ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নান্দাইল, ১৪৪ ধারা জারি খলিলুর রহমান কীভাবে সামলাবেন দুই দায়িত্ব গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ ঘুরতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: নজরুল ইসলাম প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জি এম কাদের যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন? জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় সংসদ: স্পিকার চামড়া নৈরাজ্য অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত ৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী গাজীপুরে বাসচাপায় অটোচালকসহ নিহত ২ আছিয়া থেকে রামিসা: বিচার কোথায়? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
Nagad desktop

কেন আমাদের দুই পায়ের মাপ ভিন্ন হয়?

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:০৫ এএম
কেন আমাদের দুই পায়ের মাপ ভিন্ন হয়?
কারও পা কখনো একেবারে একই মাপের হয় না। ছবি: সংগৃহীত

আমাদের শরীরের ডান ও বাম দিক সাধারণত একে অপরের প্রতিচ্ছবি হিসেবে মনে হয়। তবে পায়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। অনেক সময় দেখা যায়, এক পা অন্য পায়ের তুলনায় বড়। এমন কেন হয়? 

নিউইয়র্ক ফুট অ্যান্ড অ্যাঙ্কেলের পডিয়াট্রিস্ট ড. কোরিন রেনে বলেন, ‘কারও পা কখনো একেবারে একই মাপের হয় না। আমাদের শরীর মোটামুটি সিমেট্রিক্যাল বা প্রতিসম, তবে পুরোপুরি প্রতিসম নয়।’

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এই বৈসাদৃশ্য মোটেও বিরল নয়। ১৯৮৩ সালে ৪ হাজার নারী ও ২ হাজার ৮০০ পুরুষের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, কারও পায়ের মাপ বা আকৃতি হুবহু এক নয়। ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যের সাতরা (SATRA) বুলেটিন নামক প্রকাশনায় প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় ২ হাজার ৮৯০ জনের পায়ের মাপ বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, ১৯ শতাংশ মানুষের পায়ের দৈর্ঘ্যে প্রায় ৪ মিলিমিটার বা তার বেশি পার্থক্য রয়েছে। এটি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মাপ অনুযায়ী প্রায় অর্ধেক জুতার সাইজ।

গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। চীনে কমপক্ষে ২৪ শতাংশ মানুষের মধ্যে পায়ের দৈর্ঘ্যে ৪ মিলিমিটারের বেশি পার্থক্য রয়েছে। এই বৈসাদৃশ্য স্বাভাবিক হলেও এটি কেন হয়? জানতে হলে শারীরবৃত্তীয় কারণগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে।
ডান পা বড় নাকি বাঁ পা? 

পায়ের আকারের পার্থক্য নিয়ে গবেষকদের মধ্যে স্পষ্ট কোনো ঐকমত্য নেই। কিছু গবেষণা বাম পা বড় হওয়ার কথা বললেও অন্য গবেষণাগুলোতে ডান পা বড় হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আবার কোনো কোনো গবেষণা অনুযায়ী, দুই পায়ের মধ্যে যেকোনোটির বড় হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর লিবার্টি টাউনশিপে সেন্টার ফর ফুট কেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের বাঁ পা ডান পায়ের চেয়ে বড় হয়। লন্ডনের সিটি করাপোডি অ্যান্ড পডিয়াট্রিও একই মত পোষণ করে। তাদের তথ্যমতে, বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ ডানহাতি হওয়ার কারণে শরীরের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বাঁ পা বেশি ব্যবহৃত হয়। ফলে বাঁ পা সামান্য বড় হয়ে যায়।

১৯৮৩ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সাধারণত ধরে নেওয়া হয় বাঁ পা ডান পায়ের চেয়ে বড় হয়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, একজন ব্যক্তির ডান বা বাঁ পা বড় হওয়ার সম্ভাবনা সমান। অন্যদিকে ২০১৮ সালের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ নারী ও ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ পুরুষের ডান পা বাঁ পায়ের চেয়ে লম্বা হয়।

মানবদেহে কিছু অপ্রতিসাম্যতা স্বাভাবিক ভিন্নতার কারণে হয়ে থাকে। ড. কোরিন রেনের মতে, ‘আমাদের হাত পুরোপুরি প্রতিসম নয়, আমাদের চোখও নয়। একইভাবে পায়ের মাপেও পার্থক্য দেখা যায়।’ পায়ের মাপের এই ভিন্নতা যেমন স্বাভাবিক, তেমনি এর পেছনে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু শারীরিক কার্যকলাপও ভূমিকা রাখে।

পায়ের মাপের পার্থক্যের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। শারীরিক গঠন থেকে শুরু করে জীবনের বিশেষ সময়ে শরীরে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন সবকিছু এর জন্য দায়ী।

নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার সময় বা পরবর্তী সময়ে পায়ের মাপে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। রেনের মতে, ‘গর্ভাবস্থায় লিগামেন্ট ল্যাক্সিটির কারণে শরীরের জয়েন্টগুলো বেশি নমনীয় হয়ে যায়। এতে পায়ের মাপে ভিন্নতা আসতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি শরীরের একদিকে বেশি ভর দেন, তখন এক পা বড় হতে পারে। এই পরিবর্তন অনেক সময় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, আবার অনেক সময় তা স্থায়ী হয়ে যায়।’

কিছু জন্মগত অবস্থাও পায়ের মাপ ভিন্ন হওয়ার কারণ হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. জ্যাকব উইনেস জানান, ‘যদি কেউ ক্লাব ফুট নিয়ে জন্মান, তবে সেই পুরো অঙ্গটি অন্য পাশের তুলনায় ছোট হতে পারে।’ 

উইনেস উল্লেখ করেন, ব্র্যাকাইমেটাটারসিয়া ও ব্র্যাকাইমেটাপডি হলো এমন অবস্থা, যেখানে একটি পায়ের একটি বা একাধিক আঙুল ছোট হতে পারে। আবার ডিজিটাল হাইপোপ্লাসিয়ার মতো অবস্থায় আঙুল অপরিপূর্ণ বা কম বিকশিত থাকতে পারে। 

এসব কারণেই আমাদের পায়ের মাপে পার্থক্য থাকে। এটি শারীরিক বৈচিত্র্যের একটি স্বাভাবিক অংশ, যা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে তেমন কোনো বড় সমস্যার কারণ হয় না। তবে যদি এই পার্থক্য অস্বাভাবিকভাবে বেশি হয়, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। 

শৈশবে আঘাতজনিত কারণে পায়ের মাপ ভিন্ন হতে পারে, বিশেষ করে যখন হাড়ের বৃদ্ধি চলমান থাকে। সেন্টার ফর ফুট কেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে প্লাস্টার পরলে পায়ের পেশি দুর্বল হয়ে ছোট হয়ে যেতে পারে। লন্ডনের সিটি করাপোডি অ্যান্ড পডিয়াট্রি জানিয়েছে, এক পা অধিক ব্যবহার করাও পায়ের গঠনে পার্থক্য আনতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যালে নৃত্যশিল্পীরা এক পায়ের মাংসপেশি বেশি ব্যবহার করেন। এতে পায়ের পেশিগুলো মোটা হয়ে যেতে পারে। ফলে পায়ের গঠন পরিবর্তিত হতে পারে।

ড. জ্যাকব উইনেস বলেন, ‘যদি এটি দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে বা অসহনীয় ব্যথার কারণ হয়, তবে সার্জারি করা হতে পারে। হাড় কাটার মতো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যথাক্রমে হাড় লম্বা বা খাটো করা যায়। সাধারণত ২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পরিবর্তন সহনীয় হয়।’

সাধারণত পায়ের মাপের এই পার্থক্য তেমন বড় সমস্যা নয়। তবে জুতা কেনার সময় কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বড় পায়ের মাপে জুতা কিনে ছোট পায়ের জন্য পডিয়াট্রিস্ট বা অর্থোটিস্টদের তৈরি কাস্টম ফিলার ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ফিলারগুলো জুতার আকার ঠিক করতে সাহায্য করে। 

অন্য একটি সমাধান হলো দুই ভিন্ন মাপের জুতা কেনা। বিশেষ দোকানগুলোতে আলাদা আলাদা মাপের জুতা কিনতে পাওয়া যায়। এটি পায়ের আরাম নিশ্চিত করে।

পায়ের মাপের পার্থক্য সাধারণত অস্বাভাবিক নয় এবং এটি ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব। সঠিক যত্ন ও চিকিৎসকের পরামর্শের মাধ্যমে এটি দৈনন্দিন জীবনে খুব বেশি প্রভাব ফেলে না।

থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল
থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো। চার দিনের এই আয়োজন যৌথভাবে আয়োজন করেছে থিয়েনচিন ও ছোংছিং প্রশাসন। স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি খাতে ক্ষেত্রে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এই প্রদর্শনী।

 

 

এবারের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে ছিল ছয়টি থিমভিত্তিক অঞ্চল—যার মধ্যে ছিল কোর এআই প্রযুক্তি, এমবডিড ইন্টেলিজেন্স ও স্মার্ট লিভিং। পাশাপাশি ছিল একটি নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা অর্জনের অঞ্চল, যেখানে স্মার্ট প্রযুক্তির সবচেয়ে সর্বাধুনিক উদ্ভাবন ও পণ্য প্রদর্শিত হয়েছে।
থিয়েনচিন মিউনিসিপ্যাল ব্যুরোর শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি গবেষণা অফিসের পরিচালক শেন মামাও জানালেন, ‘এই বছরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি একই সঙ্গে পেশাদার ও সর্বজনীন। একজন পেশাদার ক্রেতা কিংবা একজন বিজ্ঞানী—উভয়েই এখানে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি খুঁজে পাবেন।’
এক্সপোয় অংশ নিয়েছিল ফরচুন গ্লোবাল-৫০০ কোম্পানির ২৮টি প্রতিষ্ঠান, ৩৭টি চীনের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠান এবং ৪০০টিরও বেশি স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি।
এবারের আয়োজনে আরও ছিল এআই থিম ডে, এন্টারপ্রাইজ ইকোলজি কনফারেন্স, বাজারভিত্তিক ফোরাম, ব্র্যান্ড প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ প্রচার এবং চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। এক্সপো চলাকালে থিয়েনচিনে ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
কাঠামোনির্ভর বুদ্ধিমত্তা বা এমবডিড এআই, মূল এআই প্রযুক্তি, বুদ্ধিমান সংযুক্ত যানবাহন, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক মহাকাশ অনুসন্ধান, ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং স্মার্ট লিভিং-এর জন্য ছয়টি বিশেষ জোন ছিল প্রদর্শনীতে।

 

 

নজর কেড়েছে এমন কিছু রোবট, যেগুলো কফি তৈরি, সকালের নাস্তা বানানো, রান্না করা ও ক্লাসিক্যাল চীনা বোর্ড গেম ‘গো’ খেলতে পারে। এমনকি বক্সিং করতে সক্ষম রোবটও ছিল এতে। আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিঁড়ি বেয়ে উঠতে সক্ষম একটি হুইলচেয়ার।
স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি এবং ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনালের মতো ক্ষেত্রগুলোর উদ্ভাবনী সাফল্যও তুলে ধরা হয়।
প্রদর্শনী এলাকায় ছিল বেশ কয়েকটি ব্রেইন-কম্পিউটার-ইন্টারফেস (বিসিআই) পণ্য। এগুলোয় ছিল স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, চোখ পরীক্ষা, খেলাধুলায় সহায়তা এবং পুনর্বাসন প্রশিক্ষণের সুবিধা।

 

 

হাইহ্য ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন গবেষণাগার ও মানব-যন্ত্র সমন্বিতকরণ বিভাগের উপ-পরিচালক লিউ সিয়ুইয়ুন জানালেন, ‘মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস একটি বহুশাস্ত্রীয় গবেষণার ক্ষেত্র। আমাদের বিভিন্ন শাখার বিজ্ঞানীদের একত্রিত হয়ে মতামত বিনিময় করে নতুন ধারণা তৈরি করতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
মস্তিষ্কের প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা জানতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের এক ছাদের নিচে এনেছে এই এক্সপো।

সূত্র: সিএমজি

মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের
দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে।

বিশ্ব সৌরশক্তি খাতে নিজেদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে চীনের শীর্ষস্থানীয় ফোটোভোল্টাইক কোম্পানিগুলো এখন মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তিতে নজর দিচ্ছে। মঙ্গলবার শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক ফোটোভোল্টাইক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও স্মার্ট এনার্জি সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৩টি শীর্ষ সৌর ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে স্পেস এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যালায়েন্স গঠন করা হয়।
জোটটির লক্ষ্য সৌরবিদ্যুৎ, শক্তি সঞ্চয়, হাইড্রোজেন শক্তি, কম্পিউটিং এবং চার্জিং প্রযুক্তিকে একত্রিত করে মহাকাশ শিল্প ও সবুজ জ্বালানি খাতের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও দিন-রাতের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই মহাকাশে সৌরশক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব। একই সঙ্গে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির উন্নতির কারণে উৎক্ষেপণ ব্যয়ও কমছে, যা মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত করে তুলছে।
বিকিরণ-প্রতিরোধী প্রযুক্তির পরীক্ষাগুলো সফল হলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মহাকাশে সৌরবিদ্যুতের বাস্তব প্রয়োগ শুরু হতে পারে বলে জানান তারা।
দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বা গ্রিডের প্রয়োজন কমে যাবে এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।

সূত্র: সিএমজি

ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার
ছবি চায়না ডেইলি

চীনের বিজ্ঞানীরা ভুট্টায় প্রোটিন উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন শনাক্ত করেছেন। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার ভুট্টার পুষ্টিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং পশুখাদ্যের জন্য আমদানিকৃত সয়াবিনের ওপর চীনের নির্ভরতাও কমাবে।
চীনের বিজ্ঞান একাডেমির সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন মলিকুলার প্ল্যান্ট সায়েন্সেস, শাংহাইয়ের নরমাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিছুয়ান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা দলের ১৫ বছরের গবেষণার ফলাফল বুধবার বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন আবিষ্কৃত টিএইচপি৩-টি নামের জিনটি ২০২২ সালে আবিষ্কৃত টিএইচি৯-টি নামের আরেকটি জিনের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করলে সাধারণ ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। একই সঙ্গে চীনে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া বাণিজ্যিক হাইব্রিড ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১২–১৩ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
গবেষক উ ইয়োংরুই জানান, টিএইচপি৩-টি জিনটি নাইট্রোজেন বিপাক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি উদ্ভিদকে আরও দক্ষতার সঙ্গে নাইট্রোজেন গ্রহণ ও ব্যবহার করতে সাহায্য করে, ফলে বেশি অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রোটিন উৎপাদন সম্ভব হয়।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই দুই জিন একসঙ্গে কাজ করলে ভুট্টা কম নাইট্রোজেনযুক্ত মাটিতেও উচ্চ প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে। এতে রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজনও কমবে।
বর্তমানে চীনে পশুখাদ্যে ব্যবহৃত প্রোটিনের প্রধান উৎস সয়াবিন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই চীন আমদানি করে। 
বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, যদি সারা দেশে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ গড়ে ৪ শতাংশ বাড়ানো যায়, তাহলে বছরে প্রায় ৩ কোটি টন সয়াবিন আমদানির প্রয়োজন কমে যেতে পারে।
গবেষকদের মতে, উচ্চ প্রোটিন ভুট্টা পশুখাদ্যে ব্যবহৃত সয়াবিন মিলের ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করতে পারবে। হাঁস-মুরগির খামারেও সয়াবিনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

সূত্র: চায়না ডেইলি

এআই-চালিত বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানাল চীন

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
এআই-চালিত বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানাল চীন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ

বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ (টিইএম) সিস্টেম তৈরি করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। সিস্টেমটি যৌথভাবে তৈরি করেছে তালিয়ান রাসায়নিক পদার্থবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও শেনইয়াং ইনস্টিটিউট অব অটোমেশন।
সম্প্রতি বেইজিংয়ে চায়না পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি ফেডারেশন পরিচালিত প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয় অণুবীক্ষণ যন্ত্রটি। বিশেষজ্ঞরা একে বিশ্বের প্রথম এআই-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ সিস্টেম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
এ আবিষ্কারের জন্য গবেষকদের পাঁচটি মূল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হয়েছিল—উচ্চ-বায়ুশূন্য পরিবেশে নমুনা স্থানান্তর, স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রন অপটিক্স সমন্বয়, ন্যানোস্তরে নির্ভুল অবস্থান নির্ধারণ, স্বয়ংক্রিয় চিত্র গ্রহণ ও বিশ্লেষণ এবং বুদ্ধিমান সময়সূচি ব্যবস্থাপনা।
গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক তং তেহুই জানান, এআই-১ নমুনা সরবরাহ, চিত্র গ্রহণ এবং তথ্য বিশ্লেষণের পুরো প্রক্রিয়া মানবহীনভাবে পরিচালনা করতে পারে। এর চিত্র বিশ্লেষণ ক্ষমতা মানুষের তুলনায় ৩০০ গুণেরও বেশি দ্রুত।
পরীক্ষামূলক ব্যবহারে দেখা গেছে, এআই-১ প্রতিদিন গড়ে ১৬৮টি নমুনা বিশ্লেষণ এবং চার হাজারের বেশি ছবি সংগ্রহ করতে সক্ষম। মাত্র দুই সপ্তাহে এটি যে পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, তা প্রচলিত ব্যবস্থার এক বছরের কাজের সমতুল্য।
নতুন এই প্রযুক্তি জিনোমিক্স, সবুজ জ্বালানি ও জীবনবিজ্ঞান গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।

সূত্র: সিএমজি

ক্যাথি টাইয়ের বিতর্কিত মিশন ভ্রূণের জিন পরিবর্তনের মাধ্যমে মানব বিবর্তন বদলানোর দাবি

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
আপডেট: ৩০ মে ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
ভ্রূণের জিন পরিবর্তনের মাধ্যমে মানব বিবর্তন বদলানোর দাবি
ক্যাথি টাই। ছবি: সংগৃহীত

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের এক শুক্রবারের সন্ধ্যা। নিউ ইয়র্ক সিটির বিখ্যাত কার্নেগি হলের মঞ্চে পিয়ানো বাজাচ্ছেন ‘বায়োটেক বার্বি’ নামে পরিচিত কানাডিয়ান উদ্যোক্তা ক্যাথি টাই। ঝলমলে গাউন পরিহিত ক্যাথির আঙুলগুলো পিয়ানোর কি-বোর্ডে দ্রুত নড়াচড়া করছিল। কিন্তু তার মুখে কোনো আবেগের প্রকাশ ছিল না, চোখ দুটো ছিল কেবল নোটবুকের পাতায়।

উপস্থাপনা শেষ হতেই পুরো মিলনায়তন জুড়ে করতালি আর জন্মদিনের শুভেচ্ছার গান ভেসে আসে। তবে জমকালো এই আয়োজনে উপস্থিত অধিকাংশ অতিথিই তাকে ভালো করে চেনেন না। আয়োজনটি ছিল ক্যাথি টাইয়ের ৩০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠান। কিন্তু এই আয়োজনের আড়ালে রয়েছে এক বিতর্কিত বৈজ্ঞানিক মিশন—মানব ভ্রূণের জিন পরিবর্তন করে রোগমুক্ত শিশু তৈরি।

ক্যাথি টাই সব সময়ই বড় কোনো প্রভাব তৈরি করতে পছন্দ করেন, তবে তাকে সহজে ধরাছোঁয়া যায় না। ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি তিনটি আলাদা বায়োটেক কোম্পানি চালু করেছেন এবং লস অ্যাঞ্জেলেস, টরন্টো ও নিউ ইয়র্কের মতো তিনটি ভিন্ন শহরে থেকেছেন। কিছুদিন আগে তিনি বিশ্বখ্যাত চীনা বিজ্ঞানী হে জিয়ানকুইকে বিয়ে করেন, যিনি বিশ্বের প্রথম জিন-পরিবর্তিত শিশু জন্ম দিয়ে তিন বছর জেল খেটেছেন। বিয়ের মাত্র তিন মাস পর তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

এরপর গত গ্রীষ্মে মাত্র একটি স্যুটকেস আর পোষা কুকুর নিয়ে ক্যাথি নিউ ইয়র্কে আসেন এবং নিজের নতুন স্টার্টআপ শুরুর ঘোষণা দেন। তার উদ্দেশ্য হলো মানুষের ভ্রূণের জিন পরিবর্তন করে সিস্টিক ফাইব্রোসিস, হান্টিংটন এবং বংশগত ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ করা। তবে তার প্রাক্তন স্বামীর মতো গোপনে নয়, বরং তিনি সরকারি অনুমোদন নিয়ে সম্পূর্ণ প্রকাশ্যেই এই কাজ করতে চান। এবং এর পেছনে রয়েছে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের বিপুল বিনিয়োগ।

মানব বিবর্তনের নতুন মোড়

২০১২ সালে ক্রিসপার প্রযুক্তি আবিষ্কারের পর থেকে মানুষের জিন পরিবর্তন বা মুছে ফেলার প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু মানব প্রজনন কোষের এই জিনগত পরিবর্তন পরবর্তী প্রতিটি প্রজন্মের মধ্যে স্থানান্তরিত হবে। বায়োটেকনোলজির ইতিহাসে এটি মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির বিষয়। আর এ কারণেই যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে প্রজননের উদ্দেশ্যে মানব ভ্রূণের জিন পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ক্যাথি টাই বলেন, "এটি আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি। কারণ এটি আমাদের নিজেদের প্রজাতিকে পরিবর্তনের ক্ষমতা দেয়।" তবে এই গবেষণার জন্য কোনো সরকারি তহবিল পাওয়া যায় না। পুরো বিষয়টি বেসরকারি এবং ধনকুবেরদের বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল। ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান এবং কয়েনবেসের সিইও ব্রায়ান আর্মস্ট্রংয়ের মতো বিশ্বের ধনী ব্যক্তিরা এখন এই খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই ভ্রূণ স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ‘সেরা শিশু’ বেছে নেওয়ার প্রযুক্তি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার নিয়মিত অংশ হয়ে উঠেছে। পাতাল রেলেও বিজ্ঞাপন দিয়ে লম্বা, বুদ্ধিমান ও সুস্থ শিশু বেছে নেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। ক্যাথি টাই মনে করেন, বিজ্ঞানীদের কাজ হলো এই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ামক সংস্থাগুলোর সামনে তুলে ধরা, যেন তারা কঠোর নিয়ম কিছুটা শিথিল করেন।

চীন ও রাশিয়ার প্রতিযোগিতা

চীন ইতোমধ্যেই জিন প্রযুক্তির ক্ষমতা বিশ্বকে দেখিয়েছে। ২০১৮ সালে বিজ্ঞানী হে জিয়ানকুই যমজ দুই শিশু লুলু এবং নানার ভ্রূণের জিন পরিবর্তন করে তাদের জন্ম দেন। তার দাবি ছিল, এই শিশুরা যেন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়। তবে এই বিতর্কিত পরীক্ষার জন্য তাকে বড় অঙ্কের জরিমানা ও কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।

কারাগার থেকে মুক্তির পর তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, ভবিষ্যতে মানুষের বুদ্ধিমত্তা বা সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ‘ডিজাইনার বেবি’ তৈরি করা অনিবার্য। এর পরপরই চীন সরকার বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণের জন্য নতুন খসড়া নীতিমালা ঘোষণা করে। এর জবাবে ক্যাথি টাই এক পোস্টে লেখেন, "জৈবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ভোরে আপনাকে স্বাগতম।" ভূ-রাজনৈতিক এই গুরুত্বের কারণেই তিনি তার প্রথম জিন-এডিটিং কোম্পানির নাম রেখেছিলেন পরমাণু বোমার প্রকল্পের নামানুসারে—‘ম্যানহাটন প্রজেক্ট’।

ক্যাথি টাইয়ের বর্তমান স্টার্টআপ ‘অরিজিন জেনোমিক্স’ মূলত একক জিনের মিউটেশনের কারণে হওয়া মারাত্মক রোগগুলো প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আমেরিকার আইন অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের ল্যাবের কোনো ভ্রূণই জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয় না বা ১৪ দিনের বেশি বড় হতে দেওয়া হয় না।

অনেকে মনে করেন, জিন থেরাপির মাধ্যমে শিশুর জন্মের পরও এই চিকিৎসা করা সম্ভব, যার জন্য বংশগত পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয় না। তবে ক্যাথি এই যুক্তির সাথে একমত নন। তার মতে, ভ্রূণ ফেলে দেওয়ার চেয়ে তার ভেতরের ছোট সমস্যাটি সংশোধন করে নেওয়া নৈতিকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য।

উচ্চ মূল্য ও বৈষম্যের ঝুঁকি

এই প্রযুক্তির ব্যয় কত হবে—জানতে চাইলে ক্যাথি নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানাতে পারেননি। তবে প্রারম্ভিক পর্যায়ে এই ব্যয়বহুল প্রযুক্তি কেবল ধনীদের নাগালের মধ্যেই থাকবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে একটি বড় বৈষম্য তৈরি করতে পারে।

ক্যাথি টাইয়ের অতীত উদ্যোগগুলোও বেশ বিতর্কিত। এর আগে লস এঞ্জেলেসের একটি স্টার্টআপে খরগোশ বা বিড়ালের মতো প্রাণীদের জিন পরিবর্তন করে অন্ধকারে আলো জ্বলা খরগোশ, অ্যালার্জি-মুক্ত বিড়াল বা ড্রাগন তৈরি করার বাণিজ্যিক চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তিনি ইউনিকর্ন বা কাল্পনিক ঘোড়া তৈরিতেও আগ্রহী ছিলেন।

ক্যাথি টাই ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং মাত্র ১৬ বছর বয়সে তার প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। স্কুলে বিজ্ঞান মেলা থেকে তিনি হাজার হাজার ডলার বৃত্তি পেতেন। ক্লাসে অনুপস্থিত থাকার জন্য শিক্ষিকা বকা দিলে তিনি উল্টো শিক্ষিকাকে চ্যালেঞ্জ করে বসেছিলেন তার কোনো প্রকাশিত পেপার আছে কিনা তা দেখার জন্য। ১৮ বছর বয়সে তিনি থিয়েল ফেলোশিপের এক লাখ ডলার অনুদান পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে সরাসরি সিলিকন ভ্যালিতে ব্যবসায় নামেন। ২০১৮ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের অনূর্ধ্ব-৩০ তালিকায় তার নাম আসে।

হে জিয়ানকুইয়ের সাথে সম্পর্ক ও চীন বিতর্ক

ক্যাথির জীবনে সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায় হলো বিজ্ঞানী হে জিয়ানকুইয়ের সাথে সম্পর্ক। ২০২৫ সালের শুরুতে বেইজিংয়ে তাদের প্রেম ও বিয়ে হয়। তাদের বিয়ের আংটি দুটি ছিল ডিএনএ ডাবল হেলিক্সের আদলে তৈরি। জিয়ানকুইকে তিনি একজন সাহসী ‘ধর্মদ্রোহী’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যিনি সমাজচ্যুত হওয়ার পরও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন।

তবে বিয়ের মাত্র তিন মাস পরই তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। ক্যাথি যখন বেইজিংয়ে তার স্বামীর সাথে নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছিলেন, তখন মাঝপথে ম্যানিলাতে তাকে আটকে দেওয়া হয় এবং চীনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কেন চীন সরকার তাকে নিষিদ্ধ করেছিল, তা এখনও রহস্য। এই সংকটের সময় তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন এবং একটি মেম কয়েনও চালু করা হয়েছিল, যেখানে তাঁদের দুজনের ছবি ব্যবহার করা হয়। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্যাথি অস্বস্তিতে পড়েন এবং কথা এড়িয়ে যান।

ইউটোপিয়া বনাম ইউজেনিক্স বিতর্ক

সম্প্রতি ম্যানহাটনে বায়োথিসিস্ট অধ্যাপক আই গ্লেন কোহেনের সাথে এক উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নেন ক্যাথি। সেখানে অধ্যাপক কোহেন সতর্ক করে বলেন, এই প্রযুক্তি মানব প্রজন্মের সম্মতি ছাড়াই তাদের ওপর ঝুঁকি চাপিয়ে দিচ্ছে, যা ‘ইউজেনিক্স’ বা সুপ্রজননবিদ্যার মতো সংবেদনশীল বিতর্ককে সামনে নিয়ে আসে।

জবাবে ক্যাথি বলেন, "ইউজেনিক্স একটি খুব ভারী শব্দ। আমি এই শব্দটির যত্রতত্র ব্যবহার বন্ধ করতে চাই।"

বিতর্ক শেষে ক্যাথি দাবি করেন, মানুষের মনোভাব দ্রুত পাল্টাচ্ছে এবং এই প্রযুক্তি একদিন বৈধতা পাবেই। তবে ম্যানহাটন প্রজেক্ট বা হে জিয়ানকুইয়ের মতো বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর ছায়া থেকে তিনি নিজেকে কতটা মুক্ত করতে পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান