পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়ার নির্দেশ পুতিনের । খবরের কাগজ
ঢাকা ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়ার নির্দেশ পুতিনের

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৪, ০৮:০১ এএম
পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়ার নির্দেশ পুতিনের
ছবি : সংগৃহীত

কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখবে রাশিয়া। সোমবার (৬ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশের আলোকে শিগগিরই এই পরীক্ষা চালানো হবে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, সাউদার্ন মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী এই মহড়ায় অংশ নেবে। সামরিক বাহিনীর বিমানবহর ইউনিট ও নৌবাহিনীও এই মহড়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

মহড়ার লক্ষ্য হলো কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সক্ষমতা যাচাই করে দেখা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য ও হুমকি দেওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই মহড়ার মাধ্যমে রুশ সেনারা নিশ্চিত করবে যে তারা রাশিয়ার অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম।

কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র বলতে সাধারণত ছোট আকৃতির নিম্ন ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক ওয়ারহেডকে বোঝায়। শত্রুবাহিনীর সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য এ ধরনের অস্ত্র তৈরি করা হয়েছে। যাতে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়। এ ছাড়া এটি তেজস্ক্রিয়তাও কম ছড়ায়।

তবে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত পারমাণবিক বোমা মোতায়েনের পরীক্ষা চালানোর ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

সম্প্রতি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো ইউরোপে ‘স্টিডফাস্ট ডিফেন্ডার ২০২৪’ নামের যে মহড়া চালাচ্ছে তা পছন্দ করছে না ক্রেমলিন।

রাশিয়ার কাছে দূরপাল্লার আন্তমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত রয়েছে।

ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টের তথ্যমতে, রাশিয়ার কাছে ৫ হাজার ৯৭৭টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে।

ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভ্লাদিমির পুতিন থেকে শুরু করে রাশিয়ার একাধিক শীর্ষ নেতা পশ্চিমা ইন্ধন অব্যাহত থাকলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এর আগে দাবি করেছিলেন, পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা রাশিয়ার রয়েছে। সূত্র: রাশিয়া টুডে

গৃহযুদ্ধের ১৫ বছর পূর্তিতে তামিলদের স্মরণসভা

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ০৮:৪৫ এএম
গৃহযুদ্ধের ১৫ বছর পূর্তিতে তামিলদের স্মরণসভা
ছবি : সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু তামিল সম্প্রদায় একটি আবেগঘন স্মরণসভার মাধ্যমে গৃহযুদ্ধ সমাপ্তির ১৫ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের স্মরণসভা বানচালের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও সফলভাবে আয়োজন সম্পন্ন করেছে তারা।

বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী তামিল টাইগার্সকে উদ্দেশ করে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে যারা একটি সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক যুদ্ধ করেছিল। কর্তৃপক্ষ এই ধরনের সভাগুলো অবৈধ হিসেবে গণ্য করে বিধায় তারা এদিন পুরোনো স্মৃতিসৌধগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল।

সাবেক যুদ্ধ অঞ্চলগুলো এই ধরনের স্মরণসভাগুলো অনেক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে পণ্ড এবং অংশগ্রহণকারীদের ধরপাকড় করে আসছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কড়া নজরদারি এবং ব্যাপক ভয়ভীতি প্রদর্শন সত্ত্বেও শনিবার সভার আয়োজন করা হয়।

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ভুক্তভোগীদের স্মরণ করতে এই আয়োজন করা হয় বলে জানায় তামিলরা। 

টাইগার্সদের সর্বশেষ দুর্গে সামরিক হামলার মাধ্যমে ২০০৯ সালে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। 

জাতিসংঘের ধারণামতে, যুদ্ধের শেষ মাসে কমপক্ষে ৪০ হাজার বেসামরিক লোকের প্রাণহানি ঘটে। বেসামরিক লোকদের ওপর নির্বিচারে বোমা হামলার জন্য এই সামরিক অপারেশনটি আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত হয়েছিল।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ৪১ বছর বয়সী এক তামিল কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগের দিন এখানে হাজার হাজার মানুষ মারা যায়, এখানে অসংখ্য আহত মানুষ সাহায্যের জন্য কাঁদছিল, দৃশ্যটি আমাকে সারা জীবন তাড়িত করবে।’ 

‘সম্মিলিত ব্যর্থতা’
কয়েক হাজার তামিল যুদ্ধকবলিত গ্রামগুলোতে সফর করে মৃতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন করে। এই বছর এই স্মরণসভায় অংশ নেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বৈশ্বিক প্রধান আগনেস ক্যালামার্ড, যিনি এই ধরনের সভায় অংশ নেওয়া সর্বোচ্চ উচ্চপদস্থ বিদেশি। তিনি তামিলদের পর চলা এই নিধনযজ্ঞকে শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন। 

এ ছাড়া আল-জাজিরাকে পাঠানো এক মেইল বার্তায় তিনি তিন দশক ধরে চলা এই সশস্ত্র সংঘাতে ভুক্তভোগীদের স্বপক্ষে সুষ্ঠু বিচারের জন্য শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

কৌশলগত চুক্তির দ্বারপ্রান্তে সৌদি আরব-যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ০৮:২৬ এএম
কৌশলগত চুক্তির দ্বারপ্রান্তে সৌদি আরব-যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান-যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান

সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত চুক্তির একটি ‘সেমিফাইনাল’ সংস্করণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানের বৈঠকে ওই আলোচনা হয়। 

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাহরানে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

রবিবার (১৯ মে) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। খবর রয়টার্স ও এএফপির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চুক্তিগুলোকে বিবেচনা করা হয়। গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে এ প্রচেষ্টা অনেক জটিল হয়ে পড়েছে। তবে যুবরাজ মোহাম্মদ এবং সুলিভানের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত চুক্তির সেমিফাইনাল সংস্করণ পর্যালোচনা করা হয়েছে, যা প্রায় চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের একটি গ্রহণযোগ্য পথ খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে কী কাজ করা হচ্ছে তারা সেটি নিয়েও আলোচনা করেন। বৈঠকে গাজার পরিস্থিতি ও যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তা এবং সেখানে মানবিক সাহায্য প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহায়তার ব্যাপারে ওয়াশিংটন ও রিয়াদ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার খুব কাছে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রেক্ষাপটে চুক্তির বাস্তবায়নকে ধরা হয় ব্যাপক আকারের দর-কষাকষির ক্ষেত্র হিসেবে। সেটি এখনো রয়ে গেছে নাগালের বাইরে।

এই চুক্তির আওতায় সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চলতি মাসের গোড়ার দিকে রয়টার্স জানায়, ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ অধরা থাকলেও পরমাণু চুক্তি চূড়ান্ত করতে চাইছে বাইডেন প্রশাসন ও সৌদি সরকার।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিশ্বাসযোগ্য পথ খুঁজে বের করতেও আলোচনা করেছেন সৌদি যুবরাজ এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শীর্ষ নিরাপত্তা সহকারী। 

হোয়াইট হাউস জানায়, যুদ্ধের বিষয়ে আলোচনার জন্য রবিবার সন্ধ্যার দিকে সুলিভানের ইসরায়েল সফর করার কথা রয়েছে।

ইসরায়েলের সরকারি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, গত বছর ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১ হাজার ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। এদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক।

এদিকে হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক হামলায় কমপক্ষে ৩৫ হাজার ৩৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছে। এদের অধিকাংশ বেসামরিক নাগরিক।

যুক্তরাষ্ট্রের উপদেষ্টার সফরের মধ্যেই গাজায় হামলা

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ০৮:০৫ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের উপদেষ্টার সফরের মধ্যেই গাজায় হামলা
গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবির এলাকায় শনিবার ইসরায়েলি হামলার পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়।ছবি : সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানের মধ্যপ্রাচ্য সফর চলাকালে ইসরায়েলের ট্যাংক ও জঙ্গিবিমান শনিবার (১৮ মে) রাতভর গাজা উপত্যকা ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, রবিবার ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুলিভানের বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা। সেখানে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরে ব্যাপক হামলার পরিবর্তে হামাসের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরামর্শ দিতে পারেন সুলিভান।

রাফাহ শহরকে হামাসের শেষ শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করে ইসরায়েল সেখানে হামলা জোরদার করেছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের অনেকেই হামলার ভয়ে শহর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া গুটিকয়েক স্থানের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গাজার উত্তরাঞ্চলীয় জাবালিয়া শহরের অলিগলিতে অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েল। সংঘর্ষ চলাকালে এর আগে এই এলাকাটি একবার খালি করেছিল বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাবালিয়ায় তাদের সামরিক অভিযান সুনির্দিষ্ট এবং এর লক্ষ্য শহরটি হামাসের পুনর্নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা। গাজায় আটটি ঐতিহাসিক শরণার্থী শিবিরের একটি জাবালিয়া।

ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে রবিবারের সংঘর্ষে দুজন সৈন্য নিহত হয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্যকর্মী ও হামাস জানিয়েছে, রবিবারের হামলায় কমপক্ষে ২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় গাজা উপত্যকার নুসেইরাত এলাকার একটি বাড়িতে হামলায় ওই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

গাজা সিভিল ইমার্জেন্সি সার্ভিস এক বার্তায় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি সৈন্যদের হামলায় নিহত ১৫০ ফিলিস্তিনির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলের বিমান ও স্থল হামলায় কমপক্ষে ৩০০ বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অবশ্য লাশ গণনায় বেসামরিক ব্যক্তি ও যোদ্ধাদের মধ্যে কোনো প্রভেদ করেননি।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে ৩৫ হাজার ৩৮৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সাহায্য সংস্থার পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, গাজায় ব্যাপক দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং স্বাস্থ্যসামগ্রী ও জ্বালানির সংকট দেখা দিতে পারে।

ইসরায়েলের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগের হুমকি
এদিকে ইসরায়েলের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বেনি গান্টজ সতর্ক করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকার জন্য যুদ্ধপরবর্তী পরিকল্পনা প্রকাশ না করলে তিনি পদত্যাগ করবেন। 

বেনি গান্টজ ছয়টি ‘কৌশলগত লক্ষ্য’ অর্জনের পরিকল্পনার জন্য ৮ জুন সময়সীমা নির্ধারণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে গাজায় হামাস-শাসনের অবসান এবং এই অঞ্চলের জন্য একটি বহুজাতিক বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

বেনি গান্টজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘আপনি যদি ব্যক্তির ওপরে জাতিকে স্থান দেন, তাহলে এই সংগ্রামে আমাদের অংশীদার হিসেবে পাবেন, আর যদি ধর্মান্ধতার পথ বেছে নিয়ে দেশকে তলানির দিকে নিয়ে যান, তাহলে আমরা পদত্যাগে বাধ্য হব।’

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু অবশ্য বেনি গান্টজের মন্তব্যকে ধোঁয়াশাপূর্ণ বলে বাতিল করে দিয়ে বলেছেন, এর মানে হলো ইসরায়েলের জন্য পরাজয়।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়ভ গ্লন্তের বক্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যে গান্টজ এ মন্তব্য করলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে জানাতে হবে যে গাজায় সামরিক বা বেসামরিক শাসন কর্তৃত্ব হাতে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা ইসরায়েলের নেই।

দ্রুত ত্রাণ সরবরাহের আহ্বান
এদিকে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরএডব্লিউ শনিবার সতর্ক করে বলেছে, গাজায় স্থলপথে নিরাপদ ত্রাণ সরবরাহ রুট পুনরায় খুলতে ব্যর্থ হলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি দেখা দেবে। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ কথা জানিয়েছে।

ইউএনআরএডব্লিউ কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজ্জারিনি বলেছেন, গাজা ক্রসিং পুনরায় খোলা না হলে শরণার্থীদের বঞ্চনা ও মানবিক বিপর্যয়মূলক পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটানো সম্ভব হবে না।

ইরানের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ১০:১৭ পিএম
ইরানের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আবদোল্লাহিয়ানসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি হেলিকপ্টার রবিবার (১৯ মে) বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এতে কারও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। খবর আল-জাজিরা ও এনবিসি নিউজের। 

আজারবাইজানের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি জলাধার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট রাইসি। সেখান থেকে ফেরার সময় ভারজাকান এলাকায় হেলিকপ্টারটি অবতরণের সময় ঝড়বৃষ্টির কবলে পড়ে। এরপর সেটি বিধ্বস্ত হয়। 

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, আজারবাইজান শহরের কাছে অবস্থিত জলফাতে হেলিকপ্টারটি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়। রাজধানী তেহরান থেকে ৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অঞ্চলটির অবস্থান। 

ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঝড়বৃষ্টির কবলে পড়ার পর সেটি থেকে জরুরি ফোনকল এসেছিল। হেলিকপ্টারে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকা কর্মকর্তারাই ওই ফোন করেছিলেন। 

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমির ভাহিদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, ওই হেলিকপ্টারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছিল। কথা চলার মধ্যেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারীরা যাচ্ছেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। 

ইরানে বিভিন্ন ধরনের হেলিকপ্টার রয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অবরোধের কারণে সেগুলোর যন্ত্রাংশ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া সামরিক বহরে যেসব বিমান রয়েছে সেগুলো অনেক পুরোনো।

 

রাফা থেকে পালিয়েছেন ৮ লাখ মানুষ: জাতিসংঘ

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ০৪:০৯ পিএম
রাফা থেকে পালিয়েছেন ৮ লাখ মানুষ: জাতিসংঘ
রাফায় ইসরায়েলের অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় আট লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ছবি: সংগৃহীত

গাজার দক্ষিণাঞ্চল রাফায় গত সপ্তাহে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় আট লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

শনিবার (১৮ মে) এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনবিষয়ক জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) প্রধান ফিলিপ লাজ্জারানি ফিলিস্তিনিদের বার বার বাস্তুচ্যুতির নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনিরা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বহুবার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন কিন্তু কোথাও নিরাপদ আশ্রয় পাননি। এমনকী ইউএনআরডব্লিউএ’র আশ্রয়কেন্দ্রেও না।’

লাজ্জারানি আরও বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত মানুষরা এমন এলাকাতে পালাতে এবং আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে যেখানে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নেই।’

আল জাজিরার সংবাদদাতা ইসমাইল আলঘৌল জানান, শনিবার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলের বোমা হামলার পর উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে ৪০টি মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে শনিবারের হামলাতেই নিহত হয়েছেন ১৫ জন।

রাফার স্থানীয় সংবাদসংস্থা ওয়াফা জানায়, রাফা শহরের উত্তরে খান ইউনিসে ইসরায়েলের বোমা হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মধ্য গাজার নুসিরাত শরণার্থী শিবিরে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

রাফায় হামলার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র সতর্ক করার পরও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার তা উপেক্ষা করে যাচ্ছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলার আগে রাফায় দেড় মিলিয়ন লোকের বসবাস ছিল। যাদের অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত। সূত্র: আল-জাজিরা

সাদিয়া নাহার/অমিয়/