ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

সহায়তাকর্মীদের মৃত্যুতে ‘ক্ষুব্ধ’ বাইডেন

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৩২ এএম
সহায়তাকর্মীদের মৃত্যুতে ‘ক্ষুব্ধ’ বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সাত মানবিক সহায়তাকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি ‘ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত’। ইসরায়েল সহায়তাকর্মীদের সুরক্ষায় যথেষ্ট করছে না বলেও উল্লেখ করেন বাইডেন।

গত সোমবার গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের (ডব্লিউসিকে) সাত কর্মী মারা যান। নিহতদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পোল্যান্ডের নাগরিকরা রয়েছেন। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ মৃত্যুর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

ইসরায়েল যাতে দ্রুত তদন্ত করে, সে দাবি জানিয়েছেন বাইডেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের অবশ্যই জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং তদন্তে যা উঠে আসবে, তা প্রকাশ করতে হবে। বাইডেন বলেন, গাজায় সহায়তা বিতরণ ‘অত্যন্ত কঠিন’ হয়ে উঠেছে। বেসামরিকদের জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করা সহায়তাকর্মীদের সুরক্ষায় ইসরায়েল যথেষ্ট করছে না। 

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে কড়া ভাষায় ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেছেন বাইডেন। তিনি ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় যথেষ্ট করছেন না বলেও উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ইসরায়েলকে অনুরোধ জানিয়েছে, নিজেদের সংঘাতের পরিসর সীমিত করার জন্য। বেসামরিকদের যাতে ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে নজর রাখার জন্য।

এক ভিডিও বার্তায় ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেসের জেনারেল স্টাফ প্রধান (আইডিএফ) হার্জি হালেভি সহায়তাকর্মীদের ঘটনাকে ‘গভীর ভুল’ বলে মনে করেছেন এবং তারা বলেছেন, এটি হওয়া উচিত ছিল না। ঠিকভাবে শনাক্ত করতে না পারার জন্য হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে, ডব্লিউসিকের ঘটনার পর গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডব্লিউসিকে সেখানে নিজেদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে যারা সহায়তা দিয়ে আসছিল, তাদের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম।

ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের (ডব্লিউসিকে) প্রতিষ্ঠাতা হোর্হে আন্দ্রেস ইসরায়েলি সংবাদ সাইট ওয়াইনেটে এক মতামতে লিখেছেন, তার সংস্থার সহায়তা বহরে হামলার ঘটনায় সাত কর্মী নিহত হয়েছেন। 

আন্দ্রেস লিখেছেন, ‘আমাদের বহরে বিমান হামলার ঘটনা শুধু যুদ্ধের আবহে ঘটে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক ভুল নয়। 

স্পষ্টভাবে চিহ্নিত গাড়িতে হামলার ঘটনা এটি। যেটির চলাচলের পথের ব্যাপারে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানত। এটি তার (প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর) সরকারের মানবিক সহায়তাকে মরিয়া পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার নীতির প্রত্যক্ষ ফলাফল।’ 

তিনি ইসরায়েল সরকারকে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছানোর রাস্তা খুলে দেওয়ার আহ্বানও জানান। 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, ইসরায়েলের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৫৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৩ জন। ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৩২ হাজার ৯৭৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭৫ হাজার ৫৭৭ জন। অন্তত ৮ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ। 

ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) তথ্যানুসারে, গাজায় দুই বছরের নিচে বয়স এমন ৩০ শতাংশ শিশু তীব্রভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, রেকর্ড গতিতে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিকে যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখা এক পোস্টে সংস্থাটি জানিয়েছে, দুর্ভিক্ষ ঘনিয়ে আসছে গাজায়। আমাদের আরও প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। আমাদের যুদ্ধবিরতি দরকার।’ সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি 

ইসরায়েলে ইরানের হামলায় বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪৮ পিএম
ইসরায়েলে ইরানের হামলায় বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলে ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিন্দা জানিয়েছে। এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্ব নেতারা।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) গভীর রাতে ইসরায়েলে হামলা চালায় ইরান।  

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর ইসরায়েলের প্রতি নিরবিচ্ছিন্ন সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসে বৈঠকের একটি ছবি পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বাইডেন বলেন, ‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সর্বশেষ হামলার জন্য আমি এইমাত্র আমার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেছি। ইরান ও এর প্রক্সিদের কাছ থেকে হুমকির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি নিরবিচ্ছিন্ন।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এক বিবৃতিতে এই হামলাকে হঠকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এই হামলা অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় এই হামলাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইসরায়েলের ওপর ইরানের বড় আকারের হামলার ফলে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি একটি ধ্বংসাত্মক অঞ্চলব্যাপী উত্তেজনা বৃদ্ধির সত্যিকারের বিপদ সম্পর্কে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

কায়রোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বৈরিতা ও হামলা বৃদ্ধিতে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে এবং ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘সামরিক বৃদ্ধি’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি জারি করে ‘সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করার এবং এই অঞ্চল ও এর জনগণকে যুদ্ধের বিপদ থেকে রক্ষা করার’ আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য তার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন সেজর্ন অন এক্স বলেছেন, ‘এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ইরান তার অস্থিতিশীলতার কাজে একটি নতুন স্তরে পৌঁছেছে এবং একটি সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ঝুঁকি নিচ্ছে।’

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক এক্স-এ বলেন, ‘আমরা চলমান হামলার নিন্দা জানাই, যা একটি সমগ্র অঞ্চলকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিমজ্জিত করতে পারে। ইরান ও এর প্রক্সিদের অবিলম্বে এটি বন্ধ করতে হবে। জার্মানি ইসরায়েলের পক্ষে দৃঢভাবে অবস্থান করছে।’

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অটোয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘কানাডা ইরানের বিমান হামলার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা করছে। আমরা ইসরায়েলের পাশে আছি।’

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলির কার্যালয় এক বিবৃতিতে হামলার মুখে ইসরায়েলের প্রতি তার ‘সংহতি ও অটুট প্রতিশ্রুতি’ ব্যক্ত করেছে।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেন, ‘ইতালি মনোযোগ ও উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি পরিচালনা করতে প্রস্তুত রয়েছে।’

মেক্সিকো সরকার বলেছে, এটি ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগের নিন্দা করে এবং একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন ও উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।’  সূত্র: বাসস 

ইসরাত চৈতী/সালমান/

যুক্তরাষ্ট্রকে নাক না গলাতে সতর্ক করল ইরান

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রকে নাক না গলাতে সতর্ক করল ইরান

ইসরায়েলের সঙ্গে তেহরানের সংঘাত থেকে দূরে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইরান। সিরিয়ার দামেস্কে কনস্যুলেট ভবনে ভয়াবহ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ওয়াশিংটনকে এমন সতর্ক করল দেশটি।  

রবিবার (১৪ এপ্রিল) ইরানের জাতিসংঘ মিশন সামজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ‘ইরানের এমন সামরিক পদক্ষেপ দামেস্কে আমাদের কূটনৈতিক কার্যালয়ে ইহুদিবাদী শাসকদের আগ্রাসনের পাল্টা জবাব ছিল। ইসরায়েল সরকার আরেকটি ভুল করলে সেক্ষেত্রে ইরানের জবাব আরও কঠোর হবে।’

ওই বার্তায় আরও বলা হয়, ‘এটি ইরান ও দুর্বৃত্ত ইসরায়েল সরকারের মধ্যে একটি সংঘাত। এমন সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে!’ 

বার্তায় আরও বলা হয়, ইরান আশা করে যে, তাদের কূটনৈতিক মিশনে হামলার শাস্তি দেওয়ার জন্য তাদের পদক্ষেপ আর দীর্ঘ হবে না এবং বিষয়টি শেষ বলে মনে করা যেতে পারে।

এদিকে পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাহিনী ইসরায়েলগামী বিভিন্ন ড্রোন ধ্বংস করছে। অন্যদিকে ব্রিটেন জানিয়েছে তারাও প্রস্তুত রয়েছে।

গত ১ এপ্রিল দামেস্কে ইরানের দূতাবাসের এনেক্স ভবনে হামলায় ভবনটি মাটির সঙ্গে মিশে যায় এবং ৯ জন নিহত হন। সেখানে এমন হামলা চালানোয় ইসরায়েলকে দোষারোপ করা হয়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডস ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দেয় যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে তার প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

ইরান বলেছে, তেহরান তাদের কূটনৈতিক মিশনে হামলার পর আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ইরান তার সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর যে কোনো বেআইনি শক্তি প্রয়োগ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে থাকে।’  সূত্র: এএফপি 

ইসরাত চৈতী/অমিয়/ 

ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে ইরান

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০:০৭ এএম
ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলে দুই শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। স্থানীয় সময় শনিবার (১৩ এপ্রিল) গভীর রাতে এ হামলা চালানো হয়।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শনিবার ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তারা। ‘ট্রু প্রোমিজ’ নামে অভিযানের অধীনে এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। 

ইসরায়েলের করা অপরাধের শাস্তি হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলি ভূখণ্ডে এই প্রথমবারের মতো সরাসরি হামলা চালালো ইরান। তবে এ হামলার লক্ষ্যবস্তু এখনও সুস্পষ্ট নয়।

এদিকে ইসরায়েলের আকাশে বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই হামলার পর ইসরায়েলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে হোয়াইট হাউস।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানি ড্রোন হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ টেলিভিশন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরানি এ হামলার ‘উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া’ হবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘ইরানের সরাসরি হামলার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম।’ সূত্র: আল-জাজিরা ও রয়টার্স

পপি/অমিয়/

কঙ্গোর বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় নিয়ে শঙ্কিত জাতিসংঘ

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০:০৫ পিএম
কঙ্গোর বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় নিয়ে শঙ্কিত জাতিসংঘ
ট্রাকে চেপে আশ্রয়ের সন্ধানে কঙ্গোর বাস্তুচ্যুতরা। ছবি: সংগৃহীত

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে সহিংসতায় গোমার আশপাশের বাস্তুচ্যুত ৫ লাখের বেশি মানুষের আশ্রয় নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা।

জাতিসংঘ মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানায়, গোমার চারপাশে ক্রমবর্ধমান হুমকির সম্মুখীন বাস্তুচ্যুত মানুষের অনিশ্চিত অবস্থা উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। খবর সিনহুয়া’র

ওসিএইচএ বলেছে, ‘কিভুর উত্তরে মাসিসি ও রাতশুরু অঞ্চলে কঙ্গোলিজ সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র  গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে পালিয়ে যাওয়া ৫ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে বর্তমানে নগরীর চারপাশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছে। মার্চের শুরু থেকে, গোমার ও এর আশেপাশে বাস্তুচ্যুতদের স্থানগুলোতে বেশ কটি গোলাগুলি ও দুর্ঘটনাজনিত গ্রেনেড বিস্ফোরণে আটজন নিহত ও ৩৪ জন আহত হয়।

কার্যালয় বলেছে, এসব গোলাগুলি ও বিষ্ফোরণ শুধুমাত্র ফ্রন্টলাইনের কাছে ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুত লোকদের সম্পূর্ণ ঝুঁকির মধ্যে ফেলেনি বরং শরণার্থী শিবিরগুলোতে অস্ত্রের উপস্থিতিও উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কঙ্গো সরকার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে গ্রামবাসীদের ওপর বেশ কটি আক্রমণ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করতে না পারার অভিযোগে দেশটিতে অবস্থিত জাতিসংঘ মিশনের ‘এমওএনইউএসসিও’ নামে পরিচিত মিশন থেকে শান্তিরক্ষীদের চলে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। 

ইতোমধ্যে শান্তিরক্ষীদের প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছে এবং মিশন তা মেনে নিয়েছে। সূত্র: বাসস

অমিয়/

গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূতের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩২ পিএম
গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূতের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ভিক্টর ম্যানুয়েল রোচা

কিউবার পক্ষে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক  রাষ্ট্রদূত ভিক্টর ম্যানুয়েল রোচাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। 

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) মিয়ামির ফেডারেল আদালত এ রায় দেন।

মিয়ামিতে সাড়ে তিন ঘণ্টা শুনানির পর বিচারক বেথ ব্লুম রোচাকে বলেন, তিনি তাকে আইন অনুযায়ি সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন। আইন আনুযায়ি ১৫ বছরের সাজা ছাড়াও রোচাকে ৫ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৩ বছর বয়সি ভিক্টর ম্যানুয়েল রোচাকে গত ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশি অ্যাজেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে কাজ করেন বলে জানান দেশটির কর্মকর্তারা। 

রোচা ফেব্রুয়ারিতে বিদেশি সরকারের অ্যাজেন্ট হিসেবে কাজ করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগের ব্যাপারে দোষী না হলেও পরে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন।

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের মতে, কলম্বীয় বংশোদ্ভূত দেশটির নাগরিক রোচা ১৯৮১ সালে কিউবার জেনারেল ডিরেক্টরেট অফ ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিআই) গোপন অ্যাজেন্ট হিসেবে হাভানাকে সহায়তা করতে শুরু করে। এমনকি তিনি গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তার গুপ্তচরবৃত্তির কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।  সূত্র: এফপি 

ইসরাত চৈতী/অমিয়/