ঢাকা ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪

অল্পের জন্য স্বপ্নপূরণ হবে না বিজেপির: সমীক্ষা

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৩১ পিএম
অল্পের জন্য স্বপ্নপূরণ হবে না বিজেপির: সমীক্ষা

ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তৃতীয় মেয়াদে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে আসছে শুরু থেকেই। তাদের নির্বাচনি স্লোগানও বলছে, ‘এবার ৪০০ পার’, অর্থাৎ শুধু জয় নয়, বিপুল ভোট পেয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছে তারা। তবে নির্বাচনের ঠিক আগ দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত সমীক্ষা বলছে, ওই স্বপ্ন হয়তো অল্পের জন্য পূরণ হবে না ক্ষমতাসীনদের।

এনডিটিভির সমীক্ষা বলছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৩৭২টি জিতবে। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পেতে পারে ১২২টি আসন। বাদবাকি ৪৯টি আসন দুই জোটের বাইরে থাকা দল বা যে কোনো জোট পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনুমিত এই চূড়ান্ত ফলাফল অবাক করার মতো কিছু নয় বলে মনে করছে এনডিটিভি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে- ২০১৯ সাল থেকেই ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যকার ব্যবধান ক্রমশ কমে আসছে। 

এনডিএ যে ৩৬৫টি আসন জিতবে বলে মনে করা হচ্ছে, তা হিসাবে ২০১৯ সালের ফলাফলের তুলনায় ৩.৪ শতাংশ বেশি। সেবার ৩৫৩টি আসন জিতেছিল ওই জোট, তার মধ্যে শুধু বিজেপিরই ছিল ৩০৩টি আসন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) পেয়েছিল ৯০ আসন।

২০১৪ সালের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে এনডিএ ২০১৯ সালে ৫ শতাংশ আসন বেশি জিতেছিল। ২০১৪ সালে এনডিএর দখলে ছিল ৩৩৬টি আসন। অন্যদিকে বিজেপি জোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইউপিএ ২০১৪ সালে পেয়েছিল ৬০টি আসন। ২০১৯ সালে ৫০ শতাংশ বেড়ে তাদের ফলাফল গিয়ে দাঁড়ায় ৯০-এর ঘরে। এবার ইউপিএ-তে পরিবর্তন এসেছে, ওই জোট এখন পরিচিত ইন্ডিয়া নামে। অনুমান বলছে ১২২ আসন পাবে এই ইন্ডিয়া জোট। তা যদি হয়, সেটি হবে ২০১৯ সালের ফলাফলের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি।

সবমিলিয়ে ৯টি জরিপের ফলাফল নিয়ে সমীক্ষাটি করেছে এনডিটিভি। এর মধ্যে তিনটি জরিপ সম্পন্ন করেছিল এবিপি-সি। জরিপ তিনটি হয়েছিল ২৫ ডিসেম্বর, ১২ মার্চ ও ১৬ এপ্রিল। সেই তিন জরিপের শুরুতে অনুমান করা হয়েছিল এনডিএ ২৯৫-৩৩৫টি আসন পাবে, পরে তা গিয়ে ঠেকে ৩৬৬টি, শেষে স্থায়ী হয় ৩৭৩-এর ঘরে। অন্যদিকে ইন্ডিয়া ১৬৩ আসন পাবে বলে মনে করা হলেও দ্বিতীয় জরিপে ১৫৬ এবং তৃতীয় জরিপে গিয়ে ১৫৫তে ঠেকে অনুমান।

টাইমস-ইটিজির জরিপও বলছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট আবারও ক্ষমতায় আসতে চলেছে। জোটটি ৩৫৮ থেকে ৩৯৮টি আসন পাবে। অন্যদিকে ইন্ডিয়া পাবে ১১০ থেকে ১৩০টি আসন। কোনো জোটেই নেই এমন দলগুলো পাবে ৬৪ থেকে ৬৮টি আসন।

ইন্ডিয়া টিভি-সিএনএক্স, জি নিউজ-মাট্রিজ এবং টাইমস-মাট্রিজ সবাই পৃথক পৃথকভাবে অনুমানে জানিয়েছে, এনডিএ সাড়ে তিন শর বেশি আসন পাবে এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্ডিয়া জোট পাবে ১০০-এর চেয়ে কম আসন। তবে এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম টাইম মাট্রিজ। তারা বলছে, ইন্ডিয়া জোট ১০৪টি আসন পেতে পারে।

ইন্ডিয়া টুডে-সি ভোটার ৮ ফেব্রুয়ারি ৩৬ হাজার ভোটারের ওপর এক জরিপ চালায়। সেটির ফলাফল বলছে এনডিএ ৩৩৫টি আসন নিয়ে আবারও জয়ী হবে। ইন্ডিয়া জিতে নিবে ১৬৬টি আসন, অন্যান্য দল পাবে ৪২টি আসন।

আট রাজ্যে জয়
এনডিএ আট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী দিল্লি, নরেন্দ্র মোদির নিজ রাজ্য গুজরাট এবং উত্তরপূর্বের অরুণাচল প্রদেশ। এনডিএ রাজস্থান, চন্ডিগড়, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউতে জয়লাভ করবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো থেকে লোকসভায় ৭২ জন এমপি যাবে। ফলে এগুলোতে জিতলে চূড়ান্ত ফলাফলে তা সহায়তা করবে বিজেপিকে। তবে জরিপের ফলাফল বলছে, দক্ষিণ ভারতকে এবারও প্রভাবিত করতে পারেনি বিজেপি। 

২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপি দিল্লির সাত আসন, গুজরাটের ২৬ আসন, অরুণাচল প্রদেশের দুই আসন, চন্ডিগড়ের এক আসন, উত্তরাখণ্ডের পাঁচ আসন, হিমাচল প্রদেশে চার আসন এবং দমন ও দিউতে এক আসন জিতে নিয়েছিল। এ ছাড়াও রাজস্থানে ২৫ আসনের মধ্যে ২৪টিতে জিতেছিল তারা। ২৫তম আসনটিও বিজেপি জোটের এক মিত্রই পেয়েছিল।

উত্তর প্রদেশ, বিহার ও মধ্যপ্রদেশ
উত্তর প্রদেশ, বিহার ও মধ্যপ্রদেশেও বিজেপি ও তার মিত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে থাকা ১৪৯টি আসনের মধ্যে এনডিএ ১৩৭টি জিততে পারে। এটি হলে ২০১৯ সালের ফলাফলের পুনরাবৃত্তি হবে। সেবার বিহারের ৪০ আসনের ৩৯টি, ইউপির ৮০ আসনের ৭৪টি এবং মধ্যপ্রদেশের ২৯ আসনের ২৮ জিতে নিয়েছিল এনডিএ।

বিহারে বিরোধীরা বড় ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছর সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমার নিজের জনতা দলকে এনডিএ জোটে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। সবমিলিয়ে বিহারে ৫টি আসন পেতে পারে ইন্ডিয়া জোট।

উত্তরপ্রদেশেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি লোকসভা আসন, ৮০টি। সেখানে আগেভাগেই পথ খুঁজে রাখতে হবে বিরোধী জোট ইন্ডিয়াকে। মধ্য প্রদেশে কংগ্রেস একটি আসন জিতবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্রে লড়াই
মহারাষ্ট্রে এবার মুখোমুখি হতে চলেছে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোট এবং মহা বিকাশ অঘাড়ি জোট। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে লড়াইয়ে নামবে বিজেপি। ধারণা করা হচ্ছে, মহারাষ্ট্রে আধিপত্য বিস্তার অবস্থানে দেখা যাবে মহাযুতিকে। ৪৮ আসনের ৩০টি জিতে নেবে তারা। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে হিসাবটা হবে একটু আলাদা।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৪২ আসনের মধ্যে তার দল জিতে নেবে ২২টি। ২০১৯ সালে বিজেপি সেখানে ১৮টি আসন জিতলেও এবার ১৯টি আসন জিতবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাগজে-কলমে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মিত্র কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পশ্চিমবঙ্গে একটি আসন জিততে পারে। 

বিজেপির ‘দক্ষিণ অভিযান’
বিজেপি ঐতিহাসিকভাবেই দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে ভালো ফলের দেখা পায়নি। বিশেষ করে তামিলনাড়ু ও কেরালাতে। ২০১৯ সালে ওই দুই রাজ্যের কোনোটিতেই একটি আসনও পায়নি তারা। তামিলনাড়ুতে ভোট পেয়েছিল ৩.৬ শতাংশ। অন্যদিকে কেরালায় পেয়েছিল ২.৩ শতাংশ।

এটি এবার বদলে যেতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর তামিলনাড়ুতে দুই আসন পেতে পারে বিজেপি। গত আট সপ্তাহে দশবার সেখানে সফর করেছেন তিনি। তামিলনাড়ুতে ইন্ডিয়া জোট বিজয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের ৩৩ আসন এনে দেবে দাব্রিড় মুননেত্রা কাঝাগাম (ডিএমকে)। অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া আন্না দাব্রিড় মুননেত্রা কাঝাগাম (এআইএডিএমকে) মাত্র চারটি আসন পেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

দক্ষিণের অন্যান্য স্থানে বিজেপি কিছুটা সফলতার দেখা পেতে পারে। কর্নাটকে ২৮টি আসনের মধ্যে ২৩টি পেতে পারে এনডিএ। গত বিধানসভা নির্বাচনে অবশ্য সেখানে পরাজিত হয়েছিল তারা।

অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের ২৫ আসনের মধ্যে ১৬টি আবারও জিতে নিতে পারে ক্ষমতাসীন ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি। এ ছাড়া তেলেঙ্গানায় বিজেপি, কংগ্রেস ও ভারত রাষ্ট্র সমিতির (বিআরএস) মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। ধারণা করা হচ্ছে, কংগ্রেস সেখানে ৯ আসন জিতে নেবে, বিজেপি পাবে চারটি, বিআরএস পাবে তিনটি। ১৭তম আসনটি পেতে পারে আসাউদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএম। সূত্র: এনডিটিভি

ভারতে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:০৪ পিএম
ভারতে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বুধবার (২৯ মে) ৫২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা দিল্লির তো বটেই, গোটা ভারতের ইতিহাসেই সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবর বলছে, দুপুর আড়াইটা নাগাদ দিল্লির মুঙ্গেশপুরে ওই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। দেশটিতে গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী।

ক্রমশ বাড়তে থাকা এ তাপমাত্রার কারণ ব্যাখ্যায় ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের আঞ্চলিক প্রধান কুলদিপ শ্রিভাস্তা বলেছেন, শহরের উপকণ্ঠের এলাকাগুলো রাজস্থান থেকে আসা গরম বাতাসে তপ্ত হয়ে উঠেছে। দিল্লির কিছু অংশ বিশেষভাবে ওই উষ্ণ বাতাসের কারণে আরও গরম হয়ে উঠছে এবং আগে থেকেই প্রতিকূল আবহাওয়া আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এ ধরনের গরম বাতাসের প্রভাব যেসব এলাকায় প্রথম দেখা যাচ্ছে, সেগুলো হলো মুঙ্গেশপুর, নারেলা ও নাজাফগড়।

তাপমাত্রা যা প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সেটির চেয়ে ৯ ডিগ্রি বেশি রেকর্ড হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে এনডিটিভি। বুধবার স্বল্প সময়ের জন্য দিল্লিতে বৃষ্টি হয়। এ কারণেও আর্দ্রতার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। 

দিল্লির জন্য এরই মধ্যে রেড অ্যালার্ট হেলথ নোটিশ জারি করেছে আইএমডি। ওই অঞ্চলে তিন কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। তারা বর্তমানে গরমসংক্রান্ত রোগ ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।

ভারতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি নতুন কিছু নয়। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ এখন সেখানে আরও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে এবং সেগুলো দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি

পাকিস্তানে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৭

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৪:০৩ পিএম
পাকিস্তানে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৭
দুর্ঘটনা কবলিত বাস। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি চলন্ত বাস গভীর খাদে পড়ে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও অনেকে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

বুধবার (২৯ মে) ভোরে তুরবাত শহর থেকে কোয়েটার দিকে যাওয়ার সময় বেলুচিস্তান প্রদেশের বাসিমা শহরে বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে।

স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ইসমাইল মেনগাল বলেন, ‘চালক একটি পাহাড়ি এলাকায় মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। আমরা এখনও ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছি। হতে পারে চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বা গাড়িটি দ্রুত গতিতে ছিল। যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

সিভিল হাসপাতাল বাসিমার প্রধান চিকিৎসক নূর উল্লাহ বলেন, তিন নারী ও দুই শিশুসহ ২৭ জনের লাশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এক বিবৃতিতে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার জন্য গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সূত্র: এএফপি 

ইসরাত চৈতী/অমিয়/ 

রিমালের তাণ্ডবে মিজোরামে খনিধস নিহত ১৫, আটকা ৭

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:১২ এএম
রিমালের তাণ্ডবে মিজোরামে খনিধস নিহত ১৫, আটকা ৭
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য মিজোরামে এক পাথরখনি ধসে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সেখানে আটকা পড়েছেন ৭ জন। ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে দেখা দেওয়া তীব্র বৃষ্টি থেকেই ওই ঘটনা ঘটেছে। 

গতকাল মঙ্গলবার কর্মকর্তারা জানান, উত্তর-পূর্ব মিজোরামের রাজধানী আইজলের উপকণ্ঠে খনিধসের ঘটনাটি ঘটে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেখানে আটকে পড়া ৭ জনকে উদ্ধারের কাজ ব্যাহত হয়েছে। 

এ ছাড়া ভূমিধসে রাজ্যটির বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা সীমান্ত এলাকায় আরও ৭ জন নিহত হয়েছেন। গাছ পড়ে পার্শ্ববর্তী আসাম রাজ্যে আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে অবিরাম বর্ষণের ফলে খনিটি ধসে পড়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টির তাণ্ডবে পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশের কিছু অংশে প্রায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। সূত্র: রয়টার্স

ইসরায়েলকে ‘সতর্ক’ হতে বলল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:০৬ এএম
ইসরায়েলকে ‘সতর্ক’ হতে বলল যুক্তরাষ্ট্র

রাফায় ইসরায়েলি হামলায় ৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে বেসামরিকদের রক্ষায় সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র বলেছেন, ইসরায়েলের হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার অধিকার রয়েছে। আমরা বুঝতে পারছি যে এই হামলায় দুজন জ্যেষ্ঠ হামাস সদস্য নিহত হয়েছেন, যারা ইসরায়েলি বেসামরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে আমরা আগে থেকেই স্পষ্টভাবে বলছি যে ইসরায়েলের অবশ্যই বেসামরিকদের রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে। 

ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে নিজ দলের ভেতরেই চাপের মুখে পড়েছেন বাইডেন। মূলত সমর্থন কমানোর জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করছেন নেতা-কর্মীরা। 

গত সোমবার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতা আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ইসরায়েলের ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের উচিত নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও সামরিক সহায়তা স্থগিত করা। 

ডেমোক্রেট দলের আরেক আইনপ্রণেতা আয়ান্না প্রেসলে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘রাফা থেকে গত রাতে ভয়াবহ ও মর্মান্তিক কিছু ছবি এসেছে? ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এই নিধনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আর কতদিন সমর্থন দেবে?’ 

ডেমোক্রেট দলের প্রতিনিধি রাশিদা তালিব ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘গণহত্যামূলক উন্মাদ’ বলে অভিহিত করেন। নেতানিয়াহু গত সোমবার বলেন, তারা বেসামরিকদের ক্ষয়ক্ষতিতে কোনো ভূমিকা রাখতে চাননি। কিন্তু ‘মর্মান্তিক ভুল’ হয়ে গেছে।  

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‘সক্রিয়ভাবে’ ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ও স্থলভাগে থাকা অন্যদের সঙ্গে জড়াচ্ছে। 

ডেমোক্রেট ভোটারদের অর্ধেকই বাইডেন যেভাবে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে অসন্তুষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি জানান এবং ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে বলেন।  

এদিকে, ইসরায়েলি হামলার নিন্দার মধ্যেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, আমরা লক্ষ্য অর্জনের আগে যুদ্ধ শেষ করতে চাই না। ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ওই মন্তব্য করেন তিনি।

গত রবিবারের পরও গাজার দক্ষিণের শহর রাফায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। নতুন করে আরও অন্তত ১৬ জন মারা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।  

ইসরায়েলি হামলার মুখে রাফা ছাড়ছেন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। এক সময় ইসরায়েলি বাহিনী স্থানটিকে নিরাপদ বলে ঘোষণা করলেও এখন আর এটি কোনোদিক থেকেই নিরাপদ নয়। গতকাল সূর্য ওঠার পরপরই ফিলিস্তিনিদের রাফার তাল আল-সুলতান এলাকা থেকে গাড়ি, ট্রাকে করে এলাকা ছেড়ে উত্তরের দিকে যেতে দেখা যায়। অনেকে যাতায়াতে গাধা ও ঘোড়া ব্যবহার করেন।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক ডেকেছে। রবিবারের রাফা অভিযান নিয়ে বৈঠকে বসবেন তারা। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি  

উ. কোরিয়ার নজরদারি স্যাটেলাইট মাঝ আকাশে বিধ্বস্ত

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:০১ এএম
উ. কোরিয়ার নজরদারি স্যাটেলাইট মাঝ আকাশে বিধ্বস্ত
ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশে নজরদারি স্যাটেলাইট পাঠাতে চেয়েছিল উত্তর কোরিয়া। কিন্তু তাদের সে প্রচেষ্টা সফল হয়নি। মাঝ আকাশে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে স্যাটেলাইট বহনকারী রকেট। গত সোমবার শেষ ভাগে এ বিষয়ে জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।

উত্তর কোরিয়ার এরকম স্যাটেলাইট পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই সে বিষয়টির সমালোচনা করে সিওল ও টোকিও। পরে মাঝ আকাশে বিধ্বস্ত হয় উত্তর কোরিয়ার উৎক্ষেপণ করা স্যাটেলাইটবাহী রকেট। জাপানের সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে এক ভিডিও ফুটেজ দেখিয়েছে। সে ফুটেজে রাতের আকাশে প্রথমে একটি বস্তুকে জ্বলে উঠতে ও পরে তা বিস্ফোরিত হতে দেখা গেছে।

এনএইচকে জানিয়েছে, ফুটেজটি উত্তরপূর্ব চীন থেকে ধারণ করা। উৎক্ষেপণের প্রথম পর্যায়েই স্যাটেলাইটটি বিস্ফোরিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে উত্তর কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যারোস্পেস টেকনোলজির পক্ষ থেকে। 

উত্তর কোরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই মহাকাশে নজরদারি স্যাটেলাইট পাঠাতে চাইছে। বিষয়টি কিম জং উন প্রশাসনের শীর্ষ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। গত নভেম্বরে সফল হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছিল উত্তর কোরিয়া। তবে সেটির আগেও দুবার ব্যর্থ হয়েছিল তারা। সূত্র: গার্ডিয়ান