমে গেছে। দাম বাড়ছে। তাই মাংসের দামও বাড়ছে।
এদিকে খালবিলের মাছ বেশি করে পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। তাই আগের মতোই রুই, কাতলা আকারভেদে ২৬০-৫০০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৬০০-১০৫০ টাকা, শিং ৫০০-৬৫০ টাকা, মলা মাছ ৪০০-৫০০ টাকা, বাইন ৪০০-৬০০ টাকা, পাঙাশ ২০০-২৫০, তেলাপিয়া ২২০-২৫০, কই ২৫০-৪০০ টাকা, ট্যাংরা ৪৫০-৭০০ টাকা, মাগুর ৪০০-৬০০ টাকা ও ইলিশ মাছ আকারভেদে ৯০০-১৬০০ টাকা কেজি। তবে বড় ইলিশ মাছের দাম আরও বেশি, ১৮০০-২০০০ টাকা কেজি বলে খুচরা বিক্রেতারা জানান।
শীতের সবজির ভরা মৌসুম হওয়ায় আগের চেয়ে কমেছে সবজির দাম। কপি ৩৫-৪০ টাকা পিস, বেগুন ৬০-৭০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ৬০-৮০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা, শাকের আঁটি ১০-১৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।