গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং উগান্ডায় চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই প্রাদুর্ভাবটি ইবোলা ভাইরাসের বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইন দ্বারা সৃষ্ট। যদিও এটি এখনো মহামারি পর্যায়ের জরুরি অবস্থা নয়, তবে সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ইবোলা কী?
ইবোলা একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত প্রাণঘাতী হতে পারে। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল, দূষিত বস্তু বা মৃতদেহের সংস্পর্শে ছড়ায়। এ তথ্য জানিয়েছে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন।
১৯৭৬ সালে কঙ্গোতে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর এটি দেশটির ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব।
বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইন কী?
বুন্ডিবুগিও ইবোলা ভাইরাসের একটি ধরন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর তথ্য অনুযায়ী, এর আগে মাত্র দুইবার এই স্ট্রেইনের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। এই প্রাদুর্ভাবকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলা হচ্ছে, কারণ এই স্ট্রেইনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা নেই এবং কার্যকর ভ্যাকসিন সীমিত।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর প্যানডেমিক সায়েন্সের বিশেষজ্ঞ অ্যামান্ডা রোজেক বলেছেন, এই স্ট্রেইন নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলকভাবে কম চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে।
দেশভিত্তিক পরিস্থিতি
কঙ্গোতে প্রাদুর্ভাবটি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। পূর্বাঞ্চলীয় গোমা শহরে একটি নতুন কেস শনাক্ত হয়েছে, যা এম২৩ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত।
উগান্ডায় রবিবার দ্বিতীয় একটি কেস নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ সুদানসহ সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে কাজ করছে আফ্রিকার সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান
এখন পর্যন্ত ৮টি ল্যাব-নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, পাশাপাশি ৮০টি সন্দেহভাজন মৃত্যু এবং ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
আমান