চলতি বছরের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় উদ্ধার করা দেহাংশ বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম আনারের বলে উঠে এসেছে ডিএনএ রিপোর্টে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দ্য দিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ মে কলকাতার নিউ টাউনে সঞ্জীবা গার্ডেন নামের আবাসিক ভবনে আনারকে হত্যা করা হয়। তার মরদেহের চামড়া উঠিয়ে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ টুকরো টুকরো করে ফেলে খুনিরা।
এর কিছু অংশ টয়েলেটে ফ্ল্যাশ করে হাড়ের টুকরো স্থানীয় একটি খালের পাড়ে ফেলে রাখা হয় বলে জানান এক তদন্ত কর্মকর্তা।
তিন মেয়াদে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আনার ১২ মে কলকাতায় যাওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করতে পারেননি।
এ ঘটনার জেরে তদন্ত কার্যক্রম চালায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
এরপর ২২ মে আনারের মৃত্যুর বিষয়টি সবার সামনে প্রকাশ করে কলকাতা পুলিশ।
কলকাতার গোয়েন্দা সংস্থা ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সম্মিলিত অভিযানে অ্যাপার্টমেন্টের সেপটিক ট্যাংক থেকে আনারের শরীরের কয়েক কেজি মাংস উদ্ধার করা হয়।
হাড়ের টুকরো পাওয়া যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি খালের পাড়ে।
এ বিষয়ে কলকাতা সিআইডির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘উদ্ধার মাংস ও হাড়ের ডিএনএ পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। দেহের খণ্ডাংশগুলো বাংলাদেশের সাবেক সদস্য আনারের।’
তদন্তের উদ্দেশে ডিএনএ নমুনা দিতে নভেম্বরে কলকাতায় যান আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস।
পশ্চিমবঙ্গের সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি এই নমুনা পরীক্ষা করে।
আনার হত্যায় জড়িত থাকার দায়ে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা ও আনারের ব্যবসায়িক অংশীদার আখতারুজ্জামান শাহিনকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: দ্য হিন্দুস্তান টাইমস
নাইমুর/পপি/