ভারতীয় সেনাবাহিনী লস্কর-ই-তাইয়েবার হেডকোয়ার্টার এবং জঙ্গিনেতা মাসুদ আজহারের মাদরাসা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
গত ২২ এপ্রিল পাহালগামে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ২৬ জনকে গুলি করে হত্যার ১৫ দিনের মাথায় এই হামলা চালাল ভারত।
কাশ্মীরের জঙ্গি সংগঠনের ঘাঁটিতে সার্জিকাল স্ট্রাইক চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী। স্থল, নৌ এবং বিমানবাহিনীর এই যৌথ অভিযানকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নাম দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্থান টাইমস সূত্রের খবর, এই পাল্টা হামলায় অন্তত ১৭ জঙ্গি নিহত এবং ৬০ জনের বেশি গুরুতর আহত হয়েছে।
সরকারি সূত্রমতে, হামলায় মোট ৯টি জায়গায় জঙ্গিদের নিশানা করা হয়।
অন্যদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই হামলার কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। ভারত কমপক্ষে ২৪টি মিসাইল ছুড়েছে বলে দাবি করা হয় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে।
ভারত সরকার বিবৃতি দিয়ে জানায়, ‘পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তত ৫টি জায়গায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো হয়েছে। একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কোনো ক্যাম্পে হামলা চালানো হয়নি। বেছে বেছে মাসুদ আজহার এবং হাফিজ সাইদদের জঙ্গি ক্যাম্প এবং মাদরাসাতেই হামলা করেছে ভারত।’
এদিকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে আজ (৭ মে) সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে জানা গেছে। তার আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এই হামলা নিপুণ লক্ষ্যভিত্তিক। এমনভাবে মাপজোখ করে জঙ্গি শিবিরে আঘাত হানা হয়েছে যাতে এর অভিঘাতে নতুন করে উত্তেজনা না বাড়ে। পাকিস্তানের কোনো সামরিক ঘাঁটিকে এই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। টার্গেট এবং কৌশল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভারত যথেষ্ট সংযম দেখিয়েছে।’
এদিকে মঙ্গলবার (৬ মে) রাতেই একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় মুজফফরাবাদ, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালপুর ও আরও কয়েকটি অঞ্চলে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর কথা জানায়।
স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪৪ মিনিটে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, পাহালগামের জঘন্য সন্ত্রাসবাদী হামলার জবাব দিতে অপারেশন সিঁদুর চালিয়েছে ভারত।
এই মুহূর্তে জম্মু-কাশ্মীরের বেশিরভাগ স্কুল, কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গোটা প্রদেশে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। ওদিকে সীমান্তে এখন পর্যন্ত লাগাতার গুলিবর্ষণ করে চলেছে দুই পক্ষের সেনারা। সূত্র: দ্য হিন্দুস্থান টাইমস এবং দ্য ডন
দিনা/অমিয়/