পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে ২৪টি নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ভারত। এতে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি ভারতের।
বুধবার (৭ মে) ভোরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী মুরিদকে এবং বাহাওয়ালপুরে হামলা চালায়। যা যথাক্রমে লস্কর-ই-লশকর-ই-তাইয়েবা এবং জইশ-ই-মোহাম্মদ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর শক্ত ঘাঁটি।
বুধবার (৭ মে) সশস্ত্র বাহিনীর বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, এতে ৭০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসী নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। যা এই গোষ্ঠীগুলির অপারেশনাল ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে।
২২শে এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। এই হামলায় ২৬ জন নিহত হন - যাদের মধ্যে ২৫ জন ভারতীয় এবং একজন নেপালি নাগরিক ছিলেন।
এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যেখান থেকে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা এবং নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের ৯টি সন্ত্রাসী শিবির সম্পর্কেও তথ্য জানানো হয়। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের এই ৯টি সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে ২৪টি নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকার নয়টি সন্ত্রাসী শিবিরের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়,
পাকিস্তানের ৩০ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত মুজাফফরাবাদের সাওয়াই নালা ক্যাম্পটি ছিল লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) প্রশিক্ষণ শিবিরগুলির মধ্যে একটি। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সৈয়দনা বিলাল ক্যাম্প ছিল জৈশ-ই-মোহাম্মদের একটি আস্তানা। এটি অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং প্রশিক্ষণেরও একটি কেন্দ্র ছিল।
নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে কোটলির গুলপুর ক্যাম্পটি ছিল লস্কর-ই-তৈয়বার একটি ঘাঁটি। এটি ২০ এপ্রিল, ২০২৩ সালে পুঞ্চে হামলা এবং ৯ জুন, ২০২৪ সালে তীর্থযাত্রীদের উপর হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল। এছাড়াভিম্বরের বার্নালা ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে ৯ কিমি দূরে অবস্থিত। এটি অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরিচালনার কেন্দ্রও ছিল।
নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কোটলি আব্বাসে ১৫ জন সন্ত্রাসীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। শিয়ালকোটের সরজাল ক্যাম্প আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে জম্মু ও কাশ্মীরে চার সেনা সদস্যকে হত্যার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
শিয়ালকোটের মেহমুনা জোয়া ক্যাম্প ছিল হিজবুল মুজাহিদিন নামক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর শক্ত ঘাঁটি। পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা এবং নির্দেশ এখান থেকেই করা হয়েছিল। মুরিদকে অবস্থিত মারকাজ তাইবা ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল। আজমল কাসাব এবং ডেভিড হেডলিও এখানে প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন।
বাহাওয়ালপুরের মারকাজ সুবহানআল্লাহ ছিল জৈশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান কার্যালয়। এটি ছিল নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং ধর্মান্ধতার কেন্দ্র। সূত্র: এনডিটিভি
সুলতানা দিনা/