সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারে কড়া নিয়ন্ত্রণ আনতে চলেছে ভারতের বিহার সরকার। এ-সংক্রান্ত একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা সম্প্রতি বিহার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। এখন শুধু তা কার্যকর হওয়ার অপেক্ষা। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যের সব সরকারি কর্মীকেই সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। নিচু স্তরের কর্মী থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা–সবার ক্ষেত্রেই এই নিয়ম সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মী যদি ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবের মতো সামাজিকমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে চান, তা হলে আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। দপ্তরের অনুমতি ছাড়া নতুন করে কোনো সামাজিকমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে না। একই সঙ্গে ভুয়া বা বেনামে অ্যাকাউন্ট খোলার ওপরও কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, সরকারি কর্মীরা সামাজিকমাধ্যমে ব্যক্তিগত পোস্ট করতে পারলেও সেখানে নিজেদের পদমর্যাদা উল্লেখ করতে পারবেন না। অর্থাৎ তারা কোন দপ্তরে কর্মরত বা কোন পদে রয়েছেন, তা ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের সময় লেখা যাবে না। পাশাপাশি সরকারি লোগো, প্রতীক কিংবা সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো চিহ্ন ব্যক্তিগত সামাজিকমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কর্মীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, ব্যক্তিগত পোস্ট করার সময় যেন কোনোভাবেই সরকারি ই-মেল আইডি বা সরকারি ফোন নম্বর ব্যবহার না করা হয়। সামাজিকমাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিচয় এবং সরকারি পরিচয়ের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন রাখতেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই নিয়ম জারির পেছনে সরকারের যুক্তি হলো–একজন ব্যক্তি হিসেবে সরকারি কর্মীর সামাজিকমাধ্যমে মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে সেই মতামত যেন সরকারি অবস্থানের প্রতিফলন বলে ভুল ব্যাখ্যা না হয়। ব্যক্তিগত মতামত এবং একজন সরকারি কর্মী হিসেবে তার অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের দাবি, নতুন এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে সামাজিকমাধ্যমে সরকারি কর্মীদের আচরণে আরও শৃঙ্খলা আসবে। একই সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখাও সহজ হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। সূত্র: আনন্দবাজার