পাকিস্তান সফরের সময় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক থ্রি যুদ্ধবিমান কেনার ‘আগ্রহ’ প্রকাশ করেছেন।
গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ঠিক কী আছে এই বিমানে, যার জন্য এটিকে ঘিরে ওই আগ্রহ প্রকাশ।
বিবিসির খবর বলছে, জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক থ্রি একটি চার দশমিক পাঁচ প্রজন্মের বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যাতে অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিকলি স্ক্যানড অ্যারে রাডার এবং দূরপাল্লার বিভিআর রয়েছে।
চীনের সহায়তায় পাকিস্তান এই বিমানগুলো তৈরির ক্ষমতা অর্জন করেছে এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধবিমানটি একটি সর্বাধুনিক, হালকা ওজনের, চতুর্থ প্রজন্মের বহুমুখী বিমান, যা ২০১৯ এবং ২০২৪ সালে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে নিজ সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
পাকিস্তান এখন পর্যন্ত আজারবাইজান, মায়ানমার এবং নাইজেরিয়ার কাছে এই বিমানগুলো বিক্রি করেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে ইরাক, লিবিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে এই বিমান বিক্রির জন্য চুক্তি হয়েছে।
জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান যে শুধু পাকিস্তানে তৈরি হয়, তা নয়। এটির উৎপাদন, আপগ্রেড ও ওভারহোলিংয়ের সুবিধাগুলোও পাকিস্তানেই রয়েছে। অর্থাৎ এই বিমানের উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য অন্য কোনো দেশের প্রয়োজন নেই।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এফ-১৬ ফ্যালকনের মতোই জেডএফ থান্ডার বিমানটি একটি হালকা, সব আবহাওয়ায় ব্যবহারের মতো যুদ্ধবিমান। এটি দিয়ে প্রয়োজনের সময় স্থল ও আকাশ দুই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হবে এবং এটি এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত, যা দূর থেকে নিজ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে।
বিবিসির খবর বলছে, এর আগে জেএফ-১৭ থান্ডার একটি বিভিআর (বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ) ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি মিগকে গুলি করে ভূপাতিত করেছিল। জেএফ-১৭ থান্ডারে উন্নত রাডার রয়েছে। এ ছাড়া বিমানটি লক্ষ্যবস্তু লক করতে এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম। এর পাল্লা ৩ হাজার ৪৮২ কিলোমিটার।
জেএফ-১৭ থান্ডার স্থল আক্রমণের পাশাপাশি বিমান যুদ্ধ এবং স্থলে শত্রুর ওপর নজরদারি করতেও সক্ষম বলে জানিয়েছে বিবিসি। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, বিমানটি আকাশ থেকে ভূমি, আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাশাপাশি অন্যান্য অস্ত্রও ব্যবহার করতে সক্ষম।
এদিকে, খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতীয়রা। অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছে যে এখন ভারতকে চীন ছাড়াও দুটি ফ্রন্টে লড়াই করতে হবে। কেউ কেউ আবার এটিকে ভারতের নীতিগত ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবেও দেখছেন।
আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো এবং পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা অ্যালেক্স প্লাটাসাস বলেন, ‘মূলত বিভিন্ন দেশ পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের চেয়ে কম দাম, রাজনৈতিক নমনীয়তা এবং প্রাপ্যতার কারণে পাকিস্তান থেকে এটি কিনে থাকে। জেএফ-১৭ কেনা ও পরিচালনা করা পশ্চিমা এফ-১৬ বা গ্রিপেন মডেলের তুলনায় যথেষ্ট সস্তা, যা সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেটের বিমানবাহিনীর কাছে এটিকে আকর্ষণীয় করে তোলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব দেশ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে অথবা পশ্চিমাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন রয়েছে, তাদের জন্য জেডএফ-১৭ আধুনিক এবং কার্যকর যুদ্ধবিমান হতে পারে। সূত্র: বিবিসি