ভারত-পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে আরব সাগরে টহল বাড়িয়ে পাকিস্তানি লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে ভারতের নৌবাহিনী।
শুক্রবার (৯ মে) পৃথক দুই প্রতিবেদনে দেশটির নৌবাহিনী সূত্রের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানায় দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং এনডিটিভি।
এই সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক উত্তেজনার জের ধরে আরব সাগরে নাশকতার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান— এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের নৌবাহিনী।
আরেকটি সূত্র দাবি করছে, বৃহস্পতিবার (৮ মে) পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করার পাশাপাশি রাজস্থানের জয়সলমীরে ড্রোন হামলা চালনোর পর এই উত্তেজনা শুরু হয়।
২২ এপ্রিল পাহালগামে সন্ত্রাসাী হামলার জের ধরে মঙ্গলবার ( ৬ মে) ভারতের বিমান বাহিনী পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর তরফ থেকে সংক্ষিপ্ত এই সেনা অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’।
এরপর ভারতের সার্জিকাল স্ট্রাইক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জ়োব্বে বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের জম্মুর পুঞ্চ এবং রাজৌরি এলাকায় রাতভর ড্রোন হামলা চালায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। ভারতের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জম্মু ও কাশ্মির এবং রাজস্থানের ১৫টি স্থানকে লক্ষ্য করে ড্রোন ছুড়েছে পাকিস্তান।
তবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই সব ড্রোন ধ্বংস করেছে ,এমন দাবি করেছে ভারত।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৮ মে) ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী বিএসএফ জানায়, জম্মুতে ড্রোন হামলার পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের সাম্বা সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে কয়েক শত পাকিস্তানি। সেই চেষ্টা তারা রুখে দেয়।
এছাড়া শুক্রবার ( ৯ মে) ভোরবেলা জম্মুতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। যেখানে পাকিস্তান আরএস পুরা, আরনিয়া, সাম্বা এবং হীরানগর সহ বেশ কয়েকটি স্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
ভারত দাবি করেছে, ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিহত করেছে এবং কোনও হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করেনি। এছাড়া,পাকিস্তান পাঠানকোটে গোলাবর্ষণ এবং জয়সলমীরে ড্রোন হামলার চেষ্টাও করেছে, কিন্তু ভারত ক্ষতি করার আগেই এগুলোকে সফলভাবে প্রতিহত করেছে। সূত্র :দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং এনডিটিভি
সুলতানা দিনা/