কাইল ভেরাইন্নের ড্রাইভ থেকে জয়সূচক রানের পর উল্লাসের আর সীমা নেই দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের। গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের মাঝেও নেই উল্লাসের কমতি। ১৯৯৮ সালের উইল ইন্টারন্যাশনাল কাপের পর ২০২৫ সালের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা।
দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে চলা আইসিসি শিরোপার খরাটা এবার মিটলো। যা মেটাতে পুড়াতে হয়েছে অনেক কাঠখড়। তাই তো এই শিরোপা উল্লাস ছিল আবেগের মিশ্র অনুভূতিতে ভরা। গ্যালারিতে চোখ পড়লেই দেখা যায় আনন্দে কাঁদছেন প্রোটিয়া দর্শকরা।
আর কাঁদবেই বা না কেন? এই পরম আরাধ্য শিরোপা যে গায়ের সঙ্গে লেপ্টে থাকা চোকার্স তকমাকে বিদায় করেছে।
আক্ষেপে ভরা এই তকমা বিদায় করে আনন্দের অশ্রু দিয়ে উল্লাস করাটাই তো স্বাভাবিক।
সাধারণত বলা হয় - সাংস্কৃতিকভাবেই আবেগ নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী এশিয়ার বাইরের মানুষরা। এর বাইরের মানুষরা লুকিয়ে রাখতে সক্ষম তাদের আবেগ।
কিন্তু, সব মিথ্যা হয়ে যায় সফলতা ও ব্যর্থতার চিত্র সামনে এলে।
তখন আর আবেগ নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী মানুষরাও নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। এই কারণেই তো দক্ষিণ আফ্রিকার দর্শকদের চোখে এই অশ্রু। যাকে বলা হয় আনন্দাশ্রু।
গেল ২৭ বছরে একের পর এক হোঁচট খাওয়ার পর, পরম আরাধ্য শিরোপা ধরা দিলে তো আবেগ আর নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা নয়।
তুমুল পেশাদারত্বের পরিচয় দিয়ে আবেগ লুকানোর দক্ষতা ক্রিকেটাদেরও রয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে দুঃখের ভার বইতে গিয়ে তা আর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। যেমন ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। হট ফেবারিট হয়ে বিশ্বকাপে গিয়েও স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১ বল বাকি থাকতে ডেল স্টেইনকে মিড উইকেট বাউন্ডারিতে ছক্কা মেরে ৪ উইকেটের জয়ে ফাইনালে পা রাখে কিউইরা। ম্যাচশেষে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন এবি ডি ভিলিয়ার্স। অশ্রুসিক্ত নয়নে মাটিতে বসে পড়েন মরনে মরকেল।
এর ঠিক আগের বছর বাংলাদেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বিদায়টা সেমিফাইনল থেকে। আসরের রানার্সআপ ভারতের কাছে সেমির ম্যাচে পরাজিত হতে হয়েছিল ৬ উইকেটের ব্যবধানে।
২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনালে পা রাখতে পারেনি ভিলিয়ার্সের দল। বাদ পড়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। ৯ ম্যাচে ৩ জয় নিয়ে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে আসর শেষ করেছিল পয়েন্টস টেবিলের সাতে অবস্থান করে।
তবে দারুণভাবে ফিরে আসে ২০২৩ বিশ্বকাপে। ৯ ম্যাচে ৭ জয় নিয়ে জায়গা করে নেয় সেমিফাইনালে। কিন্তু সবচেয়ে বড় যেই নকআউট বাধা, সেটি আর টপকাতে পারেনি। সেমিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার ৩ উইকেটে।
বিরাট আশা নিয়ে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখে এইডেন মার্করামের দল। প্রথমবারের মতো ফাইনালে পা রাখলেও জিততে জিততে হেরে যায় মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে।
তবে সকল আক্ষেপ ঘুচিয়ে ২০২৫ সালে এসে ২৭ বছরের ট্রফিখরা কাটিয়ে স্বপ্নের আইসিসি ট্রফিতে চুমু দিল দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা। চোকার্স তকমাটায় অখুশি ছিলেন প্রোটিয়া ক্রিকেটাররাও। যেটি মুছে ফেলতে তাদের এত এত পরিশ্রম অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে। এমন দিনে আনন্দ করতে গিয়ে কেঁদে দেওয়াটাই তো স্বাভাবিক।